থাই উপকূলে ‘ভিড়লো’ রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| সোমবার, ২ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ০৯:৪৬ অপরাহ্ণ

প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে একটি নৌকা থাইল্যান্ডের দক্ষিণ সীমান্তে ভিড়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, বাংলাদেশে শরণার্থী ক্যাম্পে মানুষের চাপ বেড়ে যাওয়ায় আবারো নৌকায় মানবপাচার শুরু হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে গত আগস্টে শুরু হওয়া সেনাবাহিনীর উচ্ছেদ অভিযানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ১১ লাখেরও বেশি মানুষ শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ যাকে বলছে, জাতিগত নিপীড়ন ও উচ্ছেদ।

থাইল্যান্ডের ক্রাবি প্রদেশের পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় প্রবল ঝড়ের কবলে ৫৬ জন শরণার্থীকে নিয়ে বহনকারী নৌকাটি লান্টা দ্বীপে আশ্রয় নেয়। এর আগে ২০১৫ সালের শেষার্ধে বাংলাদেশের টেকনাফ ও কক্সবাজার থেকে মানবপাচারের শিকার হয়ে আসা রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিদের বহনকারী নৌকা এবং মানুষের মরদেহ পাওয়া যায় থাই সীমান্তে।

লান্টা পুলিশের প্রধান কর্নেল এমএল পাতানাজাক চাক্রাবন্ধু রয়টার্সকে বলেন, আমরা তাদের মানবিক দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছি এবং আবারো সাগরে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছি। কারণ তারা মালয়েশিয়ার পথে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। স্থানীয়রা শরণার্থীদের খাবার এবং পানিও সরবরাহ করেছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে ২০১২ সালে রাখাইন প্রদেশে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে দশ হাজার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষ শরণার্থী হয়ে সাগরে পাড়ি জমায়। এর মধ্যে অনেকেই মানবপাচারের শিকার হন।

এ বিষয়টি ব্যাপকভাবে নজরে আসে যখন ২০১৫ সালে প্রায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি মানুষ সাগরপথে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ায় মানবপাচারের শিকার হন।

মানবাধিকার সংস্থ্যাগুলো ধারণা করছে, আগের মতো না হলেও আবারো সাগরপথে মানবপাচার শুরু হয়েছে হয়তো।

ফর্টি রাইটসের অ্যাডভোকেসি গ্রুপের কো-ফাউন্ডার ম্যাথিউ স্মিথ বলেন, আমরা আমাদের অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি, শরণার্থী বোঝাই আরো নৌকা সাগরে রয়েছে। বাংলাদেশে শরণার্থীদের মানবিক বিপর্যয় ঘটছে প্রতিনিয়ত।

মালয়েশিয়ার কোস্ট গার্ডের প্রধান জুলফিকার আবু বকর বলেন, এখনো আমরা এ ধরনের নৌকা পাড়ে ভিড়ার কোনো খোঁজ পাইনি। আমরা হয়তো তাদের দেশে প্রবেশ করতে দেবো এবং খাবার সরবরাহ করবো। কিন্তু আমাদের ভাবনা হচ্ছে, আমরা যদি একটি নৌকাকে প্রবেশের অনুমতি দেই পরের নৌকাগুলোকেও প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। আমরা খোঁজ রাখছি।


আরোও সংবাদ