ত্রিপুরা পল্লীর হাম থেকে সুস্থ ২০ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই , ২০১৭ সময় ০৯:০৫ অপরাহ্ণ

সীতাকুন্ডে ত্রিপুরা পল্লীতে হাম রোগ সনাক্তের পর স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মসূচী

১। হাসপাতালে ভর্তি সুস্থ রোগীদের বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে বাড়িতে প্রেরণ (আজ বিআইটিআইডি সংলগ্ন সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থেকে ২০ জনকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসকগণ রোগীদের অবস্থা বিবেচনা করে ছাড়পত্র প্রদান করতে পারেন বলে জানিয়েছেন।
২। হাসপাতালে ভর্তি এবং আক্রান্ড ত্রিপুরা পল্লী গুলিতে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান নিশ্চিতকরণ।
৩। আক্রান্ত পল্লীতে অবস্থানরত সুস্থ শিশুদের হাসপাতাল থেকে ফেরত শিশুদের থেকে আলাদা রাখা।
৪। আগামীকাল থেকে আক্রান্ত পল্লীতে শিশুদের শারিরীক পুষ্টি শিশু বিশেষজ্ঞ কর্তৃক মতামত নিয়ে টিকা প্রদান শুরু করা।
৫। হাম একবার হলে শিশুদের শারিরীক ভাবে ভবিষ্যতে হাম না হওয়ার জন্য প্রাকৃতিক প্রতিরোধ গড়ে উঠে। তারপরও পনের বছর বয়স পর্যন্ত সকল আক্রান্ত শিশুদের (সিআরআই কেইস রিপোর্টেড ইমুনাইজেশন ) করা হবে। বেশী অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের টিকাদানে কখনও সমস্যা হয় বলে শিশু বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে অপুষ্টি দূর করে যথা সম্ভব শীর্ঘই হামের টিকা দেওয়া হবে।
৬। মধ্যম সোনাইছড়িতে বীরেন্দ্র ত্রিপুরার বাড়িতে এবং দক্ষিণ সোনাইছড়ির মঙ্গা রাম ত্রিপুরার বাড়িতে এক বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের সরকারী নিয়ম অনুযায়ী টিকা প্রদান করা হবে।
৭। এই দুইটি বাড়িতে আপাতত স্যাটেলাইট সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে সপ্তাহে এক দিন আক্রান্ত পাহাড়ী বাসিন্দাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে।
৮। মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী মহোদয়ের নিদের্শে ঢাকা হতে আগত লাইন ডাইরেক্টর সিবিএইচসি ডা. এমএ হাসেম খান মহোদয় আজ আক্রান্ত ত্রিপুরা পল্লীতে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ও সীতাকুন্ডের ইউএইচএন্ডএফপিও কে নিয়ে সরজমিনে পরিদর্শন করেন এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ইচ্ছা অনুযায়ী খুব শীঘ্রই সেখানে একটি অস্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে যেন আশে পাশের ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দারা নিয়মিত সরকারী স্বাস্থ্য সেবা পায়।
৯। উক্ত আক্রান্ত পাহাড় গুলোতে পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি ( তিন লিটারে একটি বড়ি এক ঘন্টা রেখে) বিতরণ করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে উক্ত এলাকায় দ্রুত টিউবওয়েল বসানোর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হবে।
১০। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আইপিএইচএন এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় উক্ত ত্রিপুরা পল্লী গুলোতে পুষ্টি কার্যক্রম শুরু করা হবে। তাদের পুষ্টি জ্ঞানের অভাব দূর করতে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১১। বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলায় হাম টিকা প্রদানের হার ৯৪.৩%। সকল ইউএইচএন্ডএফপিও এবং মাঠ কর্মীদের মাধ্যমে ঝুঁকি পূর্ণ এলাকা সহ পুরো জেলায় হামের টিকাদান কর্মসূচী আরো বেগবান করা হবে।
১২। সীতাকুন্ড উপজেলায় ত্রিপুরা পল্লীতে তাদের অসহযোগিতায় টিকাদান হচ্ছে না -বিষয়টি টিকা কর্মীরা উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন কে না জানানোর বিষয়টি সিভিল সার্জন, চট্টগ্রাম অবগত হয়ে পরদিন ১৩.৭.১৭খ্রিঃ তারিখে চট্টগ্রাম জেলার সকল ইউএইচএন্ডএফপিওকে তিনি যার যার উপজেলার এমন ঝুঁকি পূর্ণ জনগোষ্ঠীর টিকাদান কার্যক্রম সরজমিনে পরিদর্শন করে সাত(৭) দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন এবং প্রতি মাসে তার রিপোর্টিং অব্যাহত রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

উল্লেখ্য যে, আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়ের নির্দেশে সীতাকুন্ড উপজেলার ছয়জন মাঠ কর্মীকে সন্দ্বীপ উপজেলায় শাস্তিমূলক বদলী করা হয়েছে এবং এই শুন্য পদ গুলোতে সীতাকুন্ড উপজেলা থেকেই নতুন ছয়জনকে পদায়ন করা হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাতে সর্বদা একান্ত সহযোগিতায় থাকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আইইডিসিআর, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সকল উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সকল চিকিৎসক, বিআইটিআইডি ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের সকল চিকিৎসক সীতাকুন্ড, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চৌদ্দটি মেডিকেল টীমের সকল সদস্য, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি, পুষ্টিবিদ হাসিনা আকতার লিপি এবং সর্বোপরি গণমাধ্যমের মানব দরদী পরিশ্রমী চট্টগ্রামের সকল সদস্যের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী।