তুরাগ নদীর ওপর খুটি ঠিক থাকবে

প্রকাশ:| বুধবার, ৬ মে , ২০১৫ সময় ০৭:৫৬ অপরাহ্ণ

রাজধানীর মোহাম্মদপুর অঞ্চলে তুরাগ নদীর সীমানার ওপর খুঁটি স্থাপনের বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। এই আদেশের ফলে তুরাগ নদের ওপর সীমানা নির্ধারণের খুঁটি আগের মতোই থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
তার আগে রিট আবেদনের শুনানি করে গত ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন নিয়ে যান রিট আবেদনকারীরা।

৩ মার্চ চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে বিষয়টি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। বুধবার আপিল বিভাগের শুনানি করে আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেন।

আদেশের পর আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘হাইকোর্টের দেয়া স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত করে আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে দিয়েছে। এখন তুরাগ নদীর সীমানায় খুঁটি বসানো আছে এবং তা থাকবে।’ তুরাগ নদীর সীমানা চিহ্নিত খুঁটি স্থাপন বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।

নদীর দখল মুক্ত ও দূষণ রোধে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ এর পক্ষে করা এক রিট আবেদন শুনানীর করে ২০০৯ সালের ২৫ জুন হাই কোর্ট বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদী রক্ষায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন।

ওই রায়ে নদীতীর তীরবর্তী অবৈধ স্থায়ী ও অস্থায়ী সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করতে বলা হয়। ভূমি জরিপ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়কে সমন্বিতভাবে সার্ভে বা সিএস রেকর্ড অনুযায়ী নদীগুলোর সীমানা নির্ধারণ করে খুঁটি স্থাপন করতে বলা হয়।

তবে তুরাগ নদীর ওপর কয়েকটি স্থানে সঠিক জায়গায় সীমানা খুঁটি স্থাপন না করায় রিট আবেদনকারীর পক্ষে একটি আবেদনে ২০১৪ সালের ২৪ জুলাই হাই কোর্ট ১৪ দিনের মধ্যে ভরা মৌসুমে তুরাগ নদীতে খুঁটি স্থাপনের নির্দেশ দেন।

এরপর আমিন অ্যান্ড মোমিন নামে একটি কোম্পানির দখলে থাকা প্রায় নয় একর জমি মুক্ত করে খুঁটি স্থাপন করা হলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে ইয়ানুর বেগম ওই জমি উদ্ধার ও খুঁটি অপসারণের জন্য হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন।