তিন জনকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর , ২০১৭ সময় ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ইমাম হোসেন মজুমদার শিশিরকে (২৭) বুধবার দু্দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, “অমিত মুহুরী জবানবন্দিতে দাবি করেছে শিশির ছুরি চালিয়েছে। আবার শিশির তার জবানবন্দিতে অমিত মুহুরীই ছুরি চালিয়েছে বলে উল্লেখ বলেছে। এখন তাদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করলে সত্যটা জানা যাবে।”

শিশিরকে সাত দিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন করা হলেও চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মাসুদ পারভেজ শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে কাজী শাহাবুদ্দিন জানান।

এর আগে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার অমিতকে তিন দিন ও শফিকুর রহমান শফিকে একদিনের রিমান্ডে পেলেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি বলে নগর পুলিশের কোতোয়ালী অঞ্চলের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম জানান।

তিনি বলেন, “তাদের কাউকেই আমরা এখনো রিমান্ডে নিইনি। অমিত ও শিশিরকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারা একজন অন্যজনকে ব্লেইম করছে। দুজনই ছুরি চালিয়েছে এমন নয়, যে কোনো একজন এটা করেছে।”

খুনের কিছু আলামত এখনো মেলেনি জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খুনের ঘটনায় ব্যবহার করা ছুরিটি এখনো পাওয়া যায়নি। ইমনের ব্যবহৃত মোবাইলটির এখনো কোনো হদিস মেলেনি।

“অমিতের বাসায় একটা প্যান্ট পাওয়া গিয়েছিল। সেটা নিহত ইমনের কি না তা পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শনাক্ত করা হবে। আর কোনো পোশাক মেলেনি। যদি ওই ড্রামে মরদেহের সাথে পোশাক দেয়া হয়ে থাকে তাহলে সেগুলো হয়ত নষ্ট হয়ে গেছে।”

অমিত তার স্ত্রীকে উত্যক্ত করার কারণে ইমনকে খুন করেছে বলে যে দাবি করেছে সে বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর বলেন, “খুনের মোটিভ এখনো কনফার্ম না। সেটা নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। নেপথ্যে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে।”

এদিকে এই খুনের ঘটনায় আরও কমপক্ষে পাঁচ জন জড়িত, যারা লাশ পোড়াতে এসিড কেনা ও ড্রাম কেনাসহ হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করেছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর।

“ভবনের দারোয়ান, স্থানীয় দোকানিসহ তিনজন সাক্ষী হিসেবে ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা কিছু ক্লু দিয়েছেন, জড়িত চার-পাঁচজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তাদের পেলে সব তথ্য জানা যাবে।”

গত ১৩ অগাস্ট নগরীর কোতোয়ালী থানার এনায়েত বাজারের রানীর দিঘী থেকে সিমেন্ট ঢালাই করা একটি ড্রামের ভেতর ইমরানুল করিম ইমন নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়ারা জানায়, ইমন ছিলেন অমিতের বন্ধু। অমিতের বাসায় ইমনের নিয়মিত যাতায়াত ছিল।

গ্রেপ্তার শিশির পুলিশকে জানায়, ৮ অগাস্ট রাতে ইমন নন্দনকানন এলাকার হরিশ দত্ত লেইনের বেঙ্গল হোল্ডিংসের ষষ্ঠ তলায় অমিতের বাসায় এলে তাকে আটকে ফেলা হয়। ইমনকে আটকে রেখেই তাকেসহ আরও কয়েকজনকে ওই বাসায় ডেকে নেয় অমিত মুহুরী।

৯ অগাস্ট ভোরে ইমনকে ওই বাসায় মারধর ও কুপিয়ে হত্যা করে লাশ বাথরুমে রেখে এসিডে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তা না পেরে অমিত ও তার সহযোগীরা বাসায় ড্রাম, বালি ও সিমেন্ট নিয়ে আসে।

সেই ড্রামে এসিড ও চুন দিয়ে সিমেন্ট ঢালাই করে ১২ অগাস্ট রাতে রানীর দিঘীতে ফেলে দেয়া হয় ইমনের লাশ।

ঘটনার তদন্তে নেমে ৩১ অগাস্ট পুলিশ কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম থেকে শিশির ও শফিকে গ্রেপ্তারের কথা গণমাধ্যমকে জানায়।

তাদের গ্রেপ্তারের পর ঘটনায় অমিত মুহুরীর সম্পৃক্ততার কথা জানতে পারে পুলিশ। তারপর ২ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিজেকে যুবলীগ ‘নেতা’ পরিচয় দেয়া অমিত কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের অনুসারী। ২০১৪ সালে সিআরবিতে রেলের দরপত্র নিয়ে বিরোধের জেরে হওয়া জোড়া খুনের মামলার অন্যতম আসামি অমিত।

সিআরবি’র জোড়া খুন ও ইমন খুনসহ অমিতের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা আছে বলে জানায় পুলিশ।