দুটি কলা মৃত্যুর কাছাকাছি নিলো সোহেলকে

প্রকাশ:| রবিবার, ৬ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ১১:৩২ অপরাহ্ণ

মুদি দোকানদার মামুনকে (২৬) না বলে কলার কাঁদি থেকে সোহেলকলা খেয়েছেন ক্রেতা মোঃ সোহেল (২২)। বিল দিতে গেলে মামুন দুটি কলার মূল্যের পরিবর্তে সোহেলকে দশ জোড়া কলার মূল্য পরিশোধ করার কথা বলে। কেন না বলে কলা খেয়েছ বিক্রেতার এমন প্রশ্ন আর খেয়েছি তাতে কি হয়েছে ক্রেতার এমন পাল্টা প্রশ্ন থেকে শুরু হয় উভয়ের মধ্যে তুমুল কাটাকাটি। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি, অতঃপর বিক্রেতার উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে পেট থেকে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায় ক্রেতা সোহেলের। এসময় সোহেলের পিঠ, হাতও ক্ষতবিক্ষত হয়। মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা প্রথমে সোহেলকে হাটহাজারী সদরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে প্রেরণ করে। তবে অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাকে ইতোমধ্যে ৪ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা এখনো শংকটাপন্ন।

কলা খাওয়ার টাকা পরিশোধ করার মতো তুচ্ছ বিষয় নিয়ে গত শনিবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঘটে হাটহাজারী উপজেলার গুমান মর্দ্দন ইউনিয়নের পূর্ব গুমান মর্দ্দন হারুণ শাহ মাজার সংলগ্ন এলাকায় মর্মান্তিক এ ঘটনা । পুলিশ ঘটনার রাত সাড়ে তিনটার দিকে সোহেলকে তার বাড়ী থেকে আটক করেছে। এ ঘটনায় সোহেলের বড় ভাই আহসান হাবিব জুয়েল বাদি হয়ে মামুনকে আসামী করে হাটহাজারী মডেল থানায় রবিবার(৬ ডিসেম্বর) বিকালে একটি মামলা( নং-৭) দায়ের করেন। সোহেল পূর্ব গুমান মর্দ্দন মোজাহেরুল হক মেম্বার বাড়ীর মোঃ আলী আকবরের পুত্র। অপরদিকে মামুন একই এলাকার বাইঘ্যার বাড়ীর মৃত মোঃ নুরুল আলমের পুত্র।

মামলার বাদি জুয়েল জানান, ‘কলা খাওয়া নিয়ে মামুন আমার ভাই সোহেলকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এতে পেটের ৪ টি বড় ও গভীর আঘাতে সোহেলের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। এছাড়া পিঠে ৩টি ও বাম হাতেও ছুরিকাঘাত রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে সোহেলকে ৪ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক। সে চমেক হাসপাতালের ১ম তলার ১০ নং বেড়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। ’

থানায় পুলিশের হাতে আটক হওয়া মামুন কান্নারত অবস্থায় সাংবাদিকদের জানান, ‘ আমি মুদির দোকান করে সংসার চালাই। তাৎক্ষণিক রাগের মাথায় উত্তেজিত হয়ে আমি এ ঘটনা ঘটিয়েছি।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী হাটহাজারী মডেল থানার এসআই আনিসুর রহমান জানান, ‘শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আসামী মামুনকে তার বাড়ী থেকে আটক করেছি। সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছুরিকাঘাত করার ঘটনা স্বীকার করেছে।’

হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইসমাইল জানান,‘ ছুরিকাঘাতের ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামী মামুনকে আটক করা হয়েছে।’