`তিন বছর পূর্বের চট্টগ্রাম আর আজকের চট্টগ্রাম এক নয়’

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ৮ আগস্ট , ২০১৮ সময় ০৭:৫২ অপরাহ্ণ

২০১৭-১৮ আর্থিক সনের সর্বোচ্চ করদাতাদের সম্মাননা প্রদান করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন আজ বুধবার দুপুরে নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে রাজস্ব বিভাগের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের কর্ম পরিকল্পনা উপস্থাপন ও পৌরকর সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সর্বোচ্চ করদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। সরকারি পর্যায়ে সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান ৩টি হলো চট্টগ্রাম বন্দর, উত্তর পতেঙ্গার জেনারেল ইলেকট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কো. লি. ও লালদীঘিস্থ চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তর। এ তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম করদাতা হিসেবে মনোনীত হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। তাদের হালনাগাদ পৌরকর পরিশোধের পরিমান ৩৫ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। বেসরকারী পর্যায়ে সর্বোচ্চ করদাতা ৩ প্রতিষ্ঠান হলো উত্তর পতেঙ্গাস্থ মেসার্স ওশান কন্টেইনার লি. বাটালীহিল আমবাগানস্থ একে খান গ্রুপ, আগ্রাবাদস্থ চিটাগং জুট ম্যানুফেকচারিং। এছাড়াও বেসরকারি পর্যায়ে ৮টি সার্কেলে যে সকল প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ করদাতা মনোনীত হয়েছে সেগুলো হলো বায়েজিদ বোস্তামী রোড নাসিরাবাদস্থ আফমি প্লাজা প্রপাটিজ লি., কালুরঘাট ভারি শিল্প এলাকার আজিম গ্রুপ, চাক্তাইয়ের মীর আহমদ সওদাগর, আলকরণ এলাকার মো. শফিউল্লাহ, ও আর নিজাম রোডের দি পেনিনসুলা চিটাগাং, সাগরিকা রোডের নুর জাহান গ্রুপ, আগ্রাবাদস্থ আন্তর্জাতিক ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও দক্ষিণ পতেঙ্গার সামিট এলাইন্স পোর্ট লি.। অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ ৩ কর কর্মকর্তা, ৩ উপ-কর কর্মকর্তা, ৩ উপ-করকর্মকর্তা(অনুমতি পত্র পরিদর্শক),৩ শ্রেষ্ঠ অনুমতিপত্র পরিদর্শক ও ৩ কর আদায়কারীকে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। এতে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান এর পক্ষ থেকে ৩ কর কর্মকর্তা,১২ উপ কর কর্মকর্তা,১ ক্রোকি কর্মকর্তা, ৮ অনুমতি পত্র পরিদর্শক ও ৯ জন কর আদায়কারীকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। রাজস্ব বিভাগের ২০১৮-১৯ সনের অর্থ বছরের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চসিকের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, জোবাইরা নার্গিস খান, নিছার উদ্দিন আহমেদ, শফিউল আলম, সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন যুগ্ম জেলা জজ মিসেস জাহানারা ফেরদৌস ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মিসেস আফিয়া আখতার। অন্যদের মধ্যে কর কর্মকর্তা মো. শাহ আলম, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, একেএম সালাউদ্দিন ও জানে আলম বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নে নগরবাসী সবক্ষেত্রে সহযোগিতা করছেন। তাদের এ সহযোগিতার হাত বন্দর নগরী চট্টগ্রামকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ নগরে পরিণত করবে। তিনি বলেন বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্প উন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। নাগরিকদের সহযোগিতা ও কর প্রদানের কারণে আজকের এই উন্নতি। মেয়র চট্টগ্রাম নগরীকে সুন্দর করার সুযোগ আছে বলে উল্লেখ করে বলেন ৩ বছর পূর্বের চট্টগ্রামকে আজকের চট্টগ্রামের সাথে মেলালে চট্টগ্রামের উন্নতির এ চিত্র সাধারনের চোখে ধরা পড়বে। তিনি উন্নয়নের স্বার্থে নগরবাসী কর প্রদানে এগিয়ে এলে চট্টগ্রাম নগরী আরো এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদেরকে যথাযথ ভুমিকা রাখার আহবান জানান।
ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান ২০১৮-১৯ সনের কর্ম পরিকল্পনা উপস্থাপনকালে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সর্বোচ্চ করদাতাদের সম্মাননা প্রদানে ্একটি তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে। এ সম্মাননার কারণে নাগরিকরা আরো বেশি কর প্রদানে আগ্রহী হবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। তিনি বলেন চসিক এর গত অর্থ বছরে কর আদায় হয়েছিল ৩৮ শতাংশ। অথচ একই অর্থ বছরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে কর আদায় হয়েছে ৭০ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এ্যাস্টেট শাখা সহ রাজস্ব বিভাগে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ২ শত ৪৪ কোটি টাকা। আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় হয়েছে ২১৯ কোটি টাকা। অবশিষ্ঠ ২৫ কোটি টাকা দিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে কিভাবে এ চট্টগ্রাম নগরীর নাগরিক সেবা ও উন্নয়ণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব? তাই নাগরিক সেবার স্বার্থে নগরবাসী যদি তাদের বকেয়া কর সমূহ প্রদানে এগিয়ে আসেন তাহলে উন্নয়নের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম আরো এগিয়ে যাবে। আর যার সুফল নগরবাসীই ভোগ করবে। তিনি বলেন রাজস্ব আয় বাড়াতে বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নগরে সরকারি হোল্ডিং সংখ্যা ১ হাজার ৩৯৯টি, বন্দরে হোল্ডিং সংখা একটি, বেসরকারি হোল্ডিং সংখ্যা ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪৮টি সহ মোট হোল্ডিং সংখ্যা ১ লাখ ৮৫ হাজার ২৪৮টি। এসব হোল্ডিংয়ের প্রেক্ষিতে মোট দাবি ৩৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৮২ হাজার ০১ টাকা। মোট দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ন্যূনতম ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, কর্পোরেশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।