দুটি করে সন্তান নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন , ২০১৪ সময় ০৬:৫০ অপরাহ্ণ

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের স্লোগান ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’ বাদ দিয়ে প্রতিটি পরিবারকে দুটি করে সন্তান নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এই স্লোগান বাদ দিতে চাই। স্লোগানের শেষের অংশটুকু বাদ দিয়ে আপনারা প্রচেষ্টা চালান।
আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এ স্লোগান নিয়ে এগিয়েছে, তারাই বৃদ্ধের রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। কিছুদিন আগে আমি দুটি দেশ ঘুরে এসেছি। সেখানেও একই অবস্থা। বিশ্বব্যাপী তরুণ সমাজের অভাব দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের তরুণদের সারা বিশ্বের জন্য ‘ওয়ার্কিং ফোর্স’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেকে বাংলাদেশের বেশি জনগণকে বার্ডেন মনে করেন। কিন্তু আমি সেটা মনে করি না। এসব জনগণকে প্রশিক্ষিত করে সম্পদে পরিণত করতে হবে।’ তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার মানসম্পন্ন শিক্ষা ও চিকিত্সকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে দেশের প্রত্যেক বিভাগে একটি করে চিকিত্সা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবে। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ঢাকায় একটি মাত্র চিকিত্সা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যা আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে স্থাপিত হয়। প্রাথমিকভাবে এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে স্থাপন করা প্রয়োজন।
হাসিনা বলেন, ‘কিন্তু আমি চিন্তা করে দেখেছি যে প্রত্যেক বিভাগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া মানসম্পন্ন শিক্ষা ও চিকিত্সকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত হবে না। আমরা এ ধরনের ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মস্থলে নির্দিষ্ট সময় উপস্থিত না থাকলে আপনাদের চাকরি স্থায়ী হবে না এবং পদোন্নতিও পাবেন না। এ ছাড়া চাকরি হারানোর ভয়ও রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে আপনাদের পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয় এবং এই অর্থ কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষের টাকা থেকে আসে। এ জন্য আপনাদের কর্মস্থলে থেকে অবশ্যই জনগণের সেবা দিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও স্বাস্থ্যসচিব এম এন নিয়াজউদ্দিন। এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান সিকদার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।