দুদকের নজরদারী না থাকায় ‘ঘুষের হাটে’ পরিণত পেকুয়া সাব-রেজিষ্টার কার্যালয়

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ সময় ০৮:৩৬ অপরাহ্ণ

 
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা সাব-রেজিষ্টার কার্যালয়টি নানা অনিয়ম, দূর্নীতির ও ঘুষের মহা-আঁখড়ায় পরিণিত হয়েছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ তুলেছেন। এ সরকারী অফিসে ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয়না। জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রতিনিয়তই এখানে এসে মোটা অংকের ঘুষ দিতে হয় সাব-রেজিষ্টার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী, অফিসে নিযুক্ত কয়েকজন নকলবিশ ও কার্যালয়ের অসাধু কর্মচারীদের। প্রতিনিয়তই জমির ক্রেতা বিক্রেতারা এখানে হয়রানীর শিকার হলেও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তা বন্ধে রহস্যজনক কারণে কোন ধরনের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা।

অভিযোগ রয়েছে, এক শ্রেণীর দলিল লিখক ও নকলবিশ পেকুয়ার সাব রেজিষ্টারের সাথে আঁতাত করে জমির ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রতি লাখে নির্দিষ্ট হারে মোটা অংকের কমিশন আদায় করেন। আর এসব কমিশন থেকে সাব-রেজিষ্টারকে ভাগ দেওয়া হয়। দলিল লিখকরা পেকুয়া সাব রেজিষ্টার অফিসের প্রধান সহকারীর মাধ্যমে এসব ঘুষের টাকা সাব রেজিষ্টারের পকেটে দেওয়ায় এতো ঘুষ বানিজ্যের পরেও খোদ সাব-রেজিষ্টার নিশ্চুপ থাকেন এমনই অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।

জানা যায়, প্রতি সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার পেকুয়া সাব-রেজিষ্টার কার্যালয়ে দলিল সম্পাদনের কাজ চলে। এই সুবাধে এখানে প্র সপ্তাহে প্রায় শতাধিক দলিল সম্পাদন করে থাকেন জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পেকুয়া চৌমুহুনীর বিভিন্ন দোকান ও ফুটপাতে দলিল লিখকরা অস্থায়ী কার্যালয় বসিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কৌশলে ভাগিয়ে নিয়ে এসে দলিলের কাজ চুড়ান্ত করেন। আর এখানেই দলিল লিখকরা সরকার নির্ধারিত দলিলের ফির সাথে সাব-রেজিষ্টারের জন্য মোটা অংকের কমিশন নেন। সাথে দলিল লিখার অজুহাতে দলিল লিখকরা জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করেন অতিরিক্ত অর্থ। এক শ্রেণীর দলিল লেখক পেকুয়া সাব রেজিষ্টারের সাথে গোপনে আঁতাত করে জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের জিম্মি করে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা। আর পেকুয়া সাব রেজিষ্টার অফিসকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়তই সনদবিহীন ভূঁয়া দলিল লিখকদের অপতৎপরতা বাড়ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পেকুয়া সাব-রেজিষ্টার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী ও কয়েখজন নকলবিশ পরিচয়ধারীরা প্রতিনিয়তই সাব-রেজিষ্টারের নাম ভাঙ্গিয়ে জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন। স্থানীয় কিছু মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী লোক পেকুয়া সাব রেজিষ্টার অফিস থেকে থেকে মাসোয়ারা নিয়ে সাব-রেজিষ্টার কার্যালয়ের নানা অনিয়ম ও দূর্ণীতি মুখ বুঝে সহ্য করেন। এ নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, জমি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সরকারী নির্দিষ্ট ফি‘র বাইরে সাব-রেজিষ্টার কার্যালয়ে প্রতি লাখে কেন কমিশন দিতে হয়। আর এ অবৈধ কমিশন কী সরকারী কোষাগারে জমা হয়, নাকি সাব রেজিষ্টারের পেটে জমা হয়! স্থানীয়রা অবিলম্বে পেকুয়ার সাব-রেজিষ্টার ও কার্যালয়ের ঘুষখোর কর্মচারীদের প্রত্যাহার দাবী করেছেন এবং দুদুকের নজরদারী বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে পেকুয়ার সাব-রেজিষ্টারের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি। অপরদিকে পেকুয়া সাব রেজিষ্টার কার্যালয়ে দুদুকের নজরদারী বাড়াতে এলাকার সুশীল সমাজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।