দুধের বস্তায় মেয়াদ জালিয়াতি, ৫০০০ বস্তা দুধ জব্দ

প্রকাশ:| শনিবার, ৮ অক্টোবর , ২০১৬ সময় ০৮:৪১ অপরাহ্ণ

ইউক্রেন থেকে আমদানি করা গুঁড়ো দুধের পাঁচ হাজার বস্তার প্রতিটির গায়ে লেখা, ‘উৎপাদন জুলাই-২০১৬, মেয়াদ শেষ, জুলাই-২০১৮।’ সে হিসেবে দুধের বস্তাগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ নয়। কিন্তু বস্তার গায়ে উৎপাদন আর মেয়াদের এই সিলটা যে এদেশেই দেওয়া। অথচ নিয়মানুসারে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এই সিলটা দেওয়ার কথা ছিল। এই ভূয়া সিলের সূত্র ধরে এসব গুঁড়ো দুধের বস্তাকে মেয়াদোত্তীর্ণ বলে সন্দেহ করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত । পাশাপাশি দুধের বস্তাগুলো চোরাচালানী করে আনা হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%a7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a7%9fনগরীর মাঝিরহাট এলাকার পূর্ব মাদারবাড়িতে এক গুদামে অভিযান চালিয়ে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ভূয়া সিল দেওয়া এসব গুঁড়ো দূধের সন্ধান পায়। এসব গুঁড়ো দুধ আমদানি করে নুর ডেইরি অ্যান্ড ফুডস প্রসেসিং ফ্যাক্টরি। শনিবার বিকেল তিনটা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান এখনও চলছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ফোরকান লেন, আমদানিকারী প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগেই উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখের সিল দিয়ে দিয়েছে গুঁড়ো দুধের বস্তাগুলোতে, যা অন্যায়। তারা দাবি করছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভুলে উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ লিখেনি। তাও যদি হয় বিএসটিআই’র অনুমোদন ছাড়া তারা কোনোভাবে সিল দেওয়া যাবে না। আমরা দুধগুলো পরীক্ষা করছি। যে ভূয়া সিলটা দেওয়া হয়েছে সে হিসেবে দুধের গুনগত মান ঠিক আছে কিনা দেখছি।

পাশাপাশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও মেয়াদের সিল না দেওয়ার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তাও দেখছি।

বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একটি বিশাল গোডাউনে পাঁচ হাজার গুঁড়ো দুধের বস্তাগুলো রাখা হয়েছে। সেগুলোর গায়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ দিয়ে তৈরি সিল দেওয়া হয়েছে। একই গোডাউনে আরেকটি কোম্পানির আমদানি করা গু‍ঁড়ো দুধের বস্তাও রাখা হয়েছে। তবে সেসব বস্তায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানই উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ লিখে দিয়েছে।

কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পাঁচ হাজার বস্তার প্রতিটিতে ২৫ কেজি করে গু‍ঁড়ো দুধ রয়েছে। অর্থাৎ এক লাখ ২৫ হাজার কেজি দুধ রয়েছে সবমিলিয়ে। সেসব গু‍ঁড়ো দুধের দাম উল্লেখ করা হয়েছে এক লাখ ৯৬ হাজার ৮৭৫ ইউএসডি ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড় কোটি টাকা।

ঘটনাস্থলে আসা নুর ডেইরি অ্যান্ড ফুডস প্রসেসিং ফ্যাক্টরির কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ভুলে উৎপাদন ও মেয়াদের সিল দেওয়া হয়নি।’

এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ‘সেই বিষয়টি যদি ঠিকই হয় তাহলে বিএসটিআই’র অনুমোদন ছাড়া কীভাবে সিল দিলেন’ এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন ‘এভাবে নিজেদের উদ্যোগে উৎপাদন ও মেয়াদ তারিখের সিল দেওয়াটা একদম উচিত হয়নি। এটা ভুল হয়ে গেছে।’

গুদামের দায়িত্বে থাকা শাহাজাহান বলেন, শুক্রবার এসব গুঁড়ো দুধ গুদামে আনা হয়েছে। গাড়ি থেকে নামানোর সময়ই বস্তাগুলোতে উৎপাদন ও মেয়াদ তারিখের এই সিল দেওয়া হয়।


আরোও সংবাদ