তেল আমদানিতে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব দিল ইরান

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট , ২০১৫ সময় ১১:৩৫ অপরাহ্ণ

তেল আমদানিতে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব দিল ইরানইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানিতে বাংলাদেশকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যদি ইরান থেকে জ্বালানি তেল কেনে সেক্ষেত্রে তেল বিক্রির প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে তারা (ইরান) বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য কিনবে।

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস বায়ঝি দেনবি বিদ্যুৎ জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে দেখা করে নতুন এ প্রস্তাবটি দেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ ইরান থেকে তেল আমদানি করলে সে অর্থ ইরান বাংলাদেশেই খরচ করবে।’

ইরানের রাষ্ট্রদূত, তেল শোধনাগার রক্ষণাবেক্ষণ, তেল, এলএনজি, সিএনজি রপ্তানি, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপকরণগুলো সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত প্রতিমন্ত্রীকে ইরান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, ‘সহযোগিতার আরো ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে পারস্পারিক প্রতিনিধিদল বিনিময় করা প্রয়োজন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম দুই মুসলিম দেশ পরস্পরকে সহযোগিতা করলে সবারই উপকার হবে। দ্রুত অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটবে।’

পেট্রোকেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ স্থাপনে তিনি ইরানের সহযোগিতা চান এবং ইরানের তেল সরবরাহের আগ্রহকে স্বাগত জানান।

প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত দ্রব্যাদি, তৈরি পোশাক, ওষুধ প্রভৃতি আমদানি করার জন্য ইরানকে অনুরোধ জানান। যৌথ বিনিয়োগে ইরানে সার উৎপাদনের বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে জ্বালানি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. নাজিম উদ্দিন ও বাংলাদেশ এলাইড বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী প্রধান ফারঝিন নিকসেজেল উপিস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বিশ্বাবাজারে এখন জ্বালানি তেলের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে আছে। গত সপ্তাহে প্রতি ব্যারেল (১৫৯ লিটার) অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে ৪৩ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, ইরান বাংলাদেশ থেকে সব থেকে বেশি আমদানি করে পাট এবং পাটজাত দ্রব্য। দেশের পাটকলগুলোর বাহারি পণ্যের বেশিরভাগের ক্রেতাই ইরান। তবে মাঝে আন্তর্জাতিক নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমিয়ে দেয়। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইরানের পারমানবিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় আবারও রপ্তানির সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আর বাংলাদেশ বছরে ৫৫ লাখ মেট্রিকটনের বেশি জ্বালানি তেল আমদানি করে। সৌদি আরব, কুয়েত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশ এ পরিমান তেল আমদানি করে।