দখলবাজ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়লেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

প্রকাশ:| শনিবার, ৯ আগস্ট , ২০১৪ সময় ০৭:৪১ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের দখলবাজ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়লেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

দখলবাজ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়লেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালশনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনা-চট্টগ্রাম’ শীর্ষক ১৪ দল আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী দখলবাজদের সমালোচনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রী তার বক্তব্যে সড়ক-মহাসড়ক, ফুটপাত, বাইপাস, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ রোড দখলের প্রসঙ্গ টেনে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ রোডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কক্সবাজারে গিয়ে দেখলাম, মেরিন ড্রাইভ রোড যেটা হচ্ছে সেটা ইতোমধ্যে উদ্বাস্তূরা দখল করে ফেলেছে।

এসময় উপস্থিত ১৪ দলের এক নেতা রোহিঙ্গারা দখলের সঙ্গে জড়িত মন্তব্য করলে ক্ষ্যাপে যান পরিকল্পনা মন্ত্রী। তিনি বলেন, কিসের রোহিঙ্গা। সব আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ। এরাই দখলের সঙ্গে জড়িত। ক্ষমতায় আসলে সবাই আওয়ামী লীগ হয়ে যায়। তারপর আওয়ামী লীগ-বিএনপি পার্টনারশিপ করে দখলবাজি করে।

তিনি ১৪ দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের বাড়ির সামনের ফুটপাত দখল হয় কিভাবে ? সীতাকুণ্ড-মিরসরাইয়ে বাইপাস রোড কারা দখল করেছে ? এখন ফোর লেইন রাস্তা হচ্ছে। দেখা যাবে সেটাও দখল হয়ে গেছে। দশ লেইনের রাস্তা করলে সেটাও দখল হয়ে যাবে।

নেতাদের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী আরও বলেন, সস্তা রাজনীতি করতে চাইলে কিছুই পাবেন না। নিয়মানুবর্তিতা না থাকলে বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে আসবেনা।

চট্টগ্রামে আগামী পাঁচ বছরে ৮০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হবে জানিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম সারা বাংলাদেশের উন্নয়নের সেতুবন্ধন। আগামী এক থেকে দেড় বছরে আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা দৃশ্যমান হবে।

গভীর সমুদ্রবন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ড থেকে আমরা প্রস্তাব পেয়েছি। এসব প্রস্তাব যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। অনেকে তাদের ব্যবস্থাপনায় দেয়ার কথা বলছেন। আমরা বলছি গভীর সমুদ্রবন্দর যখন করবো, তার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও আমরা রাখবই।

কক্সবাজারের মহেশখালীকে বিদ্যুৎ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে। মহেশখালীতে পর্যায়ক্রমে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা কর‍া হবে। আর দশ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যত কয়লা প্রয়োজন সেই পরিমাণ কয়লা আসতে পারে মত মহেশখালীতে একটি পোর্ট নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া অচিরেই এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজও শুরু করা হবে বলে জানান পরিকল্পনা মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে বারিক বিল্ডিং হয়ে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা আমাদের আছে। চীনের একটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে সেই প্রস্তাব ও দিয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্ত নেব।

তিনি বলেন, শুধু উন্নয়নের স্বপ্ন দেখলে হয়না, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সক্ষমতা থাকতে হয়। উন্নয়নের স্বপ্ন শেখ হাসিনা দেখেন এবং সেটা বাস্তবায়ন করেন। আসলে শেখ হাসিনাই পারেন এবং শেখ হাসিনাই পারবেন।

নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি ও সাংসদ মঈনুদ্দিন খান বাদল। উন্নয়ন প্রস্তাবনা পেশ করেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম।

এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি বেণু কুমার দে, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ই‌উনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার, নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শফর আলী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ, সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাচ্চু, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সভাপতি প্রকৌশলী মো.হারুন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক, জাসদ নেতা ইন্দুনন্দন দত্ত প্রমুখ।