তিন ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গম দূর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশ:| রবিবার, ৬ আগস্ট , ২০১৭ সময় ১১:০১ অপরাহ্ণ

লিটন কুতুবী, কুতুবদিয়া।

কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং,দক্ষিণ ধুরুং ও কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যানদের বিরুদ্ধে ঈদুল ফিতর/১৭ উপলক্ষ্যে সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চালের পরিবর্তে “গম” বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গত ৬ আগস্ট (রবিবার) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে তিন ইউনিয়নের স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।

অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, কৈয়ারবিল ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মনজুর আলম বাদী হয়ে গম আত্মসাতের অভিযোগ এনে ওই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি,সাংগঠনিক সম্পাদক যথাক্রমে মোতাহের হোসেন, মোঃ ইয়াছিনসহ স্থানীয় জাফর আলম বাদী হয়ে গম আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ আহমদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে একই অভিযোগ এনে উত্তর ধুরুং ইউপির চেয়ারম্যান জামাত নেতা আ.স.ম শাহরিয়ার চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড মৃত মোজাফ্ফর আহমদের পুত্র উপজেলা আওয়ামীলীগের সক্রিয় কর্মী দলিলুর রহমান। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে একজন করে রিলিফ বিতরণে টেক অফিসার নিয়োগ আছে। তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রত্যেক অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জনা যায়, গেল ঈদুল ফিতর/১৭ উপলক্ষে হত-দরিদ্র ও অসহায় পরিবারকে সরকারী ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সহায়তা প্রদানের জন্য উত্তর ধুরুং ইউনিয়নে ২,৯৪০টি, দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নে ১,৭৫০টি এবং কৈয়ারবিল ইউনিয়নে ১,৭০০টি পরিবারকে কার্ড বিতরণ করা হয়। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি করে চাল বিতরনের কথা রয়েছে। কিন্তু কুতুবদিয়া খাদ্য গুদামে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল না থাকায় তার বিপরীতে আনুপাতিক হারে গম বরাদ্ধ দেয়া হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের গত ১৫ এপ্রিল তারিখের ৫১.০১.২২৪৫.০০০.৪১.০০১.১৫.৬৭ স্মারকে কৈয়ারবিল ইউনিয়নে ১৭ টন, দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নে ১৭.৫০ টন ও উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের জন্য ২৯ টন চারশত কেজি চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়। যা চালের বিপরীতে গমের অনুপাতে প্রতি কার্ডে ১৩.২৭৫ কেজি গম দেয়ার কথা থাকলেও প্রত্যেক কার্ডধারীকে ৩ থেকে ৪ কেজি কম দিয়ে ৯-১০ কেজিতে সীমাবদ্ধ দিয়ে বাকী গম আত্মসাৎ করেছে ইউপি চেয়ারম্যানগণ। তারমধ্যে উত্তর ধুরুং ইউপি চেয়ারম্যান ১১ টন, দক্ষিণ ধুরুং ৭ টন ও কেয়ারবিল ইউপির চেয়ারম্যান সাড়ে ৬ টন গম আত্মসাৎ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। অনিয়মের ব্যাপারে উত্তর ধুরুং ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি অধ্যাপক শফিউল র্মোশেদ চৌধূরী, কৈয়ারবিল ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আজমগীর মাতবর সত্যতা প্রকাশ করেন।

অভিযোগের ব্যপারে কৈয়ারবিল ইউপির চেয়ারম্যান জালাল আহমদ বলেন, আমার ইউনিয়নে বিজিএফ গম বিতরণে কোন ধরনের দূর্নীতি ও অনিয়ম হয়নি। এটি আমার জনসর্থন কমানোর জন্য একটি ষড়যন্ত্রের অপচেষ্টামাত্র।

একইভাবে অন্য দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদ্বয়ও তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ করে বলেন, ভিজিএফ চাল/গম বিতরণে কোন ধরনের দূর্নীতি করা হয়নি। প্রত্যেক কার্ডধারী ১৩ কেজি ওজনের বালতি ক্রয় করা সমানভাবে চাল/গম বিতরণ করা হয়েছে। এলাকায় জনপ্রিয়তা কমাতে একটি পক্ষ অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত টেক অফিসারের সামনে কার্ডধারীদের নিকট গম বিতরণ করা হয়েছে। এখানে অনিয়ম হওয়ার প্রশ্নই উঠেনা।
কুতুবদিয়া উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর জানান, ভিজিএফ বিতবণে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।