দুর্ঘটনাস্থলে এখনো গ্যাসের কিছুটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে

প্রকাশ:| বুধবার, ২৪ আগস্ট , ২০১৬ সময় ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, দুর্ঘটনাস্থলে এখনো গ্যাসের কিছুটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বুধবার ( ২৪ আগস্ট) বিকেলে আনোয়ারা উপজেলার কর্ণফুলী থানার রাঙাদিয়ার দুর্ঘটনাকবলিত ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

সোমবার রাতে ডাই অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) প্ল্যান্টের ৫০০ টনের অ্যামোনিয়া রিজার্ভ ট্যাংকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ট্যাংকটি উড়ে গিয়ে ৫০ ফুট দূরে আছড়ে পড়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়। এরপর আশপাশ ছাড়িয়ে কর্ণফুলী নদীর উত্তর পাড়ে বিমানবন্দর, কাঠগড়, ইপিজেড, হালিশহর, আগ্রাবাদ এলাকায় অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে বিপুলসংখ্যক মানুষ শ্বাসকষ্টে ভোগেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে শ্রমিক, আনসার, কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজন মিলে অর্ধশতাধিক মানুষকে ভর্তি করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে।

মন্ত্রী বলেন, ঘটনা তদন্তে ১০ সদস্যের কমিটি করেছে বিসিআইসি। আশাকরি, দু-এক দিনের মধ্যে কমিটি রিপোর্ট দেবে। কেন দুর্ঘটনা ঘটেছে জানতে পারব। জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের পৃথক একটি কমিটি করেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনায় আমরা অত্যন্ত দুঃখিত ও মর্মাহত। প্রধানমন্ত্রীকে দুর্ঘটনার বিষয়টি অবহিত করেছি।

দুর্ঘটনার পর প্রকৃত অবস্থা দেখতেই কারখানা পরিদর্শনে এসেছেন জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, কারও গাফিলতির প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হবে।

মন্ত্রী সন্ধ্যায় চমেক হাসপাতালে গ্যাসের কারণে অসুস্থ হওয়া রোগীদের দেখতে যান। এ সময় ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. ইকবাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ডিএপি সার কারখানায় যে দুর্ঘটনা ঘটেছে তাতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আল্লাহর রহমতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। পরিবেশের ক্ষতি মোকাবেলায় সরকারের সদিচ্ছা আছে। শিল্পমন্ত্রী পরিদর্শনে এসেছেন। সঙ্গে আমিও এসেছি। এখানে মাছ চাষের ঘোনাগুলোর ক্ষতি হয়েছে। তারা দুঃখী মানুষ। তাদের পাশে কর্তৃৃপক্ষকে অবশ্যই দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, এটি একটি এক্সিডেন্ট। কিন্তু কেন ঘটেছে সত্যিটা বের করতে তদন্ত চলছে। যদি হিউম্যান এরর হয় তবে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।

মন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের মূল ফটকে নিরাপত্তা কর্মকর্তা, পুলিশ ও আনসারের বাধা উপেক্ষা করে শত শত কৌতূহলী মানুষ ঢুকে পড়ে। তারা দুর্ঘটনাকবলিত ট্যাংকটির কাছাকাছি চলে যায় কোনো রকম অ্যামোনিয়া গ্যাস প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ছাড়াই। এর ফলে সাংবাদিকদের মন্ত্রীর পরিদর্শনের চিত্রধারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অবশ্য এর আগে সাংবাদিকদের ডিএপি প্ল্যান্টে প্রবেশে বিসিআইসি চেয়ারম্যানের নিষেধাজ্ঞা আছে বলে জানানো হয়েছিল। প্রেস বিফ্রিংয়ের সময় রেস্ট হাউসে দলীয় নেতাকর্মীদের চাপে খোদ ডিএপির কর্মকর্তারা ঢুকতে পারেননি।

সোমবার (২২ আগস্ট) রাতে ডিএপি কারখানার অ্যামোনিয়া ট্যাংকে লিকেজ হয়। এরপর অর্ধশতাধিক মানুষ শ্বাসকষ্ট নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট পানি ছিটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কারখানার আশপাশের বিশাল বিশাল পুকুর, ঘোনায় অ্যামোনিয়া গ্যাসের প্রভাবে চাষের মাছ মরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে এখনো দুর্ঘটনাস্থলে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছেন না কর্মকর্তা ও শ্রমিকরা।


আরোও সংবাদ