দাপুটে জয় পেয়েছে প্রোটিয়াসরা

প্রকাশ:| সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:১৫ অপরাহ্ণ

images00ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টটা সেঞ্চুরি দিয়ে উপলক্ষটা আগেই স্মরণীয় করে রেখেছিলেন জ্যাক ক্যালিস। এবার বিদায়ী টেস্টটা আরও বর্ণিল করে তোলার উপলক্ষও পেয়ে গেলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। জয় দিয়েই ইতি টানলেন ১৮ বছরের দীর্ঘ টেস্ট ক্যারিয়ারটার।
১০ উইকেটের বড় জয় দিয়েই টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র ৫৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেছেন দুই প্রোটিয়া ওপেনার গ্রায়েম স্মিথ ও আলভিরো পিটারসেন। স্মিথ ২৭ ও পিটারসেন ৩১ রান করে অপরাজিত ছিলেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে আর ব্যাট করা হয়নি। তবে প্রথম ইনিংসে টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪৫তম সেঞ্চুরিটি করে ক্যালিসই গড়ে দিয়েছিলেন জয়ের ভিত্তি। দক্ষিণ আফ্রিকা পেয়েছিল ১৬৬ রানের লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল ভারতের। কিন্তু রবিন পিটারসন, ভারনন ফিল্যান্ডার আর ডেল স্টেইনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২২৩ রানেই গুটিয়ে গেছে ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস। অজিঙ্কা রাহানে একাই লড়াই করেছেন। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে করেছেন ৯৬। ভারতের ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২ রান এসেছে পূজারার ব্যাট থেকে। এখান থেকেই বোঝা যায় বাকিদের দুর্দশা।
প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়ে ভারতকে বেশ ভালোই ভুগিয়েছিলেন স্টেইন। আজ ডারবান টেস্টের পঞ্চম দিনের শুরুতেও ভারতকে বড় ধাক্কা দিয়েছিলেন এসময়ের অন্যতম সেরা পেসার। শুরুতেই টানা দুই ওভারে তুলে নিয়েছিলেন ভারতের দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি ও চেতেশ্বর পুজারার উইকেট। এরপর ভারতের প্রতিরোধটা এসেছে শুধু রাহানের ব্যাট থেকেই। রোহিত শর্মা যখন ২৫ রান করে ফিল্যান্ডারের শিকার হন, তখন পাঁচ উইকেট হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ ছিল ১০৪ রান।
ভারতকে এরপর বড় ধাক্কাটা দিয়েছেন পিটারসন। এক ওভারেই তিনি সাজঘরে পাঠিয়েছিলেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রবীন্দ্র জাদেজাকে। রাহানের জন্য নিঃসঙ্গ লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত হয়ে যায়। ভারতের দশটি জুটির ছয়টিতেই আছে তাঁর নাম। অষ্টম উইকেটে জহির খানের সঙ্গে ৩৫ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টাও করেছেন। শেষ দুটো উইকেট জুটিতেও ৩৪ রান যোগ করেছে ভারত। ভারতের প্রথম ৫ ব্যাটসম্যান মিলে করেছেন ১০৪। শেষ ৫ ব্যাটসম্যানই বরং এর চেয়ে বেশি (১১৯) রান এনে দিয়েছেন দলকে।
দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে চারটি উইকেট পেয়েছেন পিটারসন। তিনটি করে উইকেট গেছে স্টেইন ও ফিল্যান্ডারের ঝুলিতে। দুই ইনিংস মিলিয়ে নয়টি উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩৫০ উইকেট পূর্ণ করেছেন স্টেইন। মুত্তিয়া মুরালিধরনের পর তিনিই সবচেয়ে কম টেস্ট খেলে পৌঁছেছেন এই মাইলফলকে। ৩৫০ উইকেট পূর্ণ করতে মুরালিধরন খেলেছিলেন ৬৬টি ম্যাচ। আর ৬৯ ম্যাচ খেলে মাইলফলকটি স্পর্শ করেছেন স্টেইন। নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি রিচার্ড হ্যাডলিও সমানসংখ্যক ম্যাচ খেলে পেয়েছিলেন ৩৫০ উইকেট।
স্টেইনের ৯ উইকেট, ক্যালিসের সেঞ্চুরি—ম্যাচ সেরা কে হবেন বলা কঠিন। তবে ক্যালিসই সেরা হলে স্টেইন নিশ্চয়ই আপত্তি করবেন না। শেষ ম্যাচ, সেঞ্চুরি, সেই সঙ্গে ম্যাচ সেরার পুরস্কার—ইংরেজিতে একেই বলে ‘পারফেক্ট সাইনিং অফ’!


আরোও সংবাদ