দিয়াজ হত্যা: আসামিদের গ্রেফতারে আদালত‘র নির্দেশ

প্রকাশ:| সোমবার, ৭ আগস্ট , ২০১৭ সময় ১০:০৩ অপরাহ্ণ

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা মামলারআসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

সোমবার চট্টগ্রামের মুখ্য বিচারিক হাকিম মুন্সী মশিউর রহমান এই নির্দেশের পাশাপাশি পাসপোর্ট জব্দ ও বিদেশে যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং দিয়াজের মা মামলার বাদী জাহেদা আমিন চৌধুরীর করা আবেদন নিয়ে আদালতের এই আদেশ আসে।

 

আসামিরা দেশ ত্যাগে তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে জানতে পেরে এই আবেদন করা হয় বলে দিয়াজের বোন আইনজীবী জুবাঈদা ছরওয়ার চৌধুরী নিপা জানান।

 

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ আট মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বাসা থেকে উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার কথা বলা হয়েছিলো।

 

তাতে আপত্তি জানিয়ে হত্যা মামলা করেন তার মা জাহেদা আমিন। তার পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হয়। সম্প্রতি তার প্রতিবেদনে এটি আত্মহত্যা নয় বলে উল্লেখ করা হয়।

 

দিয়াজ হত্যা মামলার আসামিরা হলেন, সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু (বর্তমানে কমিটি স্থগিত), সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জামশেদুল আলম চৌধুরী, ছাত্রলীগ নেতা রাশেদুল আলম, আবু তোরাব, মিজানুর রহমান, মো. আরমান, আরিফুল হক, আবদুল মালেক ও মনসুর আলম।

 

দিয়াজের বোন নিপা বলেন, শিক্ষক আনোয়ার হোসেন দেশ ছাড়ার জন্য স্কলারশিপ জোগাড়ের তোড়জোড় শুরু করেছিল। এছাড়া মামলার সাক্ষী আমাদের ভাড়া বাসার দারোয়ান তারেক মাস দেড়েক আগে ওমানে চলে গেছে।
এসব বিষয়ে জানার পরই আমরা আদালতের নির্দেশনা চেয়ে আবেদনটি করেছিলাম।

 

মামলার ১০ আসামির প্রত্যেককে গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পরবর্তী শুনানির দিন ৩০ অগাস্ট রেখেছে আদালত, সে দিনের মধ্যে তদন্ত সংস্থা সিআইডিকে তদন্তের বিষয়ে জানাতে হবে।

 

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসা থেকে দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন বাসায় দিয়াজ ছাড়া পরিবারের আর কেউ ছিলেন না। লাশ উদ্ধারের ২২ দিন আগে গত বছরের ১৯ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দিয়াজসহ ছাত্রলীগের চার নেতার বাসায় তাণ্ডব চালান প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীরা।