দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচন অনিশ্চিত

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ০৭:১১ অপরাহ্ণ

উপনির্বাচনআগামী ডিসেম্বরে দেশের ২৪৫টি পৌরসভা নির্বাচন দলীয়ভাবে হবে কি না তা এখনো অনিশ্চিত। পৌরসভা নির্বাচনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে এ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসেবে ডিসেম্বরের মধ্যে পৌর নির্বাচন শেষ করতে হবে।

গত ১২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশে বিরাজমান পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার আইনের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এগুলো হচ্ছে- ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) আইন, ২০১৫’, ‘উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৫’, ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৫’, ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) আইন, ২০১৫’ ও ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০১৫’।

ওই দিন বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সচিব সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরে দলীয়ভাবে পৌরসভার নির্বাচন করতে হলে আগামী সাত দিনের মধ্যে অধ্যাদেশ জারি করতে করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশ জারি হলে পৌরসভা নির্বাচন দলীয়ভাবে করা যাবে।

কিন্তু ইসি সচিবের এ বক্তব্যের পর ৯ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত অধ্যাদেশ জারি হয়নি। সেক্ষেত্রে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য দেশের ২৪৫টি পৌরসভা নির্বাচন দলীয়ভাবে হবে কি না তা অনিশ্চিত।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সচিব সিরাজুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, ‘বর্তমান আইন অনুযায়ী প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবেই হয়ে থাকে। অধ্যাদেশ জারি করার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। যেকোনো দিন অধ্যাদেশ জারি করতে পারে সরকার। অধ্যাদেশ বা সংসদে আইন পাস হলে দলীয়ভাবে পৌরসভা নির্বাচন করা হবে। অন্যথায় বর্তমান আইন অনুযায়ী নির্দলীয়ভাবেই পৌর নির্বাচন করা হবে। তবে আমরা এই নির্বাচন দলীয়ভাবে করার জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’

এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন অভিন্ন নীতিমালার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তাই প্রয়োজনীয় বিধিমালা তৈরি করার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত একাধিক খসড়া আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এ ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে ইসি। এজন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিধিমালার সঙ্গে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কোথায় কী ধরনের সাদৃশ্য আর পার্থক্য রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে ইসি।

কমিশন সূত্র আরো জানায়, সম্প্রতি কমিশন বৈঠকে অভিন্ন আচরণবিধি ও বিধিমালা তৈরির বিষযে আলোচনা করা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বিধান রয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে এ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান আছে।

তাই প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিনসহ অন্য কমিশনার এ বিষয়ে একমত পোষণ করে। স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে করতে হবে।

গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রেসব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূইঞা জানিয়েছিলেন, আগামী ডিসেম্বরে পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ অধিবেশন না থাকায় অধ্যাদেশ জারি করা হবে। পরে তা জাতীয় সংসদে আইন আকারে পাস করা হবে।