দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার শুনানীতে আদালতে ‘হট্টগোল’

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ১১:৪২ অপরাহ্ণ

দশ ট্রাক অস্ত্র মামলাদশ ট্রাক অস্ত্র মামলার শুনানীতে বৃহস্পতিবার আদালতে ‘হট্টগোল’ হয়েছে।

দু’পক্ষের আইনজীবীদের তুমুল বাকযুদ্ধের মাঝে কথা শেষ করতে পারেননি মামলার অধিকতর তদন্তকারি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, আদালতের নির্দেশে তিনি সাক্ষীরা কাঠগড়া থেকে নেমে যান। একই সাথে বিচারক সাক্ষ্যগ্রহনের শেষ ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত দশট্রাক অস্ত্র মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ এস এম মুজিবুর রহমানের বিশেষ আদলতে পূর্ব নির্ধারিত ধার্য্য তারিখে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত করার আবেদনের ওপর শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, মামলার আসামীদের অপরাধ প্রমানের জন্য যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমান আদালতে উপস্থাপন সম্পন্ন হওয়াতে সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত করার আবেদন জানানো হয়।

তিনি বলেন, “আদালত এই আবেদন গ্রহন করেছেন। ২৩ অক্টোবর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ মামলার অধিকতর তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি দেননি।”

পিপি’র অভিযোগ, “আসামী পক্ষ উল্টা-পাল্টা পিটিশন দিয়ে নানাভাবে মামলার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছে।”

এর আগে মামলার অন্যতম আসামী, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফজ্জামানন বাবরসহ ১১ আসামীকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়।

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফজ্জামান বাবরের পক্ষে আদালতে ছিলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সহ সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি আদালতে এই মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা অপরাধ দমন বিভাগ সিআইডির সহকারি পুলিশ সুপার আহাদুর রহমান এবং প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী পুলিশ কনস্টেবল মহিউদ্দিনের জেরা অসমাপ্ত উল্লেখ করে তা শেষ করার আবেদন জানান। এ নিয়েই দু’পক্ষের বাকযুদ্ধ, উত্তেজনা।

লুৎফজ্জমান বাবরের আরেক আইনজীবী এডভোকেট কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, “আদালত দুই অসমাপ্ত সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহনের আবেদন গ্রহন না করায় বাক-বিতণ্ডা হয়েছে।”

২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরের চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার জেটি থেকে দশ ট্রাক অস্ত্র আটক করা হয়েছিল। মামলায় এই পর্যন্ত ৫৬জন এবং চোরাচালান মামলায় ৫৩জন আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন।

দুটি মামলায় অস্ত্র খালাসের সাথে জড়িতদের আসামী করে মামলা করা হয় সে বছরই। ২০১১ সালে আদালতের নির্দেশে অধিকতর তদন্ত করে আবার তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হয়। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফজ্জামান বাবারসহ ১১ জন নতুন করে আসামী করা হয়। তাদের মধ্যে সাবেক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন।