তালু ও চুলের যত্ন

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই , ২০১৫ সময় ০৮:৫০ অপরাহ্ণ

রোদ বৃষ্টির খেলায় ও ভ্যাপসা গরমে ত্বকের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চুল ও মাথার ত্বক। অল্পতেই ঘেমে যাওয়া, চুল ভেজালে সহজে না শুকানোর কারণে খুশকি আর মাথার চুলে গন্ধ হওয়া বেশ সাধারণ কিছু সমস্যা।
চুল ঠিক রাখতে জেনে নিন কিছু প্রয়োজনীয় টিপস জানিয়েছেন অ্যারোমা থেরাপিস্ট শিবানী দে।

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার ও সেহেরির খাবারের তালিকায় ভিটামিন এ, বি এবং ই পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে মাথার ত্বকের ও চুলের অনেক ক্ষতি হয়। শুরু হয় চুল পড়া, চুলের আগা ফাটা, চুল ভেঙে যাওয়াসহ নানান সমস্যা।

চুলের সমস্যা বেশ কয়েক রকম হতে পারে। যেমন চুল পরে যাওয়া, খুশকি হওয়া, চুলে গন্ধ হওয়া ইত্যাদি।

চুল পড়া এড়ানোর জন্য মাথার তালুতে মালিশ করা বেশ উপকারী। প্রতিদিন চিড়ুনি দিয়ে মাথা আঁচড়ানোর সময়ে হালাকাভাবে চেপে আঁচড়াতে হবে। তারপর সামনে থেকে পিছনে আঁচড়াতে হবে। আবার উল্টা করে আঁচড়াতে হবে। এতে মাথার তালুতে রক্তসংঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। ফলে চুলের গোড়াও শক্ত হয়।

চুলে খুশকি থাকলে তা দেখতে মোটেও ভালো লাগে না। জেনেটিক কারণে খুশকি সৃষ্টি হতে পারে। যাদের মাথায় খুশকি থাকে, তাদের উচিত প্রতিদিন ভালো করে চুল পরিষ্কার করা। তা না হলে মাথার তালুতে খুশকি বসে যেতে পারে। শুরুতে প্রতিদিন অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে।

শিবানী বলেন, “দুই টেবিল-চামচ মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে সকালে মিহি করে পেস্ট তৈরি করে নিন। চুলে এবং মাথার তালুতে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ভালোভাবে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। ভালো ফলাফলের জন্য অন্তত চার সপ্তাহ ব্যবহার করতে হবে। খুশকি কমে যাওয়ার পর পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে এক বা দুবার অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে।”

স্বাস্থোজ্জ্বল আর ঝলমলে চুলের জন্য প্রতিবার শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। চুলে কন্ডিশনার লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেনো মাথার ত্বকে কন্ডিশনার না লাগে।

অনেকে চুল বড় না হওয়ার সমস্যায় ভোগেন। যাদের চুল বড় হতে অনেক সময় নেয়, তাদের উচিত ভালোভাবে বিশ্রাম নেওয়া এবং রাত না জাগা। অনিয়ম আর এধরনের খারাপ অভ্যাসের কারণে চুল পড়ে যাওয়া এবং লম্বা না হওয়ার মতো সমস্যাগুলো দেখা দেয়।

শিবানী দে বলেন, “চুলের আগা ফেটে যাওয়া একটি বড় সমস্যা। চুল ধোয়া বা মোছার সময়ে উপর থেকে নিচে হালকাভাবে মোছা উচিত। তাছাড়া চুলে শ্যাম্পু করা এবং চুল মোছার সময় বেশি জোরে ঘষাঘষি করা ঠিক নয়। কারণ চুল বেশি টানাটানি করলে বা বেশি জোরে চুল ঘষলে চুল ঝরে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।”

চুলের আগা ফেটে গেলে, ক্ষতিগ্রস্ত চুলের আগা কেটে ফেলতে হবে। এটি হল আগা ফাটার সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে সহজ ও দ্রুত উপায়। যদি চুলের আগা ফাটার সমস্যা থাকে, তাহলে বেশি লম্বা না রাখার পরামর্শ দেন শিবানী দে।

রুক্ষ চুলে ময়েশ্চার ও প্রোটিন সমৃদ্ধ কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত। ভিটামিন ই এবং অ্যালোভেরা সমৃদ্ধ কন্ডিশনারও শুষ্ক চুলের জন্য উপকারী।

চুলের পরিচর্যার জন্য ঘরোয়া একটি প্যাক তৈরি করার উপায় জানান শিবানী দে।

টক দই, মেহেদি পাতা, মেথিগুঁড়া ও কাগজি লেবুর কয়েক ফোঁটা রস একসঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। পুরো মিশ্রণটি চুলে ৩০ মিনিটের জন্য লাগিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

“টক দই ময়েশ্চারাইজারের কাজ করবে। মেথিগুঁড়া খুশকি দূর করবে এবং চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াবে লেবুর রস। মাসে একদিন এই মিশ্রণ ব্যবহার করা যায়।” বলেন শিবানী দে।

ভিটামিন এ’র অভাবে চুল রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পরে। ভিটামিন এ-তে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা চুলের গোড়ায় আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং চুলের গোড়া শক্ত ও মজবুত করতে সাহায্য করে, এমনটা জানিয়েছেন শিবানী দে। তাই ভিটামিন এ’র চাহিদা মেটাতে প্রতিদিনের ইফতারের তালিকায় দুধ, গাজর, মূলা, সবুজ শাক-সবজি থাকলে ভিটামিন এ’র চাহিদা পূরণ হবে।

ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের মধ্যে বি৬, বি১২ এবং বায়োটিন চুলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চুল পড়া এবং অকালে চুল পেকে যাওয়া রোধ করে চুল ঘন কালো উজ্জ্বল এবং লম্বা করতে এই তিন ভিটামিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো পেতে হলে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় শস্যদানা, দুধ, ডিম, কলা, বাদাম, কলিজা এবং ডাল ইত্যাদি খাবার রাখতে হবে।

শিবানী বলেন, “চুল এবং ত্বকের যত্নে ভিটামিন ই’র বিকল্প নেই। এটা হল শক্তিশালী একধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা চুলের জন্য ক্ষতিকারক ফ্রি রেডিক্যালসের বিরুদ্ধে কাজ করে। এই ভিটামিন মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, ফলে চুল নরম হয় এবং চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ হয়।”

প্রতিদিন কাঠবাদাম (আমন্ড), টমেটো, পালংশাক, জলপাই এবং এর তেল, মরিচ ইত্যাদি খেলে ভিটামিন ই’র চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে জানান তিনি।