দর্শনায় পুলিশ-শিবির সংঘর্ষে এক শিবিরকর্মী নিহত

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৮:০১ অপরাহ্ণ

রফিকুল ইসলাম
এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার দোয়া, শনিবার বিক্ষোভ ও রোববার চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ চারটি জেলায় হরতালের ডাক দিয়েছে জামায়াত-শিবির
দামুরহুদা উপজেলার দর্শনায় পুলিশ-শিবির সংঘর্ষে রফিকুল ইসলাম (২২) নামে এক শিবিরকর্মী নিহত হয়েছে। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়েছে আরেকজন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দর্শনা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার প্রতিবাদে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলায় রোববার হরতাল ডেকেছে। চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

নিহত রফিকুল চুয়াডাঙ্গা সদরের বোয়ালিয়া গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে। তিনি একই উপজেলার বদরগঞ্জ বাকিবিল্লাহ কামিল মাদরাসার ছাত্র। অপর গুলিবিদ্ধ শিবির কর্মীর নাম আবদুল্লাহ (২০)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের মুক্তির দাবিতে দর্শনায় শিবিরের পক্ষ থেকে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে পাঁচশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেয়। মিছিলটি দর্শনা বাজার থেকে বাসস্ট্যান্ডে যায়। সেখানে সমাবেশ করে।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা কেরু চিনিকল রেস্ট হাউজের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাঁধা দেয়। এসময় পুলিশের সাথে শিবিরকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ থেকে গুলি ছোড়া হয়। এতে রফিকুল মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রুহুল আমিন জানান, শিবিরের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে ফেরার সময় পুলিশ বিনা উসকানিতে পেছন থেকে উপুর্যপরি গুলি ছুড়লে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এসময় রফিকুল মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পুলিশ সুপার আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী জানান, কেরু চিনিকল এলাকায় অবস্থিত পূজামণ্ডপে হামলার আশঙ্কায় শিবির কর্মীদের মিছিলে বাঁধা দেয়া হয়। ওই সময় চার/পাঁচশ শিবিরকর্মী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ১৫ রাউন্ড গুলি চালালে এক শিবিরকর্মী আহত হয়। আহতকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।