তিন দফা পতাকা বৈঠকের পরও বাংলাদেশিকে ছাড়েনি বিএসএফ

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৩ জুন , ২০১৪ সময় ০৮:৩৬ অপরাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বাংলাদেশি নাগরিক জনু মিয়াকে (৫০) গত বুধবার গভীর রাতে তাঁর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ও আজ শুক্রবার বিকেলে দুই দেশের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে তিন দফা পতাকা বৈঠকের পরও জনুকে ফেরত দেয়নি বিএসএফ।

জনু মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে।
বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জনু মিয়ার নিজস্ব কোনো বাড়ি নেই। তিনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুই হাজার ৫২ পিলার সংলগ্ন ফায়েজ মিয়ার বাড়িতে থাকেন। গত বুধবার রাতে তিনি বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফ ওই বাড়িতে হানা দিয়ে জনু মিয়াকে ১২ নম্বর গেট দিয়ে ভারতে ধরে নিয়ে যায়। এ নিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ লোকজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় আশাবাড়ি সীমান্তে দুদেশের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪০ মিনিট ধরে পতাকা বৈঠকে বিজিবি জনু মিয়াকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়েছে। আজ সকাল ১০টায় এবং বিকেল চারটায় দুদফা কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হলেও বাংলাদেশি ওই নাগরিককে ফেরত দেয়নি বিএসএফ।
তিন দফা পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংকুচাইল বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার এমদাদ এবং ভারতের পক্ষে আশাবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার বালা দিব সিং।
পতাকা বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে সন্দেহ করে ভারতীয় নাগরিক ভেবে তাঁকে আটক করেছে তারা।
জানতে চাইলে আজ বিকেলে কুমিল্লার বিজিবি ১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সহিদুর রহমান বলেন, ভারতীয় নাগরিক ধারণা করে বিএসএফ জনুকে ধরে নিয়ে গেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে জনু ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে আছেন।