দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে…

প্রকাশ:| সোমবার, ২ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন। ডিসির ‘হাততালি’ সমর্থকদের ‘নৌকা’
বিএনপির নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দশম সংসদ নির্বাচনের শুরুতেই আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ৬৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্বাচনী আচরণ বিধি সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করলেও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার কোন ব্যবস্থাই নেয়নি। উল্টে প্রার্থীদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন এমনকি নিজেরাই বিধি লঙ্ঘন করেছেন।
দশম সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে সোমবার আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার সময় কেউ কেউ এসেছেন মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা সহকারে আবার কেউ কেউ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে।
এসময় তারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নৌকার পক্ষে স্লোগানও দেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ও নিয়ম ভেঙে সবোর্চ্চ সংখ্যক সমর্থক প্রার্থীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে।
এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই রিটার্নিং অফিসার তাদের মৌখিক বা লিখিতভাবে সর্তক না করে উল্টো সাংবাদিকদের ওপর দোষ চাপিয়েছেন।
সোমবার সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার আব্দুল মান্নানের কাছে চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামসুল হক চৌধুরী মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার সময় ডিসি আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আপনারা সবাই হাততালি দেন’।
এসময় ডিসিসহ উপস্থিত নেতাকর্মীরা হাততালি দেন। এরপর দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন ও শামসুল হক চৌধুরী ডিসি ও সহকারি রিটার্নিং সামনে কোলাকোলি করেন।
ঠিক এরপর পরই জেলা প্রশাসকের কাছে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে একে একে মনোনয়নপত্র দেন আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, ফটিকছড়ি আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম, সাতকানিয়ায় আওয়ামী লীগের আবু রেজা নদভী। সকলেই নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যাতিক্রমও করেছেন আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম বিএসসি, ডা. আফসারুল আমীন, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, মাহফুজুর রহমান মিতা।
সব চেয়ে বেশি নির্বাচনী আচরণ লঙ্ঘন করার অভিযোগ উঠেছে, হাটহাজারী আসানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউনুছ গণি চৌধুরী ও বন্দর আসনের এম এ লতিফের বিরুদ্ধে। তারা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আসেন ৩০টির বেশি মোটরসাইকেল ও গাড়ি নিয়ে। এসময় নৌকার পক্ষে স্লোগানও তুলেন তারা।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের নিচে মিছিল শেষ করে এই প্রার্থী যখন মনোনয়ন পত্র জমা দিতে যান তখন তাদের সঙ্গেও ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মী সমর্থক। মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন সোমবারের মধ্যে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে মোট ৬৯ প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
২০১৩ সালের সংশোধিত নির্বাচনী আচরণ বিধির ৮ (ক) ধারায় উল্লেখ আছে, ‘কোন ট্রাক, বাস, মোটর সাইকেল, নৌযান, ট্রেন কিংবা অন্য কোন যান্ত্রিক যানবাহন সহকারে মিছিল কিংবা মশাল মিছিল বাহির করতে পারিবেনা কিংবা কোনরূপ শোডাউন করিতে পারিবেনা।’
৮ এর (খ) ধারা অনুযায়ী, ‘মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় কোন প্রকার মিছিল কিংবা শোডাউন করিতে পারিবেনা।’
কিন্তু নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার আব্দুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এভাবে ধরে ধরে মেইনটেইন করা সম্ভব হয়ে উঠছেনা। প্রার্থীরা তাদের সমর্থকদের না আনলেও বা স্লোগান দিতে না বললেও তারা নিজ থেকে এসব করে থাকে।’
আর বিভাগীয় কমিশনার ও নগরের চার আসনের রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আচরণ বিধির উপর আমাদের নজরদারি আছে। কিন্তু আচরণ বিধি ভাঙছেন সাংবাদিকরাই। আপনারা সাংবাদিকরা একসাথে অফিসে ঢুকে পড়ছেন। আর প্রার্থীরাতো মিছিল করছেন না, স্লোগান দিচ্ছেন না, গাড়ি আনেননি। আচারণবিধিতো মানা হচ্ছেই।’
বিষয়টি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ টেলিফোনে বাংলামেইলকে বলেন, ‘কতটুকু আচরণ বিধি লঙ্ঘন হয়েছে কিংবা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার এর সাথে জড়িত তা না দেখে বলা যাবে না। কেউ যদি কিংবা আপনি (প্রতিবেদক) ই-মেইল বা লিখিত আকারে অভিযোগ দেন, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আর কোন বক্তব্য নেই।’
এ প্রসঙ্গে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখায়াত হোসেন টেলিফোনে বাংলামেইলকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসার কখনোই এই ধরণের আচরণ করতে পারে না। এছাড়া প্রার্থীরা যে ধরণের আচরণ ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তার জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের উচিত ছিল তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া। এখন বিষয়টি তদন্ত করে নির্বাচন কমিশনের দেখা উচিত। না হলে এধরণের আচরণ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’
আলম দিদার, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বাংলামেইল২৪ডটকম

চাঁদপুর-১ আসনে একমাত্র প্রার্থী ম খা আলমগীর
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে আজ সোমবার চাঁদপুরের পাঁচটি আসনের জন্য ১০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ছাড়া অন্য কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি। এ ছাড়া অন্যান্য আসনের মধ্যে চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে এমরান হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দেন।
চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর ও হাইমচর) আসন থেকে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোমিন উল্যাহ পাটওয়ারী ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইকবাল বিন বাশার মনোনয়ন জমা দেন।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শামছুল হক ভূঁইয়া ও জাপার মাইনুল ইসলাম মানু মনোনয়নপত্র জমা দেন।
চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি) আসন থেকে আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম ও জাপা থেকে খোরশেদ আলম মনোনয়নপত্র জমা দেন।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. ইসমাইল হোসেন জানান, ৫ ডিসেম্বর এসব মনোনয়ন যাচাইবাছাই ও প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

৮ আসনে একজন করে প্রার্থী
সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, আটটি আসনে একজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
প্রধান বিরোধী বিএনপি ও তাদের মিত্রদের অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ ১৫টি দলের ১১শ’ প্রার্থী ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মৌলভীবাজার-৪ আসনে আসনে সংসদের প্রধান হুইপ আব্দুস শহীদ একক প্রার্থী।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি।
কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমও মানিকগঞ্জ-২ আসনে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
লালমনিরহাট-২ আসনে নুরুজ্জামান আহমেদ, টাঙ্গাইল-৩ আসনে আমানুর রহমান খান, নোয়াখালী-২ আসনে মোর্শেদ আলম এবং যশোর-১ আসনে আফিল উদ্দিন একক প্রার্থী।মহীউদ্দীন খান আলমগীর চাঁদপুর-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যেখানে আর কোনো প্রার্থী নেই।
আটটি আসনে একক প্রার্থী থাকলেও মনোনয়নপত্র যাছাই-বাছাইয়ে বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। তাই ঘোষিত তফসিল বহাল থাকলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এদের নির্বাচিত হওয়ার জন্য ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন আ.লীগের অর্ধশত নেতা

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে দলটির প্রায় অর্ধশত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়বেন। এই তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বর্তমান সাংসদ, সাবেক সাংসদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, দলের বর্তমান ও সাবেক এসব নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোগাতে পারেন দলটিকে। ফলে, প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে ছাড়াই আওয়ামী লীগের ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার প্রক্রিয়া কিছুটা হলেও বাধাগ্রস্ত হবে।
জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মিজানুর রহমান শেলী প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষোভ থেকে হয়তো তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ ব্যক্তিগত ইমেজ ও জনপ্রিয়তার কারণে জিতে যেতে পারেন। তিনি বলেন, সাময়িকভাবে এটা আওয়ামী লীগের মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। তবে বিএনপি নির্বাচনে এলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারত।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী। দলীয় মনোনয়ন তিনিই পেয়েছেন। তবে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কে এম শফিউল্লাহ বীর উত্তম।
মুন্সীগঞ্জ-২ (টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজং) আসনের বর্তমান সাংসদ সাগুফতা ইয়াসমিন। তবে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাবেক এসপি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ।
পটুয়াখালী-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাংসদ গোলাম মাওলা রনি। দলের মনোনয়ন পাবেন না অনুমান করে দলীয় মনোনয়নপত্রই তোলেননি নানা কারণে আলোচিত এই সাংসদ। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন।
ঢাকা-৪ আসনে বর্তমান সাংসদ সানজিদা খানম। এই আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আওলাদ হোসেন। তবে দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হওয়ায় এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওলাদ হোসেন।
ঢাকা-৬ আসনে বর্তমান সাংসদ মিজানুর রহমান খান। দলীয় মনোনয়ন তাঁকেই দেওয়া হয়েছে। তবে এই আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর রহমান (সহিদ কমিশনার)। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় সাইদুর রহমান এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়বেন।
ফেনী-১, ফেনী-২ ও ফেনী-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন বহুল আলোচিত, বিতর্কিত ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল হাজারী। তাঁর পক্ষে জেলা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আজ এ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। তবে এই তিন আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছেন।
ফরিদপুর-৪ নূর-ই-আলম চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ।
সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যবসায়ী আবদুল মজিদ মণ্ডল। তবে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেত্রী ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সোনিয়া সবুর আকন্দ। তবে এই আসনের বর্তমান সাংসদ ও সাবেক মত্স্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস মনোনয়নপত্র কেনেননি।
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের বর্তমান সাংসদ মিজানুল হক মনোনয়ন না পাওয়ায় ইতিমধ্যে দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নাসিরুল ইসলাম। মিজানুল হক এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
পাবনা-১ (বেড়া একাংশ-সাঁথিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাঈদ। এই আসনে বর্তমান সাংসদ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বর্তমান সাংসদ সোলায়মান জোয়ার্দার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে গত পাঁচ বছরে সোলায়মানের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ শামসুল আবেদিন।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সাংসদ আলী আজগর টগর। আবারও তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ায় পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দর্শনা পৌরসভার সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
যশোর-৫ আসনের বর্তমান সাংসদ খান টিপু সুলতান। তাঁর বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও মনিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন ভট্টাচার্য এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন। স্বপন ভট্টাচার্যের ভাতিজা নিতাই কুমার বৈরাগী প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন। এ জন্য যে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন, সেটা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
যশোর-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে বর্তমান সাংসদ রণজিত্ রায়কে। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক হুইপ শেখ আবদুল ওয়াহাব। ওয়াহাবের পক্ষে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী দিলীপ কুমার গোস্বামী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কুষ্টিয়া-৪ আসনে বর্তমান সাংসদ সুলতানা তরুণকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আবদুর রউফকে। দলের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সুলতানা তরুণ। সুলতানা তরুণের ছেলে গোলাম মোরশেদ পিটার প্রথম আলো ডটকমকে তাঁর প্রার্থীর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া এ আসন থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল হকও স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন।
খোঁজখবর করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ দলীয় পৌর মেয়র, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ প্রায় অর্ধশত প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের সঙ্গে সমঝোতা হলে এসব স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভামণ্ডলীর এক সদস্য জানান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত দলের সঙ্গে তাঁদের সমঝোতা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই সদস্য। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের একজন সদস্য বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ যোগাযোগ করতে পারে।

হেলিকপ্টারে চড়ে নিজ এলাকায় এসে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন
হেলিকপ্টারে চড়ে নিজ এলাকায় এসে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া দুই প্রার্থী। তাঁরা হলেন যশোর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ ও রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের প্রার্থী ও বর্তমান সাংসদ টিপু মুনশী। আজ সোমবার মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে তাঁরা রাজধানী থেকে নিজ নিজ এলাকায় হেলিকপ্টারে চড়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান।
যশোর
কাজী নাবিল আহমেদ আজ দুপুরে হেলিকপ্টারে চড়ে যশোরে আসেন। বেলা সোয়া তিনটার দিকে তিনি যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে অন্তত দেড় শ মোটরসাইকেল ও কয়েকটি প্রাইভেটকারের বহর নিয়ে তিনি যশোর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে নাবিল আহমেদ যশোর বিমানবন্দরে আসেন। দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে শহরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে গিয়ে তিনি পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
পীরগাছা, রংপুর
১৮-দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধের কারণে আজ ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে পীরগাছায় পৌঁছান বর্তমান সাংসদ টিপু মুনশী। তিনি বেলা ১১টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে উপজেলার সুখানপুকুরস্থ হেলিপ্যাডে নামেন। এ সময় পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলার নেতা-কর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। পরে দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলেয়া ফেরদৌসীর নিকট মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এদিকে একই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী করিম উদ্দিন ভরসা বিকেলে রংপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

দেশপ্রেমিক আউট, গডফাদার ইন!

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৩০০ নির্বাচনী আসনের মধ্যে ২৯৭টির প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে। আর তিনটি আসন খালি রেখেছে মহাজোটের শরিক তিন নেতার প্রতি সম্মান দেখিয়ে। এই সম্মানিত নেতাদের মধ্যে একদা স্বৈরাচার এরশাদও আছেন।
তবে আওয়ামী লীগের এই তালিকাই যে চূড়ান্ত নয়, সে কথা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন। ১৪ দলের জোটগত মনোনয়ন দেওয়া হলে তালিকার রদবদল হবে। আর প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে এলে ২০০৮ সালের মতো মহাজোটের ব্যানারে নির্বাচন করার সম্ভাবনাই বেশি।
আমরা যদি আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকার দিকে তাকাই, কী দেখতে পাই?
শেখ হাসিনার পাঁচ বছরের মন্ত্রিসভার ছয়জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার নিজেই নির্বাচন করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। অন্য যে পাঁচজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়েছেন, তাঁদের ভূমিকা বিতর্কিত ছিল।
কিন্তু মন্ত্রী হিসেবে ব্যর্থতা এবং বিতর্কের কারণেই যদি তাঁরা মনোনয়ন না পেয়ে থাকেন, তাহলে তাঁদের চেয়ে আরও বেশি ব্যর্থ ও বিতর্কিতরা কীভাবে মন্ত্রী পদে বহাল আছেন এবং মনোনয়নও বাগিয়ে নিলেন। মন্ত্রিসভার অন্তত একজন সদস্যের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর বাড়ি দখলের অভিযোগ ছিল। (তথ্যসূত্র: মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার উল আলম শহীদের বই ‘রক্ষী বাহিনীর সত্য-মিথ্যা’)। যারা হরতাল ডাকবে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হত্যা করারও ফতোয়া দিয়েছিলেন এই নেতা।
আরও একাধিক মন্ত্রীর সাফল্যের ভাঁড়ার শূন্য হওয়া সত্ত্বেও মনোনয়ন আদায় করে নিয়েছেন নিছক গলাবাজির জোরে। মন্ত্রী হিসেবে যাঁরা সবচেয়ে ব্যর্থ, তাঁরা পাঁচ বছর দলেই বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারে অভাবনীয় পারদর্শিতা দেখিয়েছেন।
এবারে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিতদের মধ্যে সৈয়দ আবুল হোসেনের নামটি বেশ আলোচিত। সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী। পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারিতে তাঁর নাম আসার সময়েই বিভিন্ন মহল থেকে পদত্যাগের দাবি উঠলেও প্রধানমন্ত্রী কর্ণপাত করেননি। এমনকি বিশ্বব্যাংকের চাপে যখন তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, তখনো প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে দেশপ্রেমিক বলে সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। সেই দেশপ্রেমিক এবারে মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আবুল হোসেনকে সরিয়ে দিলে হয়তো বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নিত না আর দক্ষিণবঙ্গের চার কোটি মানুষের স্বপ্নও পূরণ হতো।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী এবারে অতি বিতর্কিত ১২ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। এই ১২ জন হলেন শামীম ওসমান, আবদুর রহমান বদি, আমানুর রহমান খান রানা, নূরন্নবী চৌধুরী শাওন, আবদুস শহীদ, সোলায়মান জোয়ারদার সেলুন, মিজানুর রহমান, মতিউর রহমান, আ স ম ফিরোজ, কামাল মজুমদার, আবু রেজা নাদভী ও জাহাঙ্গীর আলম। এঁদের মধ্যে নবম সংসদের সদস্য যেমন আছেন, তেমনি আছেন নবম সংসদে মনোনয়ন না পাওয়া ব্যক্তিরাও।
তবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে নারায়ণগঞ্জের গডফাদার বলে পরিচিত শামীম ওসমানের মনোনয়ন। এই আসনে আগেরবার মনোনয়ন পেয়েছিলেন সারাহ বেগম কবরী। প্রখ্যাত অভিনেত্রী। এবারে তিনি বাদ পড়লেন কেন জানা গেল না। শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা ছিল। এর সবগুলো এই সরকারের আমলে রাজনৈতিক মামলার নামে প্রত্যাহার বা নিষপত্তি হয়ে গেছে। এখন তিনি মামলামুক্ত। কিন্তু চাঁদাবাজি-দখলবাজির অভিযোগ মুক্ত নন।
১৯৯৬-২০০১ সালে শামীম ওসমানদের জন্যই নারায়ণগঞ্জ চিহ্নিত হতো সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে। পাঁচ বছর দাপট দেখিয়ে নির্বাচনের দিন রাতেই দলের নেতা-কর্মীদের ফেলে বিদেশে পালিয়ে যান তিনি। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনী ডামাডোলে একবার দেশে এলেও আবার তাঁকে চলে যেতে হয়। কখনো ভারতে, কখনো কানাডায়। এরপর ফিরে আসেন ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে।
আগের আমলে দলে শামীম ওসমানের মতো আরও যাঁরা বদনাম কামিয়েছিলেন, ঢাকার মকবুল হোসেন ও হাজি সেলিম, ফেনীর জয়নাল হাজারী—কাউকেই আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়নি। এবারও শামীম ওসমান ছাড়া উল্লিখিত ব্যক্তিদের কারও ভাগ্যে শিকে ছিঁড়েনি।
এই পাঁচ বছরে তাঁর অনেক মহত্ কৃতিত্বের কথা নারায়ণগঞ্জের মানুষ জানেন। শুধু জানেন না, হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। সাংসদ না হয়েও তিনি নারায়ণগঞ্জের ‘নতুন রাজা’ হিসেবে আবির্ভূত। পাঁচটি পরিবহন কোম্পানি সংবাদ সম্মেলন করে শামীম ওসমান ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ এনেছে। এই ‘জনপ্রিয় নেতা’ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেলিনা হায়াত্ আইভীর কাছে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এরপর প্রধানমন্ত্রী গণভবনে ডেকে নিয়ে তাঁদের একসঙ্গে কাজ করার কথা বললেও শামীম পরদিন থেকে মেয়রের বিরুদ্ধে ‘জিহাদে’ নামেন এবং ভয়ভীতি দেখান। তাঁর ভাই নাসিম ওসমান, যিনি জাতীয় পার্টির একজন সাংসদ, বিরোধীদের পিঁপড়ার মতো পিষে মারার হুমকি দিয়েছেন। এঁদের কাছে আইন-কানুন, পুলিশ প্রশাসন, সরকার কিছুই না। তাঁরা যা বলবেন, সেটাই আইন।
সর্বশেষ মেধাবী ছাত্র তানভীর আহমদ ত্বকী হত্যার ঘটনায় শামীম ওসমানের পরিবার জড়িত বলে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঅভিযোগ রয়েছে। কেবল অভিযোগ নয়, মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমান ত্বকী হত্যার সঙ্গে জড়িত।
কিন্তু হত্যার অভিযোগ থাকার পরও কীভাবে আজমেরী বিদেশে গেলেন? ত্বকী হত্যার পর পরই তাঁর বাবা শামীম ওসমান, আজমেরী ওসমান ও অয়ন ওসমানের নাম আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানালেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে র্যাব কলেজ রোডে অবস্থিত আজমেরী ওসমানের টর্চার সেল থেকে রক্তমাখা জিনসের প্যান্ট, লাঠি ইত্যাদি উদ্ধার করে। সেখানে দেয়ালে দেয়ালে অসংখ্য গুলির চিহ্ন। যাঁরা কথিত ব্যবসায়ী অফিসকে টর্চার সেল বানান, তাঁদের সম্পর্কে আইনের রক্ষক সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, সেটি দেখার জন্যই নারায়ণগঞ্জবাসী তথা সারা দেশের মানুষ অপেক্ষা করছে।
ত্বকীর বাবা রাফিউর রাব্বি পুত্র হত্যার বিচারের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, শামীম ওসমান সাংসদ নির্বাচিত হলে ত্বকী হত্যার বিচারপ্রক্রিয়া থেমে যাবে। বিচারের দাবিতে যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে স্বজন হারিয়েছেন ঘাতকের হাতে। ২০০৪ সালে তাঁকেও ঘাতকেরা হত্যা করতে চেয়েছিল। সেই প্রধানমন্ত্রী কি ত্বকীর বাবা-মায়ের আর্তি শুনতে পাচ্ছেন না? বিচারের বাণী কি এভাবেই কাঁদতে থাকবে?
প্রতিটি খুনের রং লাল। প্রতিটি মৃত্যুই শোকের। আশা করি, স্বজনহারা শেখ হাসিনা সন্তানহারা রাফিউর রাব্বির বেদনার ভাষা বুঝতে পারবেন।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন ২.১২.১৩

লালমনিরহাটে অবরোধকারীদের উপর গুলি করলেন রাঙ্গা
লালমনিরহাট-১ আসনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে অবরোধকারীদের উপর গুলি করলেন জাপা নেতা মশিউর রহমান রাঙ্গা। এসময় ১২ অবরোধকারী আহত হয়। এ নিয়ে অবরোধকারীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জানাগেছে, মশিউর রহমান রাঙ্গা লালমনিরহাটে এরশাদের মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে বিকাল সাড়ে ৫টায় রংপুরে ফেরার পথে মহেন্দ্রনগরে তাকে অবরোধ করা হয়। এ সময় শতশত অবোরধকারী গাছের গুড়ি দিয়ে পথ রোধ করে। মশিউর রহমান রাঙ্গা এ সময় তার নিজ পিস্তলের ১৭ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এ সময় রাঙ্গার সহযোগীরাও কয়েক রাউন্ড বন্দুকের গুলি ছোড়ে। এ ব্যাপারে মশিউর রহমান রাঙ্গার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি মানবজমিনকে জানান, এরশাদের মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় গাছ ফেলে ডাকাতরা আমার উপর হামলা করে। আমি আত্মরক্ষায় ১৭ রাউ- ফাঁকা গুলি ছুড়ি। তবে কেউ আহত হয়েছে কিনা তা জানি না। লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, মশিউর রহমার রাঙ্গা যাওয়ার সময় তার উপর হামলা হয় শুনেছি। তিনি আত্মরক্ষায় ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে শুনেছি। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাবলা বলেন, এর বিচার না করলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ভয়ে ও আতংকে নির্বাচনী ্এলাকায় গিয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারেননি জাতীয় পার্টির ৩৮ জন
ভয়ে ও আতংকে নির্বাচনী ্এলাকায় গিয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারেননি জাতীয় পার্টির ৩৮ জন প্রার্থী। জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ প্রেসিডিয়ামের সদস্যরা ঢাকায় থেকেই প্রতিনিধির মাধ্যমে মনোনয়ন পত্র জমা দেন। তবে, ঢাকা ১৭, লালমনিরহাট-১ ও রংপুর -৩ আসনে প্রতিনিধির মাধ্যমে মনোনয়ন পত্র জমা দেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পাশাপাশি গাইবান্ধা -৫ আসনে প্রতিনিধির মাধমে মনোনয়ন পত্র জমা দেন তার সহধর্মীনি বেগম রওশন এরশাদ। এছাড়া নিরাপত্তাজনিত কারণে রংপুর-৫ আসনে ফকরুজ্জামান জাহাঙ্গীর,মানিকগঞ্জ-২ আসনে এসএম আব্দুল মান্নান ও চাঁদপুর -৩ আসনে ডা: শহিদুল ইসলামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে দল মনোনীত অন্ততপক্ষে ৩৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারেনি।
মানবজমিন ২.১২.১৩