তৃণমূল রাজনীতিতে দলীয় আনুগত্য ও মানুষের ভালোবাসা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শুক্রবার, ৮ জুন , ২০১৮ সময় ০৯:৩২ অপরাহ্ণ

রাজনৈতিক সমীক্ষা-৪ 

সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক::

০৫ জুন ২০১৮, ১৫:৫৪

উপজেলা ‘তৃণমূল রাজনীতি’ বলতে সাধারণত ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচনী রাজনীতি বোঝায়। ১৯৮৫ সালে জেনারেল এরশাদের আমলে উপজেলা পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়; তখন আইনশৃঙ্খলার স্তর আলাদা করা হয়; এখনো সেরকম চলছে। উপজেলা স্তরের উপরে কেন্দ্রীয়ভাবে সমগ্র দেশের জন্য প্রযোজ্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বশীল স্তর হচ্ছে জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্ট। বাংলাদেশ পার্লামেন্টের জন্য ৩০০টি নির্বাচনী আসন আছে। প্রত্যেকটি নির্বাচনী আসনের এলাকা বা জনসংখ্যা সমান নয়, তবে মোটামুটি একটি নীতিমালার উপর প্রতিষ্ঠিত। আজকের কলামে বাংলাদেশের সব নির্বাচনী এলাকার কথা তুলে ধরতে পারব না; প্রতীকী অর্থেই একটি এলাকার কথা তুলে ধরব। ওই নির্বাচনী এলাকার বিস্তৃতি বা সীমানা হলো চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলা পূর্ণভাবে এবং হাটহাজারী উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড। নির্বাচনী আসনটি হলো চট্টগ্রাম-৫। একটি প্রসিদ্ধ উপজেলা হাটহাজারী উপজেলার পূর্ব পাশের সীমান্ত হচ্ছে বিখ্যাত নদী হালদা। জ্ঞানীরা বলেন, ‘স্বর্ণগর্ভা হালদা’। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শুরুর দিকে কোনো একটি সুনির্দিষ্ট চন্দ্র-তিথিতে, ঝড় বাদল পূর্ণ রাতে বা দিনে, এই হালদা নদীর একটি সুনির্দিষ্ট অংশে মিঠা পানির কয়েক প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়ে। সেই ডিম জেলেরা সংগ্রহ করেন; সেই ডিম থেকে মাছের পোনা উৎপন্ন হয়; সেই পোনা দেশব্যাপী বিস্তৃত হয় বাণিজ্যিকভাবে; মৎস্য চাষীরা পুকুরে বা জলাশয়ে মাছ চাষ করেন; পরবর্তীতে সেই মাছ দেশীয় বাজারে যেমন বিক্রি হয়, তেমন বিদেশেও রফতানি হয়। পূর্ণ প্রক্রিয়ায় চার হাজার কোটি টাকার অধিক মূল্যের বাণিজ্য হয়ে থাকে। এ জন্যই হালদা নদীকে বলা হয় ‘স্বর্ণগর্ভা’। এই হালদা বাংলাদেশে তো বটেই, এশিয়া মহাদেশেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। হাটহাজারী উপজেলার সর্বশেষ ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে উত্তর বুড়িশ্চর গ্রাম, হালদা নদীর তীরে, এখানে আমার জন্ম এবং বংশের শেকড় নিহিত। চট্টগ্রাম থেকে কাপ্তাই যাওয়ার প্রধান সড়কের উপরেই, হালদা নদীর উপর মদুনাঘাট ব্রিজের আগেই আমার জন্মভিটা। ওয়াহিদুল আলম এবং আমাদের পরিবার আজকের রচনা উপস্থাপনার জন্য আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি একজন মানুষের রাজনৈতিক জীবন ও রাজনৈতিক কর্ম দ্বারা এবং গত ২৮-২৯ মে (সোম ও মঙ্গলবার) তার সেই কর্মের প্রতিফলন দেখে। আমি নিজে একজন নবীন রাজনৈতিক কর্মী। অনুপ্রাণিত হয়েছি আরেকজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সফল রাজনৈতিক নেতার জীবন ও কর্মে। তিনি তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মী ও জাতীয় পর্যায়ের নেতা। যার কথা বলছি তিনি হলেন সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম। তার বাবা হচ্ছেন মরহুম আলহাজ সৈয়দ আব্দুস সাত্তার। তার জন্মস্থানের প্রসিদ্ধ নাম লালিয়ারহাট; চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারী যাওয়ার প্রধান সড়কের উপরেই এটি অবস্থিত। মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম পারিবারিক সূত্রে আমার মামা; আমার একমাত্র চাচী সানোয়ারা বেগমের ছোট ভাই। ওয়াহিদুল আলম বয়সে আমার দুই-তিন বছরের বড়। তিনি আমার মরহুম বাবার অতি ঘনিষ্ঠ, অসম বয়সের বন্ধু এবং আস্থাভাজন ছিলেন। তিনি আমার বাবাকে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পরামর্শক ও গুরুজন হিসেবে গণ্য করতেন। সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের প্রথম সন্তান ব্যারিস্টার সৈয়দা শাকিলা ফারজানা, যিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ে সংযুক্ত। ফারজানা হাটহাজারী এলাকাতেও জনগণের কাছে একজন শ্রদ্ধাভাজন রাজনৈতিক নেতা। দ্বিতীয় সন্তান সৈয়দা আকলিমা ফারজানা। তিনি একজন ব্যস্ত সমাজসেবক। মরহুম ওয়াহিদুল আলমের স্ত্রী ফরিদা ওয়াহিদ, বৃহত্তর চট্টগ্রামের চকরিয়া উপজেলার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের বিদূষী সন্তান। ওয়াহিদুল আলমের জনমুখী পরিশ্রমী কর্মকাণ্ডের প্রেরণা ও উৎসাহের ভাণ্ডার ছিলেন তিনি। আমার মরহুম বাবার জ্যেষ্ঠতম ফুফুর শ্বশুরবাড়িও ছিল ওই লালিয়ারহাট সংলগ্ন গ্রামে। মৃত্যু সবাইকে একত্র করল মানুষকে ভালোবাসতে হয়, মানুষকে ভালোবাসা যায় এবং মানুষকে ভালোবাসলে ভালোবাসার মাধ্যমেই মানুষ সেটার সম্মান রক্ষা করে। এর উজ্জ্বল উদাহরণ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের রাজনৈতিক জীবন। মূলত এই কথাটি তুলে ধরার জন্যই আজকের কলামের অবতারণা। উদ্দেশ্য, যাতে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীরা দিকনির্দেশনা পেতে পারেন। মৃত্যু এবং পরে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের কথা দিয়েই শুরু করি। ২০১৮ সালের ২৭ মে সন্ধ্যা ৭:৪০-এর দিকে খবর পেলাম, সাবেক সংসদ সদস্য তথা আমার মামা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম ইন্তেকাল করেছেন। প্রায় দুই বছর আগে তিনি দ্বিতীয়বার ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। মৃত্যুসংবাদ কানে আসা মাত্রই হাটহাজারী ও চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ হাসপাতালে ছুটে গেলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ছুটে গেলেন। বর্তমান সংসদে চট্টগ্রাম-৫ আসনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রিসভার সদস্য, হাটহাজারীর সন্তান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী এবং বিএনপির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী-সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বর্তমানে বিএনপির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ইবরাহিম বীর প্রতীক, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডাক্তার শাহাদত হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার ফাইয়াজ হোসেন শুভ, সাংবাদিক নেতা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাদের গণি চৌধুরীসহ অনেকেই হাসপাতালে সমবেত হন। দলমত নির্বিশেষে একজন পরলোকগত জননেতার প্রতি শ্রদ্ধা ও মর্যাদাপূর্ণ বিদায় জানানোর জন্য ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ওয়াহি


আরোও সংবাদ