তুলা চাষের মাধ্যমে তামাক চাষ কমিয়ে আনা সম্ভব

প্রকাশ:| রবিবার, ৩০ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ০৯:৫৭ অপরাহ্ণ

বান্দরবান প্রতিনিধি ॥
বান্দরবানে পাহাড়ী এলাকায় তুলা উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং কৌশল নির্ধারণ শীর্ষক দুদিন ব্যাপী কর্মশালার শুরু হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে জেলা সদরের বালাঘাটাস্থ তুলা উন্নয়ন বোর্ড মিলনায়নে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোমিনুর রশিদ আমিন।
ঢাকা তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ড. মো: ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে নিবিড় তুলাচাষ কর্মসূচীর পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো: গাজী গোলাম মর্তুজা, কৃষিবিদ মো: আবু ইলিয়াস মিঞা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলতাব হোসেন, বান্দরবান প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা শামসুল বারী জুয়েল, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মংসানু মারমা, গোলাম মাওলা তুহিন’সহ স্থানীয় তুলা চাষীরা বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও কর্মশালায় বান্দরবান ছাড়াও তিন পার্বত্য জেলা’সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় শতাধিক তুলা চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকজন অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোমিনুর রশিদ আমিন বলেন, পার্বত্যাঞ্চল তামাক চাষে ভরপুর হয়ে গেছে। তবে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখেছি বিভিন্ন ফসলের সঙ্গে তুলার চাষ হচ্ছে। তামাক চাষের বিকল্প হিসেবে তুলা চাষ বাড়ানো গেলে কৃষকরা অনেক লাভবান হবে। এই উদ্যোগে পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রয়োজনীয় সব ধরণের সহযোগীতা করবে। ঢাকা তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ড. ফরিদ উদ্দিন বলেন, তুলা চাষ সম্ভাবনায় একটি ফসল। পার্বত্য চট্টগ্রাম তুলা চাষের জন্য বোর্ডের টার্গেট এরিয়া। স্থানীয় চাষীদের তুলা চাষে উদ্ভুদ্ধ করে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং উৎপাদিত তুলা রপ্তানী করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে সহায়তা করা। পাহাড়ে স্থানীয় এবং হাইব্রিড তুলা উৎপাদনে শুষ্ক পাহাড়ি ঢালু জায়গা ব্যবহার করে তুলা আমদানী অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বর্তমান সরকার তুলাকে আরো বেশি গুরুত্ব দিয়ে তুলা চাষের উন্নয়নে ১০৫ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও চীন থেকে তুলা উৎপাদন কমিয়ে ফেলছে। বৃটিশ আমল থেকে পার্বত্যাঞ্চলে পাহাড়ী তুলার সুনাম ছিল। সেই সুনাম আবার পিরিয়ে আনতে হবে। পার্বত্যাঞ্চলের তামাক চাষীদের লাভজনক তুলা চাষে ফিরিয়ে আনতে হবে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে শুষ্ক মৌসুমেও তুলা উৎপাদন হচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলেও শুষ্ক মৌসুমে তুলা উৎপাদন সম্ভব। বাংলাদেশ বাইরের দেশগুলো থেকে শতকরা ৯২ শতাংশ তুলা আমদানী করে থাকে। এই তুলা পার্বত্য অঞ্চলের উচুঁ ও ঢালু পাহাড়গুলোতে চাষ করা গেলে আমদানী বহুলাংশে কমে যাবে। এরজন্য কৃষককে সহজ কৃস্তিতে ঋণ, সার, বীজ ও বিপণনের ব্যবস্থা করবে সরকার।