তুলার রোগ ও তার প্রতিকার

প্রকাশ:| সোমবার, ২০ নভেম্বর , ২০১৭ সময় ০৪:১৮ অপরাহ্ণ

তুলা একটিঅত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থকারী ফসল। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা ছিল তুলা চাষের জন্য প্রসিদ্ধ। ঢাকা জেলার তুলা ছিল সর্বোৎকৃষ্ট। এ তুলার সুতা থেকেই তৈরী হতো ঢাকাই মসলিন। প্রাচীনকাল থেকেই চীন, ভারত ও মিশরে তুলার ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ তুলা বস্ত্র তৈরীর জন্য ব্যবহৃত হয়। বাকি ২৫ শতাংশ কার্পেট, পর্দা, গৃহস্থালির রকমারি জিনিস তৈরীর জন্য এবং অবশিষ্ট তুলা শিল্পের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তুলার বীজ থেকে তেল ও খৈল পাওয়া যায়। তুলাবীজ থেকে প্রাপ্ত পরিশোধিত তেল ভোজ্যতেল ও অপরিশোধিত তেল সাবান তৈরীর কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তুলা বীজের খৈল গবাদিপশু ও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।কিন্তু রোগ বালাই তুলা উৎপাদনের একটি প্রধান প্রতিবন্ধক। এই রোগসমূহ নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলে তুলার ফলন অনেক বৃদ্ধি পাবে। তাই নি¤েœ তুলার কয়েকটি মারাত্মক রোগের লক্ষন, কারণ, বিস্তার ও প্রতিকার ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

১। রোগের নাম ঃফিউজারিয়াম ঢলে পড়া (Fusarium Wilt) রোগ

রোগের কারণ ঃ ফিউজারিয়াম অক্সিস্পোরাম এফ.এসপি. ভেজিনফেক্টাম (Fusarium oxysporum f.sp. vasinfectum)নামক ছত্রাকের আক্রমনে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তার ঃ
ছত্রাকটি রোগাক্রান্ত গাছের পরিত্যক্ত অংশ, বীজ ও মাটিতে বহুদিন বেঁচে থাকতে পারে। কনিডিয়া বায়ুর মাধ্যমে ছড়ায়। হালকা বেলে ও অম্লত্বের ভাগ বেশী আছে এ রকম মাটিতে ঢলে পড়া রোগ বেশী হয়। সাধারণত ২৫-৩২০সেঃ তাপমাত্রা ছত্রাকের বৃদ্ধি ও অনুপ্রবেশের জন্য উপযোগী। জমিতে পটাশ কম থাকলে তুলা গাছ সহজে আক্রান্ত হয়। জমিতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সার ব্যবহার করলে রোগের প্রকোপ বেশী হয়।কৃমি শিকড়ে ক্ষত সৃষ্টি করলে ছত্রাক সহজে গাছের মধ্যে প্রবেশ করে রোগ সৃষ্টি করে।

রোগের লক্ষণ ঃ
ক্স গাছের বৃদ্ধির সব অবস্থাতেই এ রোগ হতে পারে।
ক্স চারা গাছ আক্রান্ত হলে পাতার শিরাগুেেলা স্পষ্ট হয়ে উঠে এবং ক্রমে শিরামধ্য অঞ্চলগুলোতে পচন দেখা যায়।
ক্স বোটা ঘিরে কালো আংটির মতো দাগ পড়ে।
ক্স একটু বড় গাছ আক্রান্ত হলে পাতা চুপসে ঝুলে পড়ে।
ক্স ছোট ছোট ডালগুলোও ঢলে পড়ে।
ক্স পাতা ঝরে পড়ে শুধু কান্ডটি দাড়িয়ে থাকে।
ক্স গাছ শেষে শুকিয়ে মারা যায়।
ক্স কান্ড ও শিকড় লম্বালম্বিভাবে কাটলে ভিতরের শক্ত অংশে কালো রংগের দাগ দেখা যায়।

চিত্র: তুলারফিউজারিয়াম ঢলে পড়া রোগের লক্ষণ

রোগের প্রতিকার ঃ
ক্স জমি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এবং আবর্জনামুক্ত রাখতে হবে।
ক্স জমিতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সার কম পরিমানে ব্যবহার করতে হবে।
ক্স জমিতে উপযুক্ত পরিমানে পটাশ প্রয়োগ করে করে জমি ভালভাবে নিড়িয়ে দিলে রোগ কম হয়।
ক্স কার্বেন্ডাজিম (অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম (প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করতে হবে।
ক্স শিকড় গিট কৃমি দমন করতে হবে কারণ ইহারা ছত্রাকের অনুপ্রবেশে সাহায্য করে।
ক্স জমিতে রোগ দেখা দিলে মরা গাছ উঠিয়ে ফেলে জমিতে কার্বেন্ডাজিম (অটোস্টিন) প্রতি ১ লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় স্প্রে করতে হবে।

২। রোগের নাম ঃগোড়া ও মূল পচা (জড়ড়ঃ ৎড়ঃ) রোগ
রোগের কারণ ঃ রাইজোকটোনিয়া সোলানী(জযরুড়ঃড়পহরধ ংড়ষধহর)নামক ছত্রাকের আক্রমনে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তার ঃ
এসব ছত্রাক মাটিতে এবং শস্যের পরিত্যক্ত অংশে বেঁচে থাকে। মাটির তাপমাত্রা ৩৫০সেঃ-এর বেশী হলে, অতি বৃষ্টি হলে এবং পলি মাটিতে রোগ বেশী হয়।

রোগের লক্ষণ ঃ
ক্স রোগ গাছের প্রাথমিক পর্যায়েই শুরু হয়, কিন্তÍু গাছ ঢলে পড়তে দেরী লাগে।
ক্স বীজপত্রে বাদামী রং-এর দাগ পড়ে।
ক্স সদ্য আক্রান্ত গাছের মূল ভিজা, আঠালো হলুদাভ রস নি:সৃত করে।
ক্স মূলের ছাল ভংগুর হয়।
ক্স আক্রান্ত গাছ টান দিলে সহজেই উঠে যায়।
ক্স বেশী আক্রান্ত গাছের পাতাগুলো ঢলে পড়ে এবং গাছ ২/১ দিনের মধ্যেই মারা যায়।
ক্স এ রোগের প্রধান লক্ষণ হলো গাছ হঠাৎ করে সম্পূর্ণভাবে ঢলে পড়ে।
ক্স রোগ জীবানুর হাইফা ও স্কে¬রোশিয়া মূলের পচা এবং ছালের ভংগুরঅংশে দেখা যায়।
ক্স জমির মধ্যে মাঝখানে মাঝখানে এ রোগ ব্যাপক আকারে দেখা যায়।

চিত্র: তুলারগোড়া ও মূল পচা রোগের লক্ষণ

রোগের প্রতিকার ঃ
ক্স মাটির তাপমাত্রা যখন কম থাকে তখন বীজ বপন করতে হবে।
ক্স কার্বেন্ডাজিম (অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম (প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করতে হবে।
ক্স জমিতে রোগ দেখা দিলে মরা গাছ উঠিয়ে ফেলে জমিতে কার্বেন্ডাজিম (অটোস্টিন) প্রতি ১ লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় স্প্রে করতে হবে।

 

৩। রোগের নাম ঃসারকোস্পোরা পাতায় দাগ(ঈবৎপড়ংঢ়ড়ৎধ খবধভ ঝঢ়ড়ঃ) রোগ
রোগের কারণ ঃ সারকোস্পোরা গোসিপিনা(ঈবৎপড়ংঢ়ড়ৎধ মড়ংংুঢ়রহধ)নামক ছত্রাকের আক্রমনে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তার ঃ
সাধারণত গাছের রোগাক্রান্ত পরিত্যক্ত অংশ, বিকল্প পোষক ও বায়ুর সাহায্যে এ রোগ সুস্থ গাছে ছড়ায়। তাছাড়া পরিমিত পানি ও পুষ্টির অভাবে এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
রোগের লক্ষণ ঃ
ক্স প্রাথমিক পর্যায়ে পাতার উপর কোনাকার থেকে অসম ধরনের লালচে দাগ পড়ে।
ক্স পরে দাগ গুলি বড় হয় ও সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়।
ক্স দাগের কেন্দ্রস্থলধূসর থেকে হালকা বাদামী ধারণ করে ও চারদিক ফ্যাকাশে হলুদ বলয় দ্বারা ঘিরে থাকে।
ক্স দাগের কেন্দ্রস্থল শুকিয়ে ঝরে পড়ে ও ছিদ্র হয়ে যায়।
ক্স রোগের মাত্রা বেশী হলে পাতা মুচরিয়ে যায় এবং পরে ঝলসে গিয়ে ঝরে পড়ে।
ক্স ফলে ফলন অনেক কমে যায়।

চিত্র: তুলারসারকোস্পোরা পাতায় দাগ রোগের লক্ষণ

রোগের প্রতিকার ঃ
ক্স ফসলের পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
ক্স পরিমিত সার ও সময়মত সেচ প্রয়োগ করতে হবে।
ক্স সময়মত বীজ বপন করতে হবে।
ক্স জমিতে রোগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে কার্বেন্ডাজিম (অটোস্টিন) প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম অথবা প্রোপিকোনাজোল (টিল্ট ২৫০ ইসি) প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার গাছে ¯েপ্র করতে হবে।

৪। রোগের নাম ঃ ফোস্কা বাঅ্যানথ্রাকনোজ(অহঃযৎধপহড়ংব ড়ৎ ঢ়রহশ নড়ষষ ৎড়ঃ)রোগ

রোগের কারণ ঃ কোলেটোট্রিকাম গসিপি (ঈড়ষষবঃড়ঃৎরপযঁস মড়ংংুঢ়রর)নামক ছত্রাকের আক্রমনে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তার ঃ
বীজ ও আক্রান্ত ফসলের পরিত্যক্ত অংশের মাধ্যমে রোগ বিস্তার লাভ করে।আক্রান্ত বীজ বপন করলে বীজপত্রে দাগ পড়ে এবং উহাতে প্রচুর কনিডিয়া উৎপন্ন হয়। এই সকল কনিডিয়ার মাধ্যমে রোগ অন্য গাছে ছড়ায়।

রোগের লক্ষণ ঃ
ক্স বীজদল, পাতা, কান্ড এবং ফলের উপর দাগ পড়ে এবং উহাতে পচন ধরে।
ক্স বীজদলে ছোট ছোট লালচে রং-এর দাগ দেখা যায় এবং উহার কিনারার দিকে পচন ধরে।
ক্স কচি কান্ডেও লম্বাটে দাগ পড়ে।
ক্স অতিরিক্ত আর্দ্রতায় দাগগুলি কান্ডকে চারিদিক দিয়ে ঘিরে ফেলে।
ক্স পাতায় ও কান্ডে অল্প পরিমান বাদামী থেকে কালো ধরণের দাগ পড়ে।
ক্স এই রোগ বেশী দেখা যায় ফলের উপরে।
ক্স অর্ধ বয়স্ক ফলে লালচে কিনারাযুক্ত বসানো বাদামী থেকে কালো ধরণের দাগ পড়ে।
ক্স ফলের ভিতর পচে শুকিয়ে যায়।
ক্স রোগের প্রকোপ বেশী হলে ফল বিকৃত হয়ে যায়।

চিত্র: তুলারফোস্কা বাঅ্যানথ্রাকনোজ রোগের লক্ষণ

রোগের প্রতিকার ঃ
ক্স গাছের মরাপাতাসহ যাবতীয় পরিত্যক্ত অংশ পুড়ে ফেলতে হবে।
ক্স কার্বেন্ডাজিম (অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম (প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করতে হবে।
ক্স মাটিতে পটামিয়ামের অভাব থাকলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী হয়। তাই জমিতে পরিমিত পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে।
ক্স টিল্ট ২৫০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে গাছের পাতা ও ডালপালা ভালভাবে ভিজিয়ে গাছে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার ¯েপ্র করতে হবে।
৫। রোগের নাম ঃপাতার কোনাচে দাগ বা কালো ডাটা বা ফল পচা (অহমঁষধৎ ষবধভ ংঢ়ড়ঃ/ইধপঃবৎরধষ নষরমযঃ/ঠবরহ নষরমযঃ ড়ৎ ইষধপশ ধৎস ড়ৎ ইড়ষষ ৎড়ঃ)রোগ

রোগের কারণ ঃ জ্যান্থোমোনাস ক্যামপেস্ট্রিস পিভি. মালভেসিয়ারাম (ঢধহঃযড়সড়হধং পধসঢ়বংঃৎরং ঢ়া. সধষাধপবধৎঁস)নামক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমনে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তার ঃ
ব্যাকটেরিয়া বীজের উপরে ও ভিতরে অথবা শস্যের পরিত্যক্ত অংশে অবসর যাপন করে। বৃষ্টি, পানির ছিটা, পানি নিস্কাশন, পানি সেচ, এমন কি কৃষকের দেহের সংস্পর্শে এসে ব্যাকটেরিয়া গাছের আক্রান্ত অংশ থেকে সুস্থ অংশে ছড়িয়ে পড়ে। অধিক আর্দ্রতা ও মাঝামাঝি উষ্ণতা (২৪০ সেঃ) রোগটির বৃদ্ধির সহায়ক।

 

রোগের লক্ষণ ঃ রোগের লক্ষণ চারটি অবস্থাতে প্রকাশিত হয়, যথা-চারায়, পাতায়, শাখা-প্রশাখা ও ফলে।

১. চারা ধ্বসা(ঝববফষরহম নষরমযঃ)
ক্স অংকুরোদগমের পরে শল্কপত্রে দাগ দেখা দেয়।
ক্স তলার দিকের দাগগুলো ছোট গোলাকৃতি ও পানি ভেজার মত দেখা যায়।
ক্স পরে বিভিন্ন ধরণের কোনাচে দাগের আকারে হয়।
ক্স দাগগুলো বাদামী রং-এর হয়।
ক্স শল্কপত্র বিকৃত হয়ে যায় এবং ব্যাকটেরিয়া শিরা দিয়ে পাতার বোটা ও কান্ডে বিস্তার লাভ করে।
ক্স এর ফলে পাতা শুকিয়ে যায়।

২. পাতায় কোনাচে দাগ (ইধপঃবৎরধষ নষরমযঃ/অহমঁষধৎ ষবধভ ংঢ়ড়ঃ/ঠবরহ নষরমযঃ)
ক্স পাতায় ছোট ছোট পানি ভেজার মত ত্রিকোনা ও চৌকোনা দাগ হয়।
ক্স দাগ প্রথমে পাতার তলায় পিঠে দেখা গেলেও পরে উপরের পিঠেও দেখা যায় এবং মধ্যশিরা ও প্রধান উপশিরা বরাবর বাড়তে থাকে।
ক্স শিরাগুলো বাদামী রং ধারণ করে কুঁকড়ে ভিতরের দিকে বেঁকে আসে।
ক্স পাতার দাগগুলো ক্রমেই বড় হয় এবং প্রথমে বাদামী ও পরে কালো রং ধারণ করে।
ক্স আক্রান্ত অংশ থেকে ব্যাকটেরিয়া পুঁজ আকারে বের হতে থাকে।
ক্স বেশী আক্রান্ত পাতা মরে যায় ওঝরে পড়ে।।

৩. কালো ডাটা পচা (ইষধপশ ধৎস)
ক্স শাখা-প্রশাখাগুলোতে কালো কালো দাগ দেখা দেয়।
ক্স দাগগুলো একত্রে মিশে কালো বসে যাওয়ার মত হয়।
ক্স এই কালো বসা দাগগুলো গোটা কান্ডকে ঘিরে ফেলে।
ক্স প্রধান কান্ডেও এধরণের লক্ষণ দেখা যায়।
ক্স আক্রান্ত শাখাগুলো শুকিয়ে গেলে পাতা চুপসে ঝুলে থাকে।

৪. ফল পচা (ইড়ষষ ৎড়ঃ)
ক্স ফলের সবুজ গায়ে প্রথমে ছোট ছোট পানি ভেজা দাগ উৎপন্ন হয়।
ক্স দাগগুলো পরে গাঢ় বাদামী ও কালো হয়ে কিছুটা গর্তের সৃষ্টি করে।
ক্স ছোট অবস্থাতে ফলে বেশী ক্ষত হলে তা ঝরে পড়ে।
ক্স ফলের আকার ছোট হয়ে যায় এবং ভিতরের তুলার আঁশও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

চিত্র: তুলার পাতার কোনাচে দাগ রোগের লক্ষণ

চিত্র: তুলার কালো ডাটা রোগের লক্ষণ

চিত্র: তুলার ফল পচারোগের লক্ষণ

রোগের প্রতিকার ঃ
ক্স রোগমুক্ত এলাকার সুস্থ বীজ বপন করতে হবে।
ক্স তুলা সংগ্রহের পর আক্রান্ত গাছের অংশ উত্তমরূপে পুড়ে ফেলতে হবে।
ক্স সালফিউরিক এসিড দ্বারা বীজ শোধন করে লবন গুলা পানিতে ধুয়ে আবার পরিস্কার পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।
ক্স ১০০ পিপিএম স্ট্রেপ্টোমাইসিন সালফেট দ্রবনে বীজ সারা রাত ভিজিয়ে রেখে শুকিয়ে জমিতে বপন করতে হবে।
ক্স আক্রান্ত চারা বা গাছ দেখা মাত্র মাটি সহ তুলে ধ্বংস করতে হবে।
ক্স ট্রাই ব্যাসিক কপার সালফেট (কিউপ্রোক্স্যাট ৩৪৫ এসসি) ১ লিটার পানিতে ৫ মিলি হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার জমিতে গাছের গোড়ায় স্প্রে করতে হবে।
ক্স ব্যাকটেরিয়া নাশক স্ট্রেপ্টোমাইসিন সালফেট + টেট্রাসাইক্লিন হাইড্রোক্লোরাইড (ক্রোসিন-এজি ১০ এসপি) প্রতি লিটার পানিতে ০.৮ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার জমিতে গাছের গোড়ায় স্প্রে করতে হবে।
বি:দ্র: ক্রোসিন-এজি ১০ এসপিও কিউপ্রোক্স্যাট ৩৪৫ এসসি ঔষধ দুইটি পর্যায়ক্রমে একটা ব্যবহার করার পর আরেকটি ব্যবহার করতে হবে।
৬। রোগের নাম ঃশিকড় গিট (জড়ড়ঃ শহড়ঃ) রোগ
রোগের কারণ ঃ মেলোয়ডোজাইন ইনকগনিটা এবং মেলোয়ডোজাইন যাভানিকা (গবষড়রফড়মুহব রহপড়মহরঃধ ্ গ. লধাধহরপধ) নামক কৃমির দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তার ঃ
মেলোয়ডোজাইন প্রজাতির কৃমি মাটিতে বসবাস করে। সাধারণত ২৭-৩০০ সেঃ তাপমাত্রায় হালকা ও বেলে মাটিতে এ রোগ সবচেয়ে বেশী হয়। আক্রান্ত মাটি, শিকড়ের অংশ, বৃষ্টি ও সেচের পানি এবং কৃষি যন্ত্রপাতির দ্বারা এ রোগ বিস্তার লাভ করে।
রোগের লক্ষণ ঃ
ক্স মাটির উপর গাছ অনেকটা হলুদ বর্ণের হয়।
ক্স গাছের বৃদ্ধি কমে যায় ও খর্বাকৃতির হয়।
ক্স শিকড়ের আক্রান্ত অংশ ফুলে গিয়ে গিঁট উৎপন্ন করে।
ক্স এই সকল গিঁটের মধ্যে কৃমি ও কৃমির ডিম পাওয়া যায়।
ক্স চারা গাছ আক্রান্ত হলে সমস্ত শিকড় নষ্ট হয়ে যায় ও দিনের বেলায় গাছ ঢলে পড়ে।
ক্স ফ’ল ও ফল ধারন ক্ষমতা একেবারেই কমে যায়।

চিত্র: তুলারশিকড় গিট রোগের লক্ষণ

রোগের প্রতিকার ঃ
ক্স জমিতে সরিষা, বাদাম, গম, ভূট্টা প্রভৃতি শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে।
ক্স ফসল সংগ্রহের পর অবশিষ্টাংশ পুড়ে ফেলতে হবে।
ক্স জমি প্লাবিত করে রাখলে এ রোগের কৃমি মারা যায়, তাই সুযোগ থাকলে বছরে একবার প্লাবিত করে রাখতে হবে।
ক্স হেক্টর প্রতি ৫ টন অর্ধ পচা মুরগীর বিষ্ঠা জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োগের ২-৩ সপ্তাহ পর জমিতে বীজ বপন করতে হবে।
ক্স শুষ্ক মৌসুমে জমি পতিত রেখে ২/৩ বার চাষ দিয়ে মাটি ভালভাবে শুকাতে হবে।
ক্স রোগের লক্ষণ দেখা গেলে হেক্টর প্রতি ৪০ কেজি কার্বোফুরান (ফুরাডান ৫জি) অথবা ইসাজোফস (মিরাল ৩জি) মাটিতে ছিটিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে দিয়ে হালকা সেচ দিতে হবে।