তুরস্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সৌদি জোট

প্রকাশ:| রবিবার, ২৫ জুন , ২০১৭ সময় ০১:২০ অপরাহ্ণ

কাতারকে খাদ্য ও সামরিক সহায়তা দেয়ায় তুরস্কের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা করছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। কাতার সংকটে দেশটির পাশে দাঁড়ানোর কারণে তুরস্কের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে ব্রিটেনভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম দ্য নিউ আরব জানিয়েছে।

এদিকে মিসরের এক কূটনীতিক জানান, ‘শীঘ্রই দেখতে পাব সৌদির নেতৃত্বে তুরস্কের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো।’ সূত্রটি আরও জানায়, ‘সৌদি কর্তৃপক্ষ কাতার সংকটে আঙ্কারার ভূমিকাকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মানতে চাইলেও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার প্রতি জোর দিয়েছেন। চলতি সপ্তাহে কায়রো সফরকালে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।’

তুরস্ককে পাশে পেয়ে কাতার সংকট মোকাবিলায় সচেষ্ট হয়েছে বলেও সূত্রটি মনে করে। গত ৫ জুন সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান কয়েকটি আরব রাষ্ট্র কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সহযোগিতার অভিযোগ এনে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে। যদিও শুরু থেকেই কাতার তাদের এ অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। কিন্তু তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান কাতারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন। যার ফলে দোহাতে সামরিক ও খাদ্য সহায়তা পাঠায় দেশটি।

ইতিমধ্যে দুই ডজন তুর্কি সেনার দল কাতারে পৌঁছেছে। খাদ্য ও অন্য সব সহায়তা বোঝাই ১০০টি বিমান পাঠিয়েছে তুরস্ক। আগামী বৃহস্পতিবারেই বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে একটি জাহাজ ভিড়বে দোহার বন্দরে। এদিকে গত শুক্রবারে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সংকট নিরসনে দাবির একটি তালিকা কাতারকে দিয়েছে, যেখানে দেশটি থেকে তুর্কি সামরিক ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করে দেয়ার শর্তও দেয়া হয়েছে।

এদিকে সৌদি জোটের কাতারবিরোধী অবরোধের পর দোহায় তুরস্কের রফতানি বেড়েছে তিনগুণ। সম্প্রতি সৌদির নেতৃত্বে ছয় আরব দেশ কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর থেকেই তুরস্কমুখী হন কাতারের ব্যবসায়ীরা। এতে তুরস্ক থেকে বেশি পণ্য আমদানি করছে কাতার।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তুর্কি বাণিজ্যমন্ত্রী বুলেন্ট তুফেঙ্কচি জানান, চলতি জুন মাসেই কাতারে তুরস্কের রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। তার মধ্যে খাদ্যসামগ্রী আছে প্রায় ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের মতো। অবরোধের পর প্রায় ১০০টিরও বেশি কার্গো বিমানে করে কাতারে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করেছে তুরস্ক।

অপরদিকে কাতারে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি বন্ধে সৌদি জোটের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে আঙ্কারা। গত শুক্রবার তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফিকির ইসিক দেশটির একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ ইস্যুতে নিজ দেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তুর্কি এনটিভিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফিকির ইসিক বলেন, ‘সৌদি জোটের ঘাঁটি বন্ধের আহ্বান এখনও আমি দেখিনি। তবে ২০১৪ সালে কাতারের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিলের বিষয়টি বিবেচনায় আনার কোনও পরিকল্পনা তুরস্কের নেই। এ চুক্তির আওতায় কাতারে ঘাঁটি তৈরি করেছে তুরস্ক।’

ফিকির ইসিক আরও বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। এ ঘাঁটি ব্যবহারের জন্য কারও মনঃক্ষুণ্ন হওয়া উচিত নয়।’ তুরস্কের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ‘কাতারে তুর্কি সামরিক ঘাঁটি পারস্য উপসাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। এটি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে দোহার সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্কের বিষয়ে নাক গলানো হয়েছে।’ সূত্র:রয়টার্স।