দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে আলু বিক্রি হচ্ছে ২ টাকা থেকে ৩ টাকা কেজি দরে

প্রকাশ:| সোমবার, ২৭ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ১০:২৭ অপরাহ্ণ

সংঘাতময় রাজনীতি শান্ত হয়ে এলেও দিনাজপুরে এখনও উদ্বিগ্ন আলু চাষীরা। এ অঞ্চলে এবার রেকর্ড পরিমাণ আলুর চাষ হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় চাষীদের হাটে আলুচোখে-মুখে ফুটে উঠেছে অনিশ্চয়তা।

পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে চাষীদের রক্ত জল করা আলু। প্রতিকেজি আলু বিক্রি করে দুই টাকাও পাচ্ছে না চাষীরা। ১৮ কেজি আলু বেচে কিনতে হচ্ছে এক কেজি মোটা চাল। এক কাপ চায়ের দামে বিক্রি হচ্ছে ৩ কেজি আলু।

বীরগঞ্জ উপজেলার প্রাণনগর গ্রামের আলু চাষী আব্দুর রশিদ দুঃখের সঙ্গে জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়ে সমিতি ও এনজিও থেকে ঋণ করে ৮ হাজার টাকার চুক্তিতে এক একর জমিতে আলু লাগিয়েছিলেন। সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরিসহ খরচ হয়েছে ৫৫ হাজার ২শ’ টাকা। জমি চুক্তি ও কৃষি উপকরণ এবং শ্রমিকের মজুরিসহ সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ৬৩ হাজার ২শ’ টাকা। ওই এক একর জমিতে আলু পেয়েছেন ৮ হাজার কেজি। ১ টাকা ৮০ পয়সা কেজি দরে সব আলু বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ১৪ হাজার ৪শ’ টাকা। জমির মালিককে ৮ হাজার টাকা পরিশোধ করে অবশিষ্ট আছে মাত্র ৬ হাজার ৪শ’ টাকা।

শুধু আব্দুর রশিদই নয় এমন হিসাব নিকাশ করে মাথায় হাত দিয়েছেন উত্তরাঞ্চলের হাজারো আলুচাষী। ক্ষুদ্র চাষীরা আলুর আবাদ করে নিঃস্ব হয়ে গেছে।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, এবার রেকর্ড পরিমাণ আলু চাষ বেড়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংস পরিস্থিতির কারণে ঝুঁকিতে পড়ে সর্তকতার সঙ্গে ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করছেন ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন আলু চাষীরা। তবে আলু চাষীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টি সামাল দিতে সরকার ও কৃষিবিভাগ প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র আরো জানান, বীরগঞ্জ উপজেলায় ৬ হাজার ৬শ’ ২০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৩০ হাজার একশ’ ৪৫ টন আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে মোট আবাদ হয়েছে ১০ হাজার একশ’ ২০ হেক্টরে। বাম্পার ফলন হওয়ায় টার্গেট অতিক্রম করে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩শ’ ৫২ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

শুধু বীরগঞ্জে নয়, উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার খ্যাত দিনাজপুরে এবার আগাম আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে আলু তুলে বিক্রি করে শ্রমিকের খরচও না ওঠায় ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে আলু। উৎপাদিত আগাম জাতের আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষক। অন্যদিকে ঋণের দায় আর পাওনাদারদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেক আলু চাষী।

গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার দ্বিগুণ পরিমাণ জমিতে আলু চাষ করেছেন বিরল উপজেলার কৃষক মতিউর রহমান। ফলনও পেয়েছেন ভালো। বেশ খোশ মেজাজেই ছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আলু বিক্রি করতে না পেরে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে সব।

শুধু কৃষক মতিউর নয় এমন অবস্থা দিনাজপুরের অসংখ্য কৃষকের। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জেলার বাইরে আলু পাঠাতে না পারায় এখন হাটে-বাজারে আলুর স্তূপ জমে গেছে। যদিও পানির দামে আলু কিনতে পেরে নিম্নবিত্তরা চাল কেনা কমিয়ে দিয়েছে। এতে তারা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেও আলু চাষীরা দুশ্চিন্তায় রাত কাটাচ্ছেন।

দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের হাটে-বাজারে এখন আলু বিক্রি হচ্ছে ২ টাকা থেকে ৩ টাকা কেজি দরে।

>>শাহ্ আলম শাহী, জেলা প্রতিনিধি, বাংলামেইল২৪ডটকম