তেলবাহী ওয়াগন খালে : ৬০ টাকায় তেল কিনবে বিপিসি

প্রকাশ:| রবিবার, ২১ জুন , ২০১৫ সময় ০৯:৫৬ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সেতু ভেঙে তেলবাহী ওয়াগনের ট্যাংকার খালে পড়ে ছড়িয়ে পড়া ফার্নেস অয়েল স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রতি লিটার ৬০ টাকা দরে কিনবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।যদিও এরআগে দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতি লিটার ৩০ টাকা করে তেল সংগ্রহ করার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

এর কারণ ব্যাখা করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘খাল থেকে সংগৃহিত তেল প্রতি লিটার ৩০ টাকা করে কেনার কথা আমি ঘটনাস্থলে ঘোষণা দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে বিপিসির চেয়ারম্যান স্যার বলেছেন, মানুষকে উৎসাহিত করতে প্রতি লিটার তেল ৬০ টাকা করে কেনা হবে।’

ডিসি আরো বলেন, ‘রোববার কেউ তেল বিক্রি করেনি। তবে সোমবার থেকে বিপিসির অধীনে যমুনা অয়েলের প্রতিনিধি সেখানে অবস্থান করবে। তারাই স্থানীয়ভাবে সংগৃহিত তেল কিনে নেবে।’

মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘খালের তেল অপসারণে স্থানীয়ভাবে ১৪টি নৌকা তেল সংগ্রহ করছে। এছাড়া রোববার রাত থেকে বন্দরের অয়েল বুম কাজ করছে।’

উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে বোয়ালখালী ও পটিয়া সীমান্তে সারোয়াতলী ইউনিয়নের ২৪ নম্বর রেল সেতু ভেঙে ফার্নেস অয়েল বহনকারী একটি ওয়াগন খালে পড়ে যায়। এরমধ্যে ইঞ্জিনসহ তিনটি ট্যাংকার পানিতে পড়ে গেলে সেখান থেকে তেল খালে ছড়িয়ে পড়ে। এঘটনায় রেলওয়ের দুই প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত ও দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে।

তিনটি ট্যাংকার থেকে খালে ছড়িয়ে পড়া ফার্নেস অয়েল জোয়ারের সময় বোয়ালখালী খালের উজানে প্রায় ১২ কিলোমিটার এবং ভাটায়ও প্রায় ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। এই ফার্নেস অয়েল বোয়ালখালী খাল হয়ে সরাসরি কর্ণফুলী নদীতে মিশেছে।

এছাড়া খালের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফসলী জমি, জলায়শয় ও পুকুরেও এই তেল ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে অনেক পুকুরের মাছ মারা যেতে শুরু করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। এছাড়া খালের ছোট ছোট মাছ ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীও মরে ভেসে উঠেছে বলে জানা গেছে।