তুরাগ তীরে আগামী ২৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা

প্রকাশ:| সোমবার, ১৩ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৭:৪৯ অপরাহ্ণ

টঙ্গীর তুরাগ তীরে আগামী ২৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। অনুষ্ঠিতব্য ৪৯তম মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় মহা সম্মেলন বিশ্ব ইজতেমাকে সামনে রেখে ময়দানের প্রস্তুতি কাজ শুরু হয়েছে দ্রুতগতিতে। টঙ্গীর পার্শ্ববর্তী এলাকাসহ দুরদুরান্ত থেকে স্বেচ্ছাসেবী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এসে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের বিভিন্ন ধরণের সংস্কার কাজ করছেন। ১৬০ একর বিশাল ময়দানে পাটের চট ও বাশঁ দিয়ে প্যান্ডেল তৈরির কাজসহ অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ করছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা স্কুল, কলেজ, গার্মেন্টস শ্রমিক ও মাদ্রাসার ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার স্বেচ্ছাসেবীদের আলাদা আলাদা গ্র“পে বিভক্ত করে মাঠের সংস্কার কাজে যোগ দিতে দেখা গেছে। গতানুগতিক ধারায় প্রতি বছর ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলেও এবারই নতুন আঙ্গিকে ইজতেমা ময়দানের সংস্কার কাজ চলছে। আগত মুসল্লিদের অবাধ চলাচলের জন্য শাখা রাস্তাগুলো সলিং করা থাকলেও এবারই ময়দানের ভিতরে প্রায় শাখা-প্রশাখা রাস্তাগুলো ঢালাই দিয়ে পাকা করা হচ্ছে।
এদিকে ইজতেমা ময়দানে স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ময়দানে অবিরাম কাজ করে চলেছে। আল্লাহ ও রাসূল (সা.) এর সান্নিধ্যের আশায় তারা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল সোমবার ইজতেমা ময়দান সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ময়দানের সার্বিক প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছেন মুসল্লিরা।
ঢাকার ঠাটারী বাজার থেকে ৭০জনের একদল মুসল্লী ময়দানে কাজ করতে দেখা গেছে। ময়দানে কাজ করতে আসা মুসল্লী জামাল উদ্দিন (৪৩) জানান, ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের খেদমতের উদ্দেশ্যেই মাঠে আসা হয়েছে এবং মাঠের প্রস্তুতি কাজ করছি। আরেক মুসল্লী বেলায়েত হোসেন (৫২) জানান, আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য ৮২ সাল থেকে ইজতেমা মাঠে কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, আমরা সবসময় দুনিয়াবী কাজে মগ্ন থাকি। আখিরাতের নেকী হাসিলের উদ্দেশ্যে ইজতেমা ময়দানে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করতে এসেছি। গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকার গ্রাউন ফ্যাশনের ৪১ জনের একটি শ্রমিকদল গতকাল ইজতেমা ময়দানের প্রস্তুতিকাজে অংশ নিতে দেখা গেছে। ঢাকার কাপ্তান বাজার থেকে মাদ্রাসার ছাত্ররাও স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছে।
মঞ্চ তৈরি ঃ ইজতেমা উপলক্ষে ময়দানের পশ্চিম পাশে বিদেশী মেহমানদের জন্য তৈরি টিনসেট সংলগ্ন পঁশ্চিম কোনে লোহার পাইপ দিয়ে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে দ্রুত গতিতে।
বিদেশী মেহমানদের তাঁবু তৈরি ঃ বিদেশী মেহমানদের জন্য টিন দিয়ে তৈরি তাঁবুতে বিগত বছরে কোন পাকা টয়লেট না থাকলেও এবার তাদের সুবিধার্থে প্রায় দুই শত পাকা টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছে। এবং তাবুঁগুলো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও আরামপদ করে তোলা হবে বলে ইজতেমা প্রস্তুতি কাজে নিয়োজিত মুরুব্বীরা জানান।
কাঁচা পাকা টয়লেট ঃ ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে ময়দানের চারপাশে কাঁচা পাকা টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছে। মুসল্লিদের জন্যা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পূর্বে দু’তলা পাকা টয়লেটগুলো তিনতলা করা হচ্ছে এবং নতুন করে আরও তিনটি তিনতলা টয়লেট তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে।
পন্টুন ঃ ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের অবাধ চলাচলের জন্য তুরাগ নদীতে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা পন্টুন সেতু তৈরির কাজ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়টি পল্টুন ব্রীজ তৈরি কাজ প্রায় শেষের দিকে।
ডাস্টবিন ঃ ইজতেমা চলাকালে ময়দানে আগত মুসল্লিদের ফেলানো উচ্ছিষ্ট অনায়াসে ফেলার জন্য ময়দানের চারপাশে রিংয়ের তৈরি পোর্টএ্যাবল ডাস্টবিন স্থাপন করা হচ্ছে। যাতে ময়লা আর্বজনা যেখানে সেখানে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে পারে।
বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরুব্বি প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, আল্লাহর মেহেরবানীতে ইজতেমা ময়দানের প্রস্তুতিকাজ এগিয়ে চলছে। আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে ময়দানের সকল কাজ শেষ হবে ইনশাল্লাহ। আগামী ২৪ জানুয়ারি থেকে নির্ধারিত জেলার মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে তারা যেন নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিতে পারেন সে ব্যবস্থাও দ্রুত গতিতে চলছে।
এবার সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। এব্যাপারে ঢাকা জেলা ও গাজীপুর জেলা প্রশাসন বেশ কয়েকবার বৈঠকে বসে ময়দানের নিরাপত্তাসহ সার্বিক প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত নেন। মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য থাকবে বিশেষ ট্রেন ও বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিস। এব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের মুসল্ল¬ীদের সার্বিক সুযোগ সুবিধাসহ আনুষাঙ্গিক কাজ সুনিশ্চিত করতে সরকারী পর্যায় থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল বাতেন বলেন, অন্যান্য বারের মতো এবারও সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও সাদা পোশাকে কয়েক হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগত মুসল্লীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকবে শর্টসার্কিট ক্যামেরা। থাকবে উচ্চ টাওয়ার থেকে র‌্যাবের পর্যবেক্ষণ দল। ইজতেমা চলাকালীন সময়ে র‌্যাবের নিরাপত্তা হেলিকপটার আকাশ পথে টহলে থাকবে।
টঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইসমাইল হোসেন জানান, এবারের বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের সার্বিক নিরাপত্তার দিকটি নতুন কৌশল ও নতুন আঙ্গীকে সুনিশ্চিত করা হবে। তিনি আরো জানান, মুসল¬ীদের নির্বিঘেœ মাঠে প্রবেশের জন্য ইতিমধ্যে রাস্তার ধারে ফুটপাতের অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মশক নিধনসহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ তদারকি করা হবে বলে জানা গেছে।
ইজতেমা ময়দানের আশেপাশে অন্যান্যবারের মতো এবারও অস্থায়ী দোকানপাট ও মার্কেট বসানো হচ্ছে। বিভিন্ন হাসপাতাল, সাহায্য সংস্থা, এনজিও এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বিনামূল্যে মুসল্ল¬ীদের চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ করবে বলে জানা গেছে।