দম ফেলার ফুরসত নেই কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীদের

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০২:২৬ অপরাহ্ণ

কাঁচা চামড়া লবণ দিয়ে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে গুদামে তোলা হবে।
কাঁচা চামড়া লবণ দিয়ে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাতকোরবানির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আড়তদাররা প্রায় ৪ লাখ ১০ দশহাজার গরু ও প্রায় ৬০ হাজার মহিষ ও খাসি-বকরির চামড়া সংগ্রহ করেছেন। যা তাদের টার্গেটেরও বেশি। বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও চামড়া সংগ্রহের কাজ চলছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

চামড়া সংগ্রহ এর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে তাই এখন দম ফেলার ফুরসত নেই কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীদের।

আড়তদাররা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে কমপক্ষে আরও প্রায় এক লক্ষ চামড়া সংগ্রহ হবে। আর এবারের চামড়া সংগ্রহের পরিমাণ গত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে বলে তারা জানান।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন,‘এবার অন্যন্য বছরের তুলনায় বেশি পশু কোরবানি হওয়ায় চামড়াও বেশি। কোরবানির পর থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা আমরা গরু-মহিষ ও ছাগল মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার লাখেরও বেশি চামড়া সংগ্রহ করেছি। আজকের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে কমপক্ষে আরও এক লক্ষ চামড়া সংগ্রহ করতে পারবো বলে আশা করছি।’

সংগৃহীত এসব চামড়া বুধবার রাত থেকেই লবণ এবং বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সনাতন পদ্ধতিতে রোদে শুকানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে সরবরাহ বেশি হওয়ায় গতবারের চেয়ে এবছর বেশি চামড়া সংগ্রহ করতে পেরেছেন আড়তদাররা। তবে এবার গতবারের তুলনায় তাদের কিছুটা বেশি দাম দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি মুসলিম উদ্দিন।

তিনি জানিয়েছেন, গতবার চামড়া সংশ্লিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠান চামড়ার দাম নির্ধারণ না করলেও এবার তারা নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট চামড়া ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়, মহিষ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়, খাসির চামড়ার দর প্রতি বর্গফুট ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং বকরি চামড়া ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।

মুসলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, ট্যানারি মালিকরা ৭৫টাকা নির্ধারণ করে দিলেও কাঁচা চামড়া কেনার পর লবণ ও অন্যান্য খরচ মিলে ২০টাকা অতিরিক্ত ধরে আমরা ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন,‘চামড়ার কোন ভাল-মন্দ না বুঝে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বেশি দামে কাঁচা চামড়া কেনায় আমাদেরকে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে প্রতি বর্গফুট চামড়া কিনতে হয়েছে।’

বেশি দামে কেন কিনলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বাংলানিউজকে বলেন,‘দেশের সম্পদ পাচার হবে কিংবা নষ্ট হবে। তাছাড়া আমরা অনেক আগে থেকেই অগ্রিম পুঁজি বিনিয়োগ করেছি, আমাদের ব্যবসা তো ধরে রাখতে হবে। তাই বেশি দাম দিয়ে চামড়া কিনেছি।’

এবার অনেক চামড়া চট্টগ্রামের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে আড়তদাররা অতিরিক্ত দামে চামড়া কেনার কথা জানালেও অনেক মৌসুমী বিক্রেতা তাদের আশানুরুপ দাম পাননি বলে জানিয়েছেন।

নগরীর আগ্রাবাদে চৌমুহনী এলাকার আবদুর রাজ্জাক ও কবির আহমেদ ব্যবসায়ী বলেন, ‘বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে বেশি দামে চামড়া কেনার পরও ন্যায্য দাম পাইনি। ট্যানারি মালিকরা দাম নির্ধারণ করে দিলেও আড়তদাররা আমাদের কাছে থেকে ৬০ টাকা বর্গফুট দরে কিনেছেন। এদিকে চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়া ও লোকসানের আশঙ্কায় বাধ্য হয়েই এসব চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে।’

তবে আড়তদার খোরশেদ আলম বলেছেন,‘চাহিদা ও সরবরাহ বেশি থাকলেও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কারণে আমাদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। আমরা এরচেয়েও কম দামে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করতে পারতাম।’

প্রসঙ্গত, এবার বৃহত্তর চট্টগ্রামে কুরবানির ঈদে প্রায় ৪ লাখ কাঁচা চামড়া সংগ্রহের টার্গেট নির্ধারণ করেছিল বন্দরনগরীর আড়তদাররা। এরমধ্যে তিন লাখ পিস গরুর চামড়া, ৭৫ হাজার ছাগল এবং ৫ হাজার মহিষের চামড়া।

কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এবার চার লাখ গরু, ৫৫ হাজার ছাগল এবং প্রায় ৫ হাজার মহিষের চামড়া কেনা হয়েছে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বাংলানিউজকে বলেন,‘পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায়
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টার্গেট পূর্ণ হয়ে গেছে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও চামড়া আসছে।’

তিনি জানিয়েছেন, সংগৃহীত কাঁচা চামড়া লবণ দিয়ে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে গুদামে তোলা হবে। এরপর সেগুলো আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তা ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করা হবে।