দীর্ঘদিন পর আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ বাড়ি

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৮ সেপ্টেম্বর , ২০১৭ সময় ০৯:৩৭ অপরাহ্ণ

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা দীর্ঘদিন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানের পর আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ বাড়ি কিংবা ভাড়া বাসায় চলে গেছেন।

 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার পর বৃহস্পতিবার আশ্রয়কেন্দ্র বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। তার পরিপেক্ষিতে শুক্রবার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সবক’টি আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে চলে গেছে পাহাড় ধসের ক্ষতিগ্রস্তরা। শুধু জিমনেশিয়াম আশ্রয়কেন্দ্রে ১৮টি পরিবার, হাসপাতাল ছাত্রাবাসের আশ্রয়কেন্দ্রে দু’টি পরিবার রয়েছে।

 

আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে চলে যাওয়া সুলতান আহম্মেদ বলেন, পাহাড় ধসের পর প্রশাসন আমাদেরকে দীর্ঘদিন আশ্রয়কেন্দ্রে রেখে সহায়তা করেছিল। এখন আমাদেরকে কিছু ত্রাণসামগ্রী দিয়ে নিজেদের বাড়ি-ঘর কিংবা অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে ফিরে যেতে বলেছে। তাই আমরা বাসা ভাড়া করে চলে যাচ্ছি।

 

রুপনগর এলাকার সুমি আক্তার বলেন, প্রশাসন দীর্ঘ দিন আমাদেরকে দেখাশোনা করেছে। কিন্তু বিদায় বেলায় শুধু ছয় হাজার টাকা, দুই বান ঢেউটিন আর ৩০ কেজি চাল দিয়েছে। আমার সম্পূর্ণ ঘর বিধ্বস্ত, এ ত্রাণ দিয়ে আমার কি হবে? এমন মন্তব্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

 

এখনো যারা আশ্রকেন্দ্র ছেড়ে যাননি, তাদের মধ্যে ভেদভেদী এলাকার হিরো বড়ুয়া বলেন, আমরা ঘরবাড়ি সব বিধ্বস্ত। আমার যাওয়ার কোনো স্থান নেই। প্রশাসন যা দিয়েছে তাতে আমার তেমন কোনো উপকারই হবে না। আমি আমার বিষয় পুনঃবিবেচনার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি।

 

তিনি আরো বলেন, আমি বাইরে ঘর ভাড়া চেয়েছি। কিন্তু ভাড়া বেশি হওয়ায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবুও চেষ্টা করছি ভাড়া বাসায় চলে যেতে।

 

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসে ১২০ জন নিহত হয়। এছাড়া, হাজারো ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এতে গৃহহীন হয়ে পড়ে বহু মানুষ। পাহাড় ধসের পর ক্ষতিগ্রস্তরা প্রায় তিন মাস ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করে আসছিল।


আরোও সংবাদ