দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, কাউন্সিল মূলতবি

প্রকাশ:| শনিবার, ২৭ জুলাই , ২০১৩ সময় ০৮:১৩ অপরাহ্ণ

নগরীর বন্দর থানার ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় সংঘর্ষেরসম্মেলনস্থলের বাইরে বেশ কয়েকটি পটকার বিস্ফোরণ ঘটলে পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোসাইলডাঙ্গা এলাকায় বারিক মিয়া হাই স্কুল প্রাঙ্গনে এ ঘটনার পর বেশ কিছুক্ষণের জন্য সম্মেলনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ প্রহরায় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হলেও কাউন্সিল মূলতবি ঘোষণা করা হয়।

ঘটনার সময় নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা.আফছারুল আমিন, আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম সুজনসহ জ্যেষ্ঠ্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তবে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এসময় সম্মেলনস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দিয়ে সম্মেলনস্থল ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের সময় বিবদমান দু’পক্ষেকে ডা.আফছারুল আমিন ও খোরশেদ আলম সুজনের নামে শ্লোগান দিতে শোনা গেছে।

খোরশেদ আলম সুজন বাংলানিউজকে বলেন, ‘সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে নামাজের বিরতি দেয়ার পর কয়েকজন হইচই করতে করতে এসে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে। আমরা এদের কাউকে চিনিনা। আমাদের কেউ হতে পারে আবার বিএনপিও সুযোগ নিতে পারে। আমরা তাদের সম্মেলনস্থল থেকে বের করে দিয়েছি।’

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (বন্দর জোন) মনজুর মোর্শেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বক্তব্য শেষ করে জেলা পুলিশ লাইনের ইফতার মাহফিলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এর পাঁচ মিনিটের মাথায় চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়। এসময় সম্মেলনস্থলে বাইরে কয়েকটি পটকার আওয়াজ শোনা গেছে।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য ৬০ জনকে কাউন্সিলর করা হয়। কাউন্সিলরের তালিকায় স্থান না পেয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। আবার ভোটাভুটির বিপক্ষেও ছিলেন একটি অংশ।

ঘটনাস্থলে থাকা বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রণজিৎ রায় বাংলানিউজকে জানান, সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে ভোটাভুটির ঘোষণা দিলে একপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। পাল্টাপাল্টি শ্লোগানে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠার পর এক পর্যায়ে চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়। প্রায় ২০ মিনিট ধরে সংঘর্ষ চলার পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এরপর পুলিশ প্রহরায় দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য একটি কক্ষে ১৩ সদস্যের প্রস্তুতি কমিটির কাছে নেয়া হয় কাউন্সিলরদের। তবে কক্ষে ঢোকার সময় পুলিশ তল্লাশি করে কাউন্সিলর নিশ্চিত হবার পর ঢুকতে দেয়া হয়।

নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম সুজন বাংলানিউজকে বলেন, ‘দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু করার পর ইফতারির সময় ঘনিয়ে আসায় আমরা সর্বসম্মতিক্রমে কাউন্সিল মূলতবি করেছি। যেহেতু কাউন্সিলরের সংখ্যা নিয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আরও ৮-১০ জনকে নতুনভাবে কাউন্সিলর মনোনীত করা হবে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাউন্সিল করে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হবে।’