দুই শিল্পগ্রুপের সমঝোতার প্রস্তাব

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ১ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

‘এ মুহূর্তে কেএসআরএম এবং পিএইচপির মধ্যে কারও বিরুদ্ধে কারও অভিযোগ নেই। যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে সেটি মালিক পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে সমাধান করে নেবেন বলে ঠিক করেছেন। এ ব্যাপারে মিউচুয়াল অ্যাগ্রি করেছেন।’

রোববার (১ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন কেএসআরএম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেরুল করিম।

তিনি সমঝোতার মাঝে বাধা হতে পারে এমন কোনো সংবাদ প্রচার না করার অনুরোধ করেন উপস্থিত সাংবাদিকদের।

তিনি বলেন, প্রেস কনফারেন্স কনফার্ম করেছিলাম। তাই বাতিল করিনি সাংবাদিকদের সম্মানে। আমাদের পরিষ্কার বার্তা হচ্ছে, দুই কোম্পানির মালিক পক্ষ আলোচনা করছেন। ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দুইটি কোম্পানিই চট্টগ্রামে সুপরিচিত। ওদের (পিএইচপি) বিরুদ্ধে আমাদের নালিশ নেই। আমাদের (কেএসআরএম) বিরুদ্ধেও তাদের নালিশ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেএসআরএম গ্রুপের ডিজিএম সাখাওয়াত হোসেন, লিগ্যাল অ্যাডভাইজার জাহেদুল আহসান, পরিচালক (করপোরেট) মি. হক, জিএম (এইচআর) সৈয়দ নজরুল আলম, জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রফিকুল আলম, এস্টেট অফিসার এম কামাল উদ্দিন, মেডিকেল অফিসার ডা. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে কেএসআরএম জানায়, বাড়বকুণ্ডে রেলওয়ের ১ দশমিক ৬৪ একর জমি ১৯৮০ সাল থেকে নুরুল আলম লাইসেন্সপ্রাপ্ত হয়ে ভোগ দখল করে আসছিলেন। পরবর্তীতে ওই জমির লাইসেন্স পাওয়ার জন্য কেএসআরএম ও পিএইচপি আবেদন করলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিজস্ব সার্ভেয়ার দিয়ে তদন্ত করে। রেলওয়ের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ত্রিপক্ষীয় শুনানির মাধ্যমে কেএসআরএমের পরিচালক মো. সেলিম উদ্দিনের নামে লাইসেন্স দেন। ২০১৭ সাল থেকে জমিটি কেএসআরএমের দখল আছে। জমির ঘেরা-বেড়া নষ্ট হওয়ায় মেরামতের সময় গত ১৩ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় প্রতিপক্ষ আমাদের নিরাপত্তা প্রহরী ও শ্রমিকদের ওপর চড়াও হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) ভাঙচুর করা ঘেরা-বেড়ার মেরামতকাজ সম্পন্ন করা হয়। আমাদের শ্রমিকরা চলে আসার সময় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা আমাদের কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করি। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশক্রমে বর্তমানে স্থিতিবস্থা বিরাজ করছে। এমতাবস্থায় আমরা উভয়পক্ষ বর্তমানে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রচেষ্টা চলমান রেখেছি।

সমঝোতা হয়নি: পিএইচপি

পিএইচপি ফ্যামিলির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সমঝোতার ব্যাপারে কোনো কথা হয়নি। সংবাদ মাধ্যমকে বিভ্রান্তির জন্যই সমঝোতার কথা বলা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির জিএম এস্টেট আমির হোসেন বলেন, অবৈধভাবে দেওয়া কাঁটাতারের বেড়া তুলে ফেলার পরই সমঝোতার কথা হতে পারে। তার আগে নয়।

পিএইচপির দাবি, রোববার (১ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত ওই কাঁটাতারের ঘেরা তুলে নেয়নি কেএসআরএম। এতে স্থানীয় লোকজনের চলাচলের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। সীতাকুণ্ডের বাড়বকুন্ড এলাকায় পিএইচপি ফ্লোটগ্লাস কারখানার পেছনেই ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন। রেললাইন পেরিয়ে ১৬০ একর নিজস্ব জমিতে বিলুপ্ত প্রায় বনজ ও ফলদ গাছের বাগান সৃজন করেছে পিএইচপি। ওই বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ১ লাখ ৬ হাজার ৯৩৭টি গাছ রয়েছে। কারখানা থেকে বাগানে যাওয়ার জন্য ২০০৫ সালেই রেলওয়ের একটি জায়গা ইজারা নেয় পিএইচপি। কিন্তু ওই জায়গার পাশে রেলওয়ে থেকে জমি ইজারা নেওয়ার দাবি করে বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) পুরো জায়গা ঘিরে ফেলে কেএসআরএম, এমনকি রেলওয়ে থেকে ইজারা নেওয়া পিএইচপির জায়গাটিও। তারা পিএইচপি ফ্লোটগ্লাস কারখানার পেছন থেকে বাগানে যাওয়ার পথটিও বন্ধ করে দেয়। এ সময় পিএইচপির কারখানায় নিয়োজিত আনসার বাহিনীর সদস্যদের ওপর পাথর ছুড়ে মারে। এতে ১১ জন আহত হন।


আরোও সংবাদ