দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার ৫০ গ্রামে ঈদ উদযাপন

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০২:২৮ অপরাহ্ণ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার কমপক্ষে ৫০ গ্রামের অন্ত:ত দু’হাজার পরিবার বৃহস্পতিবার মুসলমান mizarkil anuaraসম্প্রদায়ের পবিত্র ও সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন।

দেশে প্রচলিত নিয়মের একদিন আগেই ঈদ উদযাপনকারীদের অধিকাংশই চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার সিলসিলিয়া আলীয়া জাহাগীর পীর দরবার শরীফের অনুসারী। সাধারণত সৌদিআরবের সঙ্গে মিল রেখে তারা প্রতিবছর ঈদ উদযাপন করেন।

এবারও এসব গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঈদের আনন্দে মেতে উঠেছেন।

আগেভাগে ঈদ পালনকারী গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মীর্জারখীল, চরতি, সুইপুর, ঘাসিয়াডাঙ্গা, কেরাণীহাট, বাংলাবাজার, মাইশ্যামুড়া, খোয়াছপাড়া, বাজালিয়া, কাঞ্চনা, গাঠিয়াডাঙ্গা, পুরানগর, ও মালেয়ারা, পটিয়া উপজেলার কালারপোল, হাইদগাঁও, মল্লপাড়া, বাহুলী, মাঝেপাড়া, চন্দনাইশ উপজেলার পশ্চিম এলাহাবাদ, উত্তর কাঞ্চননগর, জুনিগোনা, আব্বাস পাড়া, মাঝেরপাড়া, স্টেশন, নতুনপাড়া, দিঘিরপাড়া, কুন্দুপাড়া, কেশুয়া, বরকল, মোহাম্মদপুর, বরমা, হারালা, সাতবাড়িয়া, উত্তর হাশিমপুর, সৈয়দাবাদ, খুনিয়ারপাড়া, আনোয়ারার তৈলারদ্বীপ, বুরুমছড়া, বারখাইন, সরকারহাট, গহিরা, বারশত, বাথুয়া, বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর, চাম্বল, শেখেরখীল, পূঁইয়াছড়া, মিরিঞ্জিতলা, ছনুয়া, গন্ডামারা, সাধনপুর, ডোমার, বোয়ালখালীর চরণদ্বীপ, খরণদ্বীপ এবং লোহাগাড়ার ধর্মপুর, বড়হাতিয়া, আমিরাবাদ, চুনতি, পুঁটিবিলা, সুখছড়ি, আধুনগর ও কলাউজান।

এছাড়া উত্তর চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার বাড়বকুন্ড ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেও বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে।

জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টায় সাতকানিয়া উপজেলার রহমতের পাড়া গ্রামের জাঁহাগিরিয়া জামে মসজিদে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সকালে প্রায় তিন হাজার লোক ঈদের নামাজ আদায় করেছেন বলে স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে।

সকাল ৯টায় চন্দনাইশ দরবারের ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামাত পরিচালনা করেন দরবার শরিফের পীর মাওলানা হজরত শাহ সুফি সৈয়দে মোহাম্মদ আলী।

এরপর ঈদের বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে আনোয়ারার সরকার হাট এলাকার হযরত লতিফ শাহ’র মাজার সংলগ্ন তৈলারদ্বীপ মসজিদে।

সাতকানিয়া থানার ওসি আব্দুল লতিফ বাংলানিউজকে বলেন, ‘সাতকানিয়ার বেশ কয়েকটি গ্রামে আজ (বৃহস্পতিবার) ঈদ হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন ঈদ জামাতে সকালে পুলিশ মোতায়েন করেছিলাম।’

চট্টগ্রামে রোববার একদিন আগে ঈদ পালনকারীদের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সাতকানিয়ার মীর্জারখীল জাহাগীর পীরের দরবার শরীফে।

সাতকানিয়ার মত চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানের ঈদ জামাতে শরীক হয়েছেন আগেভাগে ঈদ পালনের মতবাদে বিশ্বাসী শত শত মানুষ। ঈদের সকালে নতুন জামাকাপড় পড়ে শরীক হয়েছেন শিশুরাও।

লোকমুখে প্রচলিত আছে, প্রায় দু’শ বছর আগে পীরসাহেব তার মুরিদদের নির্দেশ দিয়েছিলেন সৌদিআরবে যেদিন চাঁদ দেখা যাবে পরদিন থেকেই বিশ্বের সকল স্থানে রোয়া পালন শুরু হবে।

একইভাবে ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহাও পালন করতে হবে সৌদিআরবের অনুসরণে। এরপর থেকেই এসব গ্রামে সৌদিআরবের রীতি অনুসারে রোযা ও দুটি ঈদ পালন চলে আসছে।

এসব গ্রামে গত ৯ জুলাই থেকে রোযা শুরু হয়েছিল। সে হিসেবে আজ (বৃহস্পতিবার) তাদের ৩০ রোযা পূর্ণ হয়েছে।