তিন দিবসে ৩০-৩৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ সময় ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

বসন্ত উৎসব, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এবং একুশে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে মহাব্যস্ত সময় পার করছেন ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালির চাষিরা। ফুলের ক্ষেত থেকে সময়মতো পর্যাপ্ত ফুল পেতে গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত তারা।

মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ তিন দিবসে ৩০-৩৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এ এলাকার ফুলচাষিরা দিনরাত ফুল ও ফুলগাছের পরিচর্যা করছেন।

আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে গদখালির চাষিরা বসন্তবরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ফুল বাজারে সরবরাহ করবে।

আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পয়লা বসন্ত, পরদিন ভালোবাসা দিবস। এ দুটি দিবসে প্রিয়জনের মন রাঙাতে মুখিয়ে আছেন দেশের তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সিরা। প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে ফুলই শ্রেষ্ঠ। মানুষের মনের খোরাক মেটাতে গদখালিতে চাষিরা এখন দিনরাত পরিশ্রম করছেন। ফুল দেরিতে ফোটাতে গোলাপের কুঁড়িতে পরিয়ে রাখছেন ‘ক্যাপ’। ফলে বসন্ত দিবস, ভালোবাসা দিবস আর ২১ ফেব্রুয়ারিতে ফুল বাজারে দেয়া নিশ্চিত হবে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, গ্ল্যাডিওলাসসহ নানা রঙের ফুল। চোখ ধাঁধানো এই সৌন্দর্য কেবল মানুষের হৃদয়ে অনাবিল প্রশান্তিই আনে না, ফুল চাষ সমৃদ্ধিও এনেছে অনেকের জীবনে। ফুলেল স্নিগ্ধতায় এখন ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের।


ফুলচাষি হাফিজা খাতুন হ্যাপি বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে যে ফুল বেচা-কেনা হয় তার অন্তত ৭০ শতাংশই যশোরে উৎপাদিত ফুল। তবে এবারের ভালোবাসা দিবসে ফুলের যেমন উৎপাদন বেশি। তেমনি চাহিদা অন্য যেকোনো বারের তুলনায় বেশি। তাই শহর-নগরের ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা ফুলের অর্ডার নিচ্ছি।

স্থানীয় ক্ষুদ্র পাইকারী ব্যবসায়ীরা জানান, সামনে ভ্যালেনটাইনস ডে-তে ফুল বিক্রি বেশি হবে। বাজারে জারবেরা, গোলাপ, রজনীগন্ধ ফুলের চাহিদা বেশি। কৃষকরাও দাম ভালো পাবে।

ফুলচাষি ও ব্যবসায়ী ইসমাঈল হোসেন বলেন, আমরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অর্ডার পাচ্ছি। তাদের চাহিদামতো ফুল সরবরাহ করার জন্য প্রস্তুত আছি। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপঙ্কর দাস জানান, বিদায়ী ২০১৭ সালে শুধু গদখালি থেকে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার ফুল বেচাকেনা হয়। এ বছর তা অতিক্রম করবে বলে আশা করছি। ফুল চাষকে লাভজনক করে তুলতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা সহায়তা দেয়া হচ্ছে।


আরোও সংবাদ