দরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন ড. কামাল হোসেন

প্রকাশ:| শনিবার, ৭ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ০৬:০৯ অপরাহ্ণ

ড. কামাল হোসেনগণফোরাম সভাপতি ও সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন না হলে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কোন বাধা নয়। জনগণের জন্য, জনগণের শান্তির জন্য পঞ্চদশ সংশোধনীকে বাদ দিয়েই নির্বাচন করতে হবে। তিনি সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, কথায় কথায় পঞ্চদশ সংশোধনীর কথা বলেন। আমাদের সামনে খোঁড়া অজুহাত দাঁড় করাবেন না। সংবিধানের বাইরে নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই, এটি একটি অজুহাত। এই সংশোধনীর কোথাও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করা যাবে না- এমন উল্লেখ নেই। উচ্চ আদালতের আদেশে আরও দুটি টার্ম নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া আছে। এ বিষয়ে খোলামেলা বিতর্ক করতে চাই। কে অংশ নেবেন, আমাদের সামনে আসুন। গতকাল ৬ই ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণফোরাম আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। ড. কামাল বলেন, আমরা কোন বিরোধী পক্ষে নই। দেশের শান্তি ও নীতির প্রশ্নে আজ আমরা ঐক্যবদ্ধ। এই দেশ কোন গোষ্ঠীর, দলের বা মানুষের নয়। দেশের ১৬ কোটি মানুষ শান্তি চায়। জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য জনগণের ঐক্যবদ্ধ জয় প্রয়োজন। এ জন্য দরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন। চলমান রাজনীতি গভীরভাবে রোগাক্রান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। নির্বাচনের নামে জ্বালাও-পোড়াও শুরু হয়েছে। আমরা দেশের ভেতরে আর কোন যুদ্ধ চাই না। একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য আগুন নয়। বুকের আগুনই যথেষ্ট। দুদলকে দেশের মানুষ, আইনের শাসন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে গণফোরাম সভাপতি বলেন ২০০৮-এ নির্বাচন করিয়ে দিলাম। কৃতজ্ঞতা চাইনি। ১৪ দলে আমরাও ছিলাম। সেই ১৪ দলের নামে নিরপেক্ষ নির্বাচনকে বিতর্কিত করা হচ্ছে। দেশ ধ্বংস হোক আর আপনি আপসহীন থাকবেন এটা হতে পারে না। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ওপর নির্ভর করে, এটি বড় লজ্জার। তিনি বলেন, ৬ই ডিসেম্বর নিয়ে আমরা এখন গর্ব করতে পারি না। ওই পতিত স্বৈরাচার দাঁত বের করে হাসছেন আর বলছেন ‘দেখো আমাকে কত দরকার’। মান্না বলেন, এরা লোভী। আর এদের লোভ দেখান প্রধানমন্ত্রী। যে পাপ এরশাদ করছেন সেই পাপ করার জন্য সহযোগিতা করছেন প্রধানমন্ত্রী। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে নিহত শহীদ ডা. মিলনের মা সেলিনা আক্তার বলেন, স্বৈরাচারকে নিয়ে যে অসুস্থ রাজনীতি শুরু হয়েছে, তা বন্ধ হওয়া দরকার। দুই নেত্রী তাকে ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করতে চান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এ জন্যই কি আমাদের সন্তানরা প্রাণ দিয়েছিল? সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ প্রমুখ।