দুই পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত-১৩, আটক-২

প্রকাশ:| সোমবার, ২৪ আগস্ট , ২০১৫ সময় ০৯:৫১ অপরাহ্ণ

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া
কক্সবাজারের পেকুয়ায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মহিলা সহ ১৩জন আহত হয়েছে। আজ ২৪আগষ্ট সোমবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছিরাদিয়া নামক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে, স্থানীয় একটি মৎস্য ঘোনায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোঁয়াখালীর মৃত এমদাদ মিয়ার পুত্র আফতাব উদ্দিন গং ও মরহুম জিন্নাত আলীর পুত্র জয়নাল আবেদীন গংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন মৎস্যঘেরের ভোগদখলকে কেন্দ্র করে প্রথমে দু’পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এনিয়ে দু’পক্ষের লোকজনের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন জড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষে। এতে আহতরা হলেন ওই এলাকার মৃত. এমদাদ মিয়ার পুত্র আফতাব উদ্দিন (৪৮) তার পুত্র সালাহ উদ্দিন (২৫), মৃত.জালাল আহমদের পুত্র পেকুয়া আনোয়ারুল উলুম ইসলামীয়া মাদ্রাসার ১০ম শ্রেনীর ছাত্র হাফেজ জমির উদ্দিন (১৭), আব্দুল করিমের পুত্র ওয়াহিদ (৭), মৃত.দানু মিয়ার স্ত্রী ছেমন আরা (৪৮), সুজা মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪২) ও আফতাব উদ্দিনের স্ত্রী পারভিন আক্তার (৩৮।
অপরদিকে মৃত জিন্নাত আলীর পুত্র জয়নাল আবেদীনন গংয়ের জয়নাল আবেদীন (৪২), রুস্তম আলী (৬২), মাহমুদুল করিম (৬০), আহমদ আলীর পুত্র মোঃ হোছন (২৮), মেহের আলীর মেয়ে নাহিদা বেগম (১৪), জসিম উদ্দিনের মেয়ে নিলুফা আক্তার (১৯), মৃত বাদশা মিয়ার পুত্র জসিম উদ্দিন (৬৫), আমির হোসনের পুত্র দিদারুল ইসলাম (২৫), আজম খাঁনের পুত্র নাঈম (২২)।
এদিকে খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে পেকুয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। এসময় পুলিশ উভয় পক্ষের দু’জনকে আটক করে। তবে আটককৃতদের নাম জানাতে পারেনি পুলিশ।
পেকুয়া হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আহতদের আফতাব উদ্দিন, সালাহ উদ্দিন ও মাদ্রসা ছাত্র জমির উদ্দিনকে চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তাদের চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। আফতাব উদ্দিনের স্ত্রী পারভিন আক্তার, জানিয়েছেন তার ভাই আযম খান এ ঘটনার নেপথ্য নায়ক। তিনি সদর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি হওয়ায় এর প্রভাব খাটিয়ে তার লোকজনকে দিয়ে আমার বাড়িতে এসে এ নারকীয় ঘটনা ঘটিয়েছে।
খবর পেয়ে পেকুয়া থানার ওসি ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলার প্রস্তুতির কথা জানান। তবে, এঘটনায় জড়িত দু’পক্ষের মধ্যে চাঁপা উত্তেজনা দেখা দেয়ায় ফের সংঘর্ষের আশংকা জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সতর্ক পদক্ষেপ কামনা করেছেন। পেকুয়া থানার ওসি আবদুর রকিব জানিয়েছেন খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ পাঠিয়ে আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রন আনা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা রেকর্ড় করা হবে।