দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের দুই গ্রুপে হাতাহাতি,হাতবোমা

প্রকাশ:| শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

d cattrodolচট্টগ্রামে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের দুই গ্রুপে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার বিকেলের দিকে নগরীর নিউ মার্কেট সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

কর্মী সমাবেশ শুরু হওয়ার আগে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের বিভক্ত নেতাকর্মীরা নিউমার্কেট মোড়ে প্রথমে হাতবোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এরপর সমাবেশ শুরুর পর এক পর্যায়ে একে অপরের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তারা।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ছোরাসহ হেলাল (২২) নামে এক ছাত্রদল কর্মীকে আটক করেছে।

হাতাহাতি চলাকালে সভায় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি জাবেদ হাসান স্বাধীনসহ আরো কয়েক জন সিনিয়র নেতা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার ছাত্রদলের মতবিনিময় সভার এক পর্যায়ে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শহীদুল ইসলাম লিটন বিএনপি নেতা গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েলের সুনাম করে বক্তব্য শুরু করলে জাফরুল ইসলামের সমর্থকরা হৈ চৈ শুরু করে।

এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। এ সময় প্রতিপক্ষের আঘাতে শাহজাহান জুয়েলের অনুসারী দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল কাদের আহত হন। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের বিবাদমান দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে আলকরণ মোড়, দক্ষিণ জেলা বিএনপির কার্যালয় দোস্ত বিল্ডিংয়ের নিচে এবং শাহ আমানত মার্কেটের সামনে অবস্থান নেয়।

এসময় তারা একে অন্যের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক শ্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে নিউ মার্কেট মোড়ে পরপর সাতটি হাতবোমার বিষ্ফোরণ ঘটায় এক পক্ষের নেতাকর্মীরা। একের পর এক হাতবোমা বিষ্ফোরণের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ওই এলাকায় বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচলও। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির এক সদস্য বলেন, “গাজী শাহজাহান জুয়েলের সমর্থকরা তার পক্ষে বক্তব্য দিতে গেলে জাফরুল ইসলামের সমর্থক নেতাকর্মীরা শোরগোল শুরু করলে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।”

কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নেজাম উদ্দিন বলেন, “দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল করছিল। এসময় কে বা কারা সাতটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরে পরিস্থিতি আমরা স্বাভাবিক করি। ঘটনাস্থল থেকে হেলাল নামে এক ছাত্রদল কর্মীকে ছোরাসহ আটক করা হয়েছে।”

দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের সভা পণ্ড করতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এর সাথে জড়িতরা ছাত্রদলের কেউ নয়।”

এদিকে সংঘর্ষের কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর শুরু হয় মতবিনিময় সভা।

দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জসীম উদ্দীনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি জাবেদ হাসান স্বাধীন।

বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সম্পাদক মশিউর রহমান মিশু, সহ সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, সহ সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম, সদস্য মো. কামাল উদ্দীন প্রমুখ।