তিস্তার চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর গুরুৎ আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ:| শনিবার, ২৩ আগস্ট , ২০১৪ সময় ১১:২৯ অপরাহ্ণ

কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীৎ ভি কে সিংয়েরপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিগগিরই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর গুরুৎ আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশের আরও পানির প্রয়োজন হওয়ায় তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর খুব শিগগির হওয়া উচিত।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীৎর সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ সফররত ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীৎ ভি কে সিংয়ের নেতৃৎধীন একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর ইউএনবি ও বাসস।

প্রধানমন্ত্রীৎর প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, বৈঠকে ভারতের উৎর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য এবং বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করে।

প্রধানমন্ত্রীৎ ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন এবং সীমানা চুক্তিসহ সব বিষয় খুব শিগগির সমাধানের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা ট্রানজিট সম্পর্কে ভারতের ওপর দিয়ে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশকে ট্রানজিট-সুবিধা দেওয়ার জন্য ভারত সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি ভারতের মন্ত্রীৎর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা আপনাদের কাছ থেকে ট্রানজিট চাই এবং এ জন্য আমরা ইতিমধ্যেই আপনাদের সুবিধা দিয়েছি।’

জবাবে ভারতের প্রতিমন্ত্রীৎ ভি কে সিং বলেন, ‘আমরা ভারতের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশকে ট্রানজিট দিতে সম্মত আছি। হ্যাঁ, আপনারা এই সুবিধা পাবেন।’ তিনি বলেন, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেলপথও নির্মাণ করতে হবে।

ভারতের মন্ত্রীৎ আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর দিয়ে তার দেশে চাল পরিবহনের অনুমতি দেয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত সরকার আখাউড়া থেকে আগরতলা পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করে দেবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতের উৎর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো এবং বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই।’ তিনি বলেন, সীমান্ত হাট দুদেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছে।

মোদি বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী
ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রীৎ নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর সম্পর্কে ভি কে সিং বলেন, তাঁর দেশের প্রধানমন্ত্রীৎ বাংলাদেশ সফরে আসতে আগ্রহী এবং যেকোনো সময়ে তিনি বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন। শেখ হাসিনা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ ভারতের প্রধানমন্ত্রীৎকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।’
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীৎ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের বিশেষ করে সেদেশের উৎর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।

ভারতের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মধ্যে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীৎ মুকুল সাগমা, ৎপুরার শিল্পমন্ত্রীৎ তপন চক্রবর্তী, মেঘালয়ের পার্লামেন্ট সেক্রেটারি কেনেডি খায়রিম, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ সরন এবং বাংলাদেশ-ভারত চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাতলুব আহমাদ উপস্থিত ছিলেন।