দু’মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীতে যানজট লাগভ হবে

প্রকাশ:| রবিবার, ১৫ জুন , ২০১৪ সময় ১১:১২ অপরাহ্ণ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
ক্যাব চট্টগ্রাম প্রতিনিধি দলের সাথে মতবিনিময়ে ডিসি ট্রাফিক

Screenshot_22চট্টগ্রাম মহানগরীতে আগামী দু’মাসের মধ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন আনা হবে। ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনে মুরাদপুর, ২নং গেট ও জিইসি মোড়ে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যার সুফল জনগন ইতিমধ্যেই পেতে শুরু করেছে। এ কর্মসুচির আওতায় নগরী ১৪টি রোড়ে চলাচালকারী বাসগুলির গন্তব্যস্থল পুনরায় ঢেলে সাজানো হচ্ছে। গণপরিবহনের অন্যান্য যানবাহন বিশেষ করে টেম্পোগুলির গন্তব্যও পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী পবিত্র রমজান উপলক্ষে আরো কিছু উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে এবং রমজান পরবর্তী ঈদ পরবর্তী সময়ে আরো কিছু উদ্যোগের সফুল জনগন পাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ- পুলিশ কমিশনার(ট্রাফিক) মোঃ ফারুক আহমদ। ১৫ জুন সদরঘাটস্থ সিএমপি ট্রাফিক কার্যালয়ে দেশের দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষনকারী প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও মহানগর কমিটির সাথে আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষে নগরীর যানজট সমস্যা নিরসনে মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইনের নেতৃত্বে ক্যাব প্রতিনিধি দলে ছিলেন দৈনিক বনিক বার্তার ব্যুরো প্রধান আলী হায়দার, ক্যাব উপদেষ্ঠা ফজল গনি মাহমুদ, ক্যাব বিভাগীয় সহ-সভাপতি ও শিক্ষক নেতা আবদুল ওয়াহাব চৌধুরী, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সহ-সভানেত্রী আবিদা আজাদ, ক্যাব চান্দগাঁও থানা সভাপতি জানে আলম, ক্যাব পাঁচলাইশ সভানেত্রী সায়মা হক, ক্যাব চকবাজার সভানেত্রী ঝর্না বড়–য়া, ক্যাব খুলসী থানা সভানেত্রী রুখসানা আখতারুন্নবী, ক্যাব ডবলমুরিং থানার সাধারন সম্পাদক মোনায়েম বাপ্পী, ক্যাব সদরঘাট থানার সাধারন সম্পাদক শাহীন চৌধুরী ও ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংগঠক জহুরুল ইসলাম। ট্রাফিক বিভাগ থেকে সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান ও ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাব নগরীর যানজট নিরসনে দেশের বৃহত্তর নগরী ও বানিজ্যিক রাজধানীখ্যাত চট্টগ্রামে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়ন, চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশন এলাকায় নগরবাসীর নিরাপদ ও ভোগান্তিহীন, নিবির্গ্ন যাতায়ত নিশ্চিত, লক্কর-ঝক্ক্র বাসের রাজত্বের অবসান, সিএনজি অটোরিক্সার চালক কর্তৃক যাত্রীদের জিম্মি করে ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ এবং গণপরিবহনে দুরাবস্থা দুরীকরণে এবং যাত্রী সেবার মান উন্নয়নে বেশ কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবগুলির মধ্যে গণপরিবহন বিশেষ করে লক্কর যক্ক্র বাসগুলি পরিবর্তন, আধুনিক বাস সংযোজন, নগরীতে ১০০ বিআরটিসির বাস চালু, অফিসের যাত্রার সময় ও ফেরার পথে বাস সংকট দুরীকরন, রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাসগুলি দাঁড়িয়ে থেকে রাস্তায় যানজট সৃষ্ঠি করে নগরবাসীর একটি বিশাল শ্রম ঘন্টা নষ্ঠ করছে, এছাড়াও মহাসড়কে যত্রতত্র দখল, রাস্তার উপর ময়লার ডাস্টবিন, হকার্সসহ ইট-বালি দিয়ে রাস্তা দখল, গনপরিবহনে আধুনিকায়নের অংশ হিসাবে রিকসা ও সিএনজি টেক্সীর দৌরাত্ত্য প্রতিরোধে বেশী সংখ্যক টেম্পুু, ছোট মিনিবাসের সংখ্যা বাড়ানোর দাবী জানান। এছাড়াও পবিত্র রমজানে পথচারী ও যাত্রীদের নির্বিগ্নে যাতায়ত নিশ্চিত কল্পে ট্র্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কঠোর শৃংখলা নিশ্চিত করতে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও ভোক্তা/যাত্রীদের সাথে সমন্বয় সভা আয়োজন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে শিক্ষা ও সচেতনতা কর্মসুচি পরিচালনার প্রস্তাব করেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বুপুর্ন স্থানে বাসস্টান্ড, অবৈধ পার্কিং তুলে দেবার দাবী জানান।

জবাবে উপ-পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশ ও দেশের অন্যান্য শহর অনেক অগ্রগতি হলেও চট্টগ্রাম মহানগর অনেক পিছিয়ে আছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও শিল্প নগরী হলেও এখানে দেশের ককসবাজার, বান্দরবন, খাগড়াছড়ি ও রাংগামাটি জেলাসহ আন্তঃ জেলা গুলোর সাথে সংযোগের জন্যবাইপাস সড়ক নেই, চট্টগ্রাম বন্দরে যে পরিমান ট্রাক আসে তার জন্য পর্যাপ্ত ট্রাক স্টেশন নেই, এছাড়াও একটি আধুনিক নগরের পরিকল্পনায় নিয়োজিত সিটিকপোরেশন, সিডিএ এর পরিকল্পনায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কোন পরিকল্পনা ও সমন্বয় নেই। যার কারনে যত্রতত্র ইমারত, ভবন তৈরী ও অনুমোদন হয়েছে যা নগরীর যানবাহন ব্যবস্থাপনায় মারত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ঠি করছে। বর্তমানএছাড়াও ট্রাফিক বিভাগ ৬০ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় উপযুক্ত জনবল ও উপকরণগত সক্ষমতা নিয়ে গড়ে উঠেনি। ট্রাফিক বিভাগের র্বমান উদ্যোগটি প্যারাসিটেমল বলে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন নগর পরিকল্পনায় ট্রাফিক ও যানজট নিরসনের সুদুর প্রসারী উদ্যোগ না হলে রাজধানী ঢাকার মতো চট্টগ্রামও বসবাস অযোগ্য শগরে পরিনত হতে বেশী সময় লাগবে না।

ক্যাব নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বিভিন্ন গণপরিবহন যাত্রীদের জিম্মি করে দ্বিগুন-৪গুন পর্যন্ত ভাড়া আদায়, মুল্য তালিকা না ঝুলালেও বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের ভুমিকা রহস্যময়। যাত্রীরা ভাড়া ও গণপরিবহন নিয়ে ভোগান্তির শিকার হলেও প্রতিকারে কোন হেল্প লাইন নেই। ট্রাফিক বিভাগ ও বিআরটিএ পরিবহন মালিন ও শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণে। যার কারনে আঞ্চলিক সড়ক পরিবহন কমিটিতে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও তাদের সমর্থিত সরকারী প্রতিনিধি ছাড়া এখানে ভোক্তাদের কোন প্রতিনিধি নেই। তারা নিজেরাই তাদের সুবিধা মতো সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে থাকেন। সেকারনেই জনস্বার্থের পরিবর্তে তাদের স্বার্থই প্রধান্য পেয়ে থাকে। এ অবস্থার পরিত্রানের জন্য গণপরিবহন সেক্টরে শৃংখলা বিধান ও ভোক্তাদের ভোগান্তি নিরসনে বিআরটিএ ও আরটিসি গুলিতে ভোক্তাদের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এ সমস্ত সংস্থাগুলিকে কার্যক্রম জবাবদিহিতার আওতায় আনা ও নাগরিক পরীবিক্ষন জোরদার, তাদের কর্মকান্ড জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।