দূরবর্তী ওয়ার্ডগুলোতে চরম বৈষম্য দেখা যাচ্ছে-নাছির

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১০ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ০৫:৫৫ অপরাহ্ণ

নাছিরনাছিরচট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সারাদিন দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড, চান্দগাঁও ও মোহরা ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। গণসংযোগকালে তিনি বলেন, ‘নগর কেন্দ্রের বাইরে একটু দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত ওয়ার্ডগুলোর প্রতি উন্নয়নের দিক থেকে চরম বৈষম্য দেখা যাচ্ছে, এসব এলাকার পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হয়েও এসব ওয়ার্ডের নাগরিক সুযোগ-সুবিধার কিছুই নেই। গত ৫ বছরে এখানে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার। আমি আপনাদের সন্তান হিসেবে প্রান্তিক এলাকাগুলোতেই আগে ছুটে এসেছি, আপনাদের অবস্থা দেখতে। আল্লাহর রহমতে, আপনাদের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হলে আমি এসব এলাকায় সমন্বিত উন্নয়নের উদ্যোগ নেব।’ এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসী আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীনকে স্বাগত জানান এবং তাদের অভাব অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি এসব সমস্যার কথা ‘নোট’ করে নিয়েছেন জানিয়ে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন তিনি মেয়র নির্বাচিত তা দ্রুত সমাধান করা হবে। গণসংযোগকালে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে তিনি সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর মুসলিম হলে প্রতীক বরাদ্দ নেওয়ার জন্য যান। সেখানে আ জ ম নাছির উদ্দীনের পছন্দের ‘হাতী’ প্রতীক নিয়ে লটারি হয়। লটারিতে বিজয়ী হয়ে আ জ ম নাছির উদ্দীন তার কাক্সিক্ষত হাতী প্রতীক পান।
সকাল দশটায় তিনি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ক্যাডেট কোচিং ও চট্টগ্রাম ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত টেলেন্টপুলে বৃত্তিপ্রপ্ত ও ক্যাডেটে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। সেখানে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতির কা-ারি। এ জন্য তোমাদের ভালোভাবে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের মা-বাবার কথা মেনে চলা এবং মুরুব্বীদের সম্মান করে চলার পরামর্শ দেন।
এরপর বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার মোমিন রোডের বাসায় গিয়ে বিপ্লবীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি দেন আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন।
সেখান থেকে দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডের মুনিরনগর, ভেল্লা চৌধুরী পাড়া এলাকায় গণসংযোগ করেন। হালিশহরে আলহাজ্ব জালাল উদ্দিন হুজুর ওরফে ‘হালিশহর হুজুরের’ মাজার জেয়ারত করেন। গণসংযোগকালে মুনিরনগরে সাবেক কাউন্সিলর জাকারিয়ার বাড়িতে যান আ জ ম নাছির উদ্দীন। এ সময় বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী আ জ ম নাছির উদ্দীনের পাশে এসে তাদের অভাব-অভিযোগ জানান। হালিশহরে গণসংযোগকালে আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পংকজ দেবনাথ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহেল রানা মিঠু, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এইচএম জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন আহমদ, মো. হেলাল উদ্দিন, মেজবাহ উদ্দিন মোরশেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
দুপুর সাড়ে ১২টায় আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তিনি এলাকাবাসী সাথে গণসংযোগ করেন, তিনি মুরুব্বীদের দোয়া ও ভোট কামনা করেন।
জুমার নামাজের পর মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দনী চান্দগাঁও আবাসিক এরাকা, মোহরা ওয়ার্ডের মৌলভী পুকুর পাড়, কাপ্তাই রাস্তার মাথা এবং পরে বিসিক শিল্প এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি বলেন, একটি সম্পদশীল নগর হিসেবে যে পরিমাণ উন্নয়ন হওয়ার কথা তা এখানে হয়নি। শিল্প এলাকাগুলোও উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। আমি এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে চাই, আমি চাই উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আধুনিক ও মানসম্মত শহর করতে। আপনারা আমাকে একবার সুযোগ দিন, আমাকে একবার ভোট দিয়ে দেখুন, আমি উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামের চেহারাকে পরিবর্তন করে দেব।
এসব এলাকায় গণসংযোগকালে আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মইনুদ্দীন খান বাদল, নজিবুল বশর মাইজভা-ারী, শ্রমিক লীগ নেতা শফর আলী, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ ইছা, নুরুল হুদা লালু, রেজাউল হায়দার মিঠু, আলী আকরব প্রমুখ নেতৃবন্দ।
বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে তিনি সল্টগোলা এলকায় গণসংযোগ করেন। সেখানে তিনি হযরত আলী শাহ (রা.) মাজার জেয়ারত করেন। সেখানে বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী আ জ ম নাছির উদ্দীনকে স্বাগত জানান।
পরে তিনি বিকাল সাড়ে ৫টায় পতেঙ্গার মাইজপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করেন।