দুঃশাসনের অবসান হওয়া জরুরী : খালেদা জিয়া

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৬ নভেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

৭ নভেম্বরের চেতনায় সকল জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, ‘এই দুঃশাসনের অবসান হওয়া জরুরী। জনগণ যদি অবাধে ভোট দেওয়ার অধিকারটুকু ফিরে পায় তাহলেই তারা স্বৈরাচারী শাসনের বিপক্ষে তাদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারবেন।’

৭ নভেম্বর উপলক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে খালেদা জিয়া এ সব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বর একটি ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭৫ সালের এ দিনে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ত্ব রক্ষায় সৈনিক-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসেছিলেন সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে। ৭ নভেম্বরের চেতনা আমাদের জাতীয় জীবনে প্রেরণার উৎস।’

বিবৃতিতে তিনি এই মত ব্যক্ত করেন যে, ‘স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের রাজনীতি ক্রমেই কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার এক পর্যায়ে একদলীয় বাকশালী একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার রূপ পেয়েছিল। এমনি এক প্রেক্ষাপটে মতাদর্শগত কোন্দল যখন চরমে উঠেছিল তখন আওয়ামী লীগেরই একটি অংশ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একটি অভ্যুত্থান সংগঠিত করে ক্ষমতা দখল করে।’

‘এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীর একটি অংশ আধিপত্যবাদের ভাবনায় প্ররোচিত হয়ে তৎকালীন সেনাবাহিনীর প্রধান মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে স্বপরিবারে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে,’ বলে যোগ করেন তিনি।

বিএনপির প্রধান বলেন, ‘দেশবাসী ও সশস্ত্রবাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যরা তথন উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ভূলুণ্ঠিত করার জন্যই এই চক্রান্ত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্তকে রুখে দেওয়ার জন্য অকুতোভয় সৈনিক-জনতা এক ইস্পাত কঠিন ঐক্যে শপথবদ্ধ হন ৭ নভেম্বর এক ঐতিহাসিক বিপ্লব সংগঠনের জন্য। তারা বন্দীদশা থেকে মুক্ত করেন তাদের প্রিয় সেনাপতিকে। এই ঐতিহাসিক পট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।’

‘দেশ যখন অপশাসনে নিপতিত হয় তখন গণতন্ত্র, স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল্যবোধ ও অঙ্গীকার হুমকির সম্মুখীন হয়’ এমন মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন একটি বিনা ভোটের সরকার ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত। তারা দমন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে জনগণের কণ্ঠ রোধ করে দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে শুধুই ক্ষমতায় থাকতে এখন বিভোর হয়ে উঠেছে।’

(