ত্রুটি সত্ত্বেও, গণতন্ত্রেই আস্থা বাংলাদেশীদের

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ০৫:৩৭ অপরাহ্ণ

ত্রুটি সত্ত্বেও, গণতন্ত্রেই আস্থা বাংলাদেশীদেরগণতন্ত্রে নানা অসঙ্গতি, ত্রুটি ও সমস্যা থাকা সত্ত্বেও, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রকামী। অন্য যে কোন সরকার ব্যবস্থার চেয়ে তারা গণতন্ত্রের ওপর অধিক আস্থাশীল। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট নামে একটি সংস্থার এক জনমত জরিপে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। গতকাল জরিপটি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হচ্ছে, গণতন্ত্রে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী গণতন্ত্রে আস্থা রাখেন। নানা সমস্যার আবর্তে থাকা সত্ত্বেও, অন্য যে কোন সরকার ব্যবস্থার চেয়ে গণতন্ত্র শ্রেয়তর বলে মনে করছেন জরিপে অংশ নেয়া ৮১ শতাংশ মানুষ। তাদের ৫৩ শতাংশ দৃঢ়ভাবে গণতন্ত্রকে সমর্থন করেন। বাকি ২৮ শতাংশ মানুষও কোন না কোনভাবে সমর্থন করছেন গণতন্ত্রকেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গণতন্ত্রকে ভালো বলে মনে করছেন ৮৩ শতাংশ মানুষ। একনিষ্ঠভাবে বিষয়টিকে সমর্থন করছেন ৪১ শতাংশ মানুষ। বাকি ৪২ শতাংশ মানুষ দৃঢ়ভাবে বিষয়টিকে সমর্থন না করলেও, তারা এর সঙ্গে একমত। অবশ্য, অপর এক প্রশ্নের প্রতিক্রিয়ায় ৬৮ শতাংশ মনে করেন, গণতন্ত্র ভীষণভাবে কলহপূর্ণ এবং ৪৫ শতাংশের ধারণা, গণতন্ত্রে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বেশ খারাপভাবেই পরিচালিত হয়। নিয়েলসেন-বাংলাদেশ জরিপটি চালায় এ বছরের ২৩শে মে থেকে ১০ই জুন পর্যন্ত। ১৮ বছর বয়সী ও তদুর্ধ্ব ২ হাজার ৫৫০ জনের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করে আইআরআই। গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারসের রব ভ্যারসালোন ও আইআরআই জনমত জরিপটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন। গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির মধ্যে একটি বেছে নেয়ার মাধ্যমেও জরিপে অংশগ্রহণকারীরা তাদের পছন্দের অগ্রাধিকারের বিষয়টি সুস্পষ্ট করেন। সমৃদ্ধ অর্থনীতির চেয়ে তারা অনেকটাই এগিয়ে রাখছেন গণতন্ত্রকে। গত বছর যেখানে ৬৫ শতাংশ মানুষ দ্ব্যর্থহীনভাবেই গণতন্ত্রকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন, সেখানে এ বছর ৩ শতাংশ বেড়ে এ হার দাঁড়িয়েছে ৬৮ শতাংশে। অন্যদিকে, গত বছর সমৃদ্ধ অর্থনীতির পক্ষে ছিলেন ৩০ শতাংশ মানুষ। এ বছর সে সমর্থন কমে দাঁড়িয়েছে ২৭ শতাংশে। এদিকে জনমত জরিপে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সেনাবাহিনী, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) প্রতি সমর্থন অনেক বেড়েছে। জরিপে অংশ নেয়া উত্তরদাতাদের ৮৬ শতাংশ সেনাবাহিনী, ৮৩ শতাংশ গণমাধ্যম, ৮০ শতাংশ সুশীল সমাজ ও র‌্যাবের পক্ষে রয়েছেন ৭৬ শতাংশ মানুষ। তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক দলসমূহ, পুলিশ ও সংসদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন অধিকাংশ মানুষ। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় তারা হাতাশাগ্রস্ত। ৮৮ শতাংশ মানুষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পক্ষে। ৬৭ শতাংশ দৃঢ়ভাবে এবং ২১ শতাংশ মানুষ একনিষ্ঠভাবে না হলেও, এর সঙ্গে সহমত পোষণ করছেন। তারা মনে করেন, নির্বাচনে অংশ নেয়ার মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক পালাবদলের সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি প্রভাবিত করার সুযোগ পান তারা। তবে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ৯৪ শতাংশ মানুষ সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে ছিলেন। পরবর্তী সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পূর্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা। ৪৩ শতাংশ মানুষ অবিলম্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে। অপরদিকে, ৪০ শতাংশ মনে করছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরই সাধারণ নির্বাচন দেয়া উচিত।