তিনি রবীন্দ্রনাথের পর সবচেয়ে বেশি প্রোজ্জল জ্যোতিষ

প্রকাশ:| সোমবার, ৯ অক্টোবর , ২০১৭ সময় ০৯:২০ অপরাহ্ণ

একুশে পদকপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান সমাজবিজ্ঞানী, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য, প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর বাংলা শিল্প-সাহিত্য-কাব্য নাটকে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকই সবচেয়ে বেশি প্রোজ্জল জ্যোতিষ। তাঁর সৃষ্টিগুলো রবীন্দ্রনাথের মতই বিশ্বসাহিত্যের অংশ হয়ে থাকবে। লেখালেখির মাধ্যমে তিনি মাটি-মানুষ-প্রকৃতির আপনজন হয়ে উঠেছিলেন। বাংলার আলো ও বাতাসে তাঁর সপ্রাণ অস্তিত্ব সদা বিরাজমান। আজ বিকেলে জেলা শিশু একাডেমী মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু সাংষ্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে প্রয়াত সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত স্মরণানুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বাংলা-বাঙালি-বাংলাদেশ-বঙ্গবন্ধু ছিলো সৈয়দ শামসুল হকের আরাধ্য বিষয়-আশয়। তাঁর আমৃত্যু আরাধনা ছিলো মানুষের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তুলে প্রিয় মাতৃভূমিকে পবিত্র রাখা। তাঁর ভেতরে আমরা সমগ্র মাতৃভূমিকেই দেখি। এই মাতৃভূমিতেই ছিলো তাঁর নানান স্বপ্নের চাষাবাদ এবং চাষাবাদের ফলনগুলো আমাদের মন প্রাণকে পুষ্টি জোগাবে। মুখ্য আলোচকের ভাষণে জেলা শিশু একাডেমী পরিচালক ও জেলা সংগঠক নার্গিস সুলতানা বলেন, সৈয়দ শামসুল হক বাঙালির পরমাত্মীয় হয়ে উঠেছিলেন এবং অনন্তকাল তা-ই থাকবেন। তাঁকে যতবারই পাঠ করি তিনি জীবন্ত হয়ে ওঠেন। তাঁর কল্পনার জগতটি রঙ-রস গন্ধে ভরা। তিনি বাস্তবতাকে ছুঁয়েছেন জীবন সত্যকে ধারণ করে। আমরা প্রতিদিনই এই সত্যগুলোর মুখোমুখি হই। তিনি আরো বলেন, তাঁর সৃষ্টি বীরগাঁথার মহানায়ক একজন নুরুল দীন ইতিহাসের বড় সত্যপাঠ। কজনই আমরা তা পাঠ করেছি। অনেকেই করিনি বলেই দুঃসময় গ্রাস করে। অন্ধকার প্রলম্বিত হয় এবং সত্য ও সুন্দর তিরোহিত হয়। সভাপতির ভাষণে সংগঠনের সহ সভাপতি সুমন দেবনাথ বলেন, একজন মানুষ মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকেন সৃজনকর্মের মধ্য দিয়ে। সৈয়দ হক এমন একজন লেখক যিনি জীবিত মানেই কিংবদন্তিতুল্য হয়ে উঠেছিলেন। বঙ্গবন্ধু সাংষ্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক সংস্কৃতিকর্মী খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণানুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিকর্মী কুমকুম বড়–য়া, মিলন কান্তি মজুমদার, মো: হেলাল উদ্দিন, মিঠুন চক্রবর্ত্তী, রাজীব মজুমদার, অনামিকা তালুকদার, সুতপা চৌধুরী, কাজী শহিদুল্লাহ কায়সার, রিটন কান্তি সেন, সুভ্রা সেন গুপ্তা, সোমা বোস, ফজল আমিন শাওন, তানভীরুল ইসলাম নাহিদ, শিল্পী বাবলু দাশ, রবি শংকর ধর, কৃষ্ণা দাশ, নাজমুল নাহার সেজুতি, সানু দাশ গুপ্ত, পলাশ কুমার দেব, ছোটন চক্রবর্ত্তী, রুপন দাশ প্রমুখ। স্মরণানুষ্ঠানের শুরুতেই সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের স্মরণে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পলন করা হয়।


আরোও সংবাদ