‘ত্যাগ, সততা ও মনুষ্যত্ববোধই জহুর আহম্মদ চৌধুরীকে অমরত্ব দিয়েছে’

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১ জুলাই , ২০১৬ সময় ১০:১২ অপরাহ্ণ

জুহুর ৪২
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ত্যাগ, সততা ও মনুষ্যত্ববোধই পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক জহুর আহম্মদ চৌধুরীকে অমরত্ব দিয়েছে। তাঁর বহুমাত্রিক মানবিক গুণাবলী ও জীবনাদর্শ আমাদের প্রত্যেকের জন্য অনুসরণীয়। তিনি আরো বলেন, আজ অনেক রাজনীতিকই আত্মকেন্দ্রিক এবং আরো বেশি ক্ষমতাবান হওয়া ও সম্পদের পাহাড় গড়াই এদের প্রধান প্রবণতা।
বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর, উপমহাদেশে শ্রমিক আন্দোলনের অগ্রদূত, সাবেক মন্ত্রী ও নগর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর দামপাড়াস্থ বাসভবনের সামনে আজ বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সভাপতির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জহুর আহমদ চৌধুরীর স্মৃতিচারণ করে বলেন, সাধারণ মানুষের তাঁর সম্পর্ক ছিলো পানির সাথে মাছের মতন। সুখে দুঃখে তাদের সাথে মিলেমিশে থাকতেন। তাঁর চাল-চলনে অভিজাত্য ছিল কিন্তু জীবনযাপন ছিলো অত্যন্ত সাদামাটা। তাঁর অর্থ বিত্ত ছিল না। রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও সেবামূলক কাজে তার কখনো টাকা-পয়সার অভাব হয়নি।
তিনি আরো বলেন, আজকে দল ক্ষমতায়। অনেক মন্ত্রী, সাংসদ ও বড় বড় নেতা বক্তৃতায় খুব সুন্দর কথা বলেন, সততা ও পরিচ্ছন্নতার কথা বলে মায়াকান্না করেন। বাস্তব ক্ষেত্রে তারা ভিন্ন মানুষ। মুখে যা বলেন তা না করে উল্টোটাই করেন। এর ফলে একদিন তারা গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলার ঘরে ঘরে সুখ, স্বচ্ছলতা ও সুন্দার জীবন যাপন নিশ্চিত করেছেন। এটা তাঁর জন্যেই সম্ভব হয়েছে। তাই আমাদেরকেও মুখের কথা কাজে পরিণত করতে হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর যে ক’জন ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন তাঁদের মধ্যে জহুর আহমদ চৌধুরী ছিলেন অন্যতম প্রধান রাজনীতিক। তিনি রাজনৈতিক ভাবেই অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান ছিলেন। কিন্তু সেই ক্ষমতাকে নিজের অর্থ-বিত্ত বাড়াতে ব্যবহার করেন নি। তাই তাঁর পরিবার ও সন্তানদের জন্য কোন সম্পদ রেখে যাননি। তবে তার জীবনাদর্শ সমগ্র জাতিরই মহাসম্পদ। তিনি আরো বলেন, কারও ভাল গুণ থাকলে তাকে স্বীকার করে নিতেই হবে। রাজনীতিকদের এই সত্যকে ধারণ করতেই হবে। যা কিছু সত্য, সুন্দর এবং কল্যাণময় তাকে গ্রহণ করে নিতে না পারলে রাজনীতিকরা জনগণের আস্থাভাজন হবেন না। মনে রাখতে হবে রাজনীতিকে যদি জনকল্যামুখী করা এখন সময়ের দাবী।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, আলহাজ্ব নঈমুদ্দিন চৌধুরী,এড.সুনীল কুমার সরকার, উপদেষ্টা আলহাজ্ব সফর আলী, মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক চৌধুরী, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব বদিউল আলম, এম এ রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমাল আল মাহমুদ, শফিক আদনান, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, আবদুল আহাদ, কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল মনসুর, বখতিয়ার উদ্দিন খান, গৌরাঙ্গ চন্দ্র ঘোষ, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, আহমদ ইলিয়াছ, অমল মিত্র, আবদুল লতিফ টিপু, নিছার আহমদ মঞ্জু, থানা আওয়ামী লীগের আলহাজ্ব ফিরোজ আহমদ, জাফর আলম চৌধুরী, মহানগর যুবলীগের মহিউদ্দিন বাচ্চু, দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, মাহবুবুল হক সুমন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আতিকুর রহমান, সৈয়দ মোহাম্মদ জাকারিয়া, সৈয়দ সোরয়ার্দি, আবদুল মান্নান, জামাল উদ্দিন, আবদুস সাকুর ফারুকী, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু প্রমুখ।