তিন উপজেলায় পূন:নির্বাচনের দাবী উত্তরজেলা বিএনপি’র

প্রকাশ:| সোমবার, ২৪ মার্চ , ২০১৪ সময় ০৮:১০ অপরাহ্ণ

ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পূনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছে উত্তর জেলা বিএনপি।

বিকাল সাড়ে চারটায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী এ দাবি জানান।

গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘চতুর্থ দফা উপজেলা নির্বাচনে ভোট ডাকাতির যে দৃশ্য আমরা দেখেছি তা নজিরবিহীন। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপি’র উর্বর ক্ষেত্র। কিন্তু এসব উপজেলায় দিন-দুপুরে সরকার দলীয় লোকজন কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রশাসনের চোখের সামনে ভোট ডাকাতি করেছে।’

তিনি বলেন,‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিরোধের বদলে নিজেরাই ভোট ডাকাতিতে সহযোগিতা করেছেন। অনেক ভোটারকে বিনা কারণে আটক করে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে চালান দিয়েছেন। পুলিশের যদি এ আচরণ হয় সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?’

বিএনপি’র এই নেতা বলেন,‘অনেকে বলে বিএনপি গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না গিয়ে ভুল করেছে। গেলে কী হত তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ উপজেলা নির্বাচন।’

গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন,‘নির্বাচনে সহিংসতা রোধে সামরিক বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেয়া হলেও এ ক্ষমতার কোন ব্যবহার জনগণ দেখেনি, যা খুবই রহস্যজনক।’

সংবাদ সম্মেলনে উত্তর জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আসলাম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর, রাউজান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন, উত্তর জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মির্জা মো. আকবরসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ফটিকছড়ির ৫১টি কেন্দ্রে ভোট ডাকাতির অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সরোয়ার আলমগীর অভিযোগ করেন, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাচনে ১৩৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫১টি কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এসব ভোটকেন্দ্রে সকাল এগারোটার আগেই ভোটগ্রহণ শেষ হয়ে গেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীসহ সরকার দলীয় বিভিন্ন নেতাদের নেতৃত্বে এ ভোট ডাকাতি হয়েছে। ৫১টি কেন্দ্রে আমার এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। অনেকগুলো কেন্দ্রে এজেন্টদের মারধর করা হয়েছে।’

সরোয়ার আলমগীর বলেন,‘এলোপাতাড়ি সীল মারতে গিয়ে এমন অবস্থা হয়েছে যে, অনেকেই ব্যালটে নির্বাচন কমিশনের সীল মেরে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বেলা সাড়ে বারোটা দিকে আমি ২১টি ভোট কেন্দ্রে ভোট ডাকাতির লিখিত অভিযোগ রিটার্নিং অফিসারকে দিয়েছি। পরে আরো ৩০ কেন্দ্রের লিখিত অভিযোগ করতে গেলে রিটার্নিং অফিসার তা গ্রহণ করেননি।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনের আগের দিন রাতে দক্ষিণ ফটিকছড়িতে পুলিশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীদের ঘরে ঘরে অভিযান চালিয়েছে। অনেককে ধরে নিয়ে গিয়ে ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটকে রেখেছে। ফটিকছড়ি থানার ওসি আমরা নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়কারীকে বলেছেন আনারস মার্কায় ৮০ হাজার ভোট নেওয়ার জন্য নির্দেশ আছে।’

রাউজানের ৬৫টি কেন্দ্রের ফলাফল বাতিলের দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাউজান উপজেলা নির্বাচনে ৬৫টি কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানান বিএনপি সমর্থিত পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন।

তিনি অভিযোগ করেন,‘সকাল দশটার মধ্যেই সরকার দলীয় ক্যাডাররা উপজেলার ৬৫টি ভোটকেন্দ্র দখল করে নেয়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এ ব্যাপারে অবহিত করা হলেও কোন সুরাহা হয়নি।’

গিয়াস কাদের ও আসলাম চৌধুরীর দ্বিমুখী অবস্থান

সংবাদ সম্মেলনে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির পাশাপাশি তৃতীয় দফায় অনুষ্ঠিত সীতাকুণ্ড উপজেলারও পুনঃনির্বাচন দাবি করেন উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। কিন্তু পরে, সাংবাদিকরা তার কাছে কেন পুনঃনির্বাচন চান জানতে চাইলে তিনি আসলাম চৌধুরীকে বিস্তারিত বলার অনুরোধ করেন।

এসময়, আসলাম চৌধুরী সীতাকুণ্ড উপজেলার ফলাফল বাতিলের প্রসঙ্গটি এড়িয়ে কেবল পাঁচটি কেন্দ্রে পূণরায় নির্বাচনের দাবি জানান।

তিনি বলেন,‘সীতাকুণ্ডে অনেকগুলো কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি হয়েছে। তারপরও আমরা সুনির্দিষ্ট পাঁচটি কেন্দ্রকে চিহ্নিত করেছি। এসব কেন্দ্রে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।’


আরোও সংবাদ