তারা স্বপ্নজয়ী, তারা জয়িতা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ২৭ জুন , ২০১৮ সময় ১১:২৫ অপরাহ্ণ

তারা সংগ্রামী, তারা অপ্রতিরোধ্য। তারা স্বপ্নজয়ী, তারা জয়িতা। শত বাঁধা ডিঙিয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল চট্টগ্রামের এমন ৫৫ নারী পেলেন বিশেষ সম্মাননা।

বুধবার (২৭ জুন) নগরের ষোলশহরের এলজিইডি ভবনের কনফারেন্স হলে এ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার অফিস।

‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় এতে ৫টি ক্যাটাগরিতে সেরা ৫ জয়িতাসহ চট্টগ্রামের ১১টি জেলার ৫৫ জয়িতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা বলেন, সৃষ্টিকর্তা আমাদের এমনভাবেই সৃষ্টি করেছেন এখানে নারী-পুরুষ একে অপরের সহযোগিতা ছাড়া এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যে নারী-পুরুষ সবাইকে এক সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধারা সংযোজন করেন। পিছিয়ে পড়া নারীদের আরও এগিয়ে নিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। জাতির পিতার এ স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করছেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নারীরা এখন আগের চেয়ে অনেক এগিয়েছে।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুরুল আলম নিজামীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার।

বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অঞ্জনা ভট্টাচার্য, সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ঝর্ণা খানম, সমাজকর্মী জেসমিন সুলতানা পারুল এবং মাহফুজুল হক।

দেশব্যাপী চলা ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচীর আওতায় অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী, শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী, সফল জননী, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু এবং সমাজ উন্নয়নে কাজ করা চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার ৫৫ জয়িতাকে ক্রেস্ট ও সনদসহ এ সম্মাননা দেওয়া হয়। বিভাগ সেরা ৫ জয়িতা পান আর্থিক সম্মাননাও।

সেরা জয়িতা সম্মাননা পেলেন যারা:

অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রামের খালেদা বেগম, ফেনীর মাহমুদা বেগম,

 লক্ষ্মীপুরের রীনা রানী সাহা, রাঙামাটির বিজয় চাকমা, কক্সবাজারের নাছরিন আক্তার, খাগড়াছড়ির বিউটি সূত্রধর, নোয়াখালীর লুবনা মরিয়ম, কুমিল্লার পারুল আক্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিউলী আক্তার, চাঁদপুরের নুরুন নাহার বেগম, বান্দরবানের উর্মী চৌধুরী।শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রামের রাজু বেগম, ফেনীর তাহমিনা খানম, লক্ষ্মীপুরের আইরিন সুলতানা, রাঙামাটির রোকেয়া আক্তার, কক্সবাজারের ডা. রোমেনা হোছাইন, খাগড়াছড়ির আঞ্জুমান আরা, নোয়াখালীর সালমা আক্তার, কুমিল্লার রাশিদা আক্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পিয়ারা বেগম, চাঁদপুরের মোরশেদা আক্তার, বান্দরবানের পুনম চৌধুরী।

সফল জননী ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রামের রাজিয়া মাসুদ, লক্ষ্মীপুরের সেলিনা আক্তার, ফেনীর নুরজাহান বেগম, রাঙামাটির পাপিয়া চাকমা, কক্সবাজারের আওয়ান, খাগড়াছড়ির তিতিরী বালা ত্রিপুরা, নোয়াখালীর আফছারুন আক্তার, কুমিল্লার হাছিনা আক্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মমতাজ বেগম, চাঁদপুরের ছিদ্দিকা বেগম, বান্দরবানের কল্পনা রানী দাশ।

নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা নারী ক্যটাগরিতে চট্টগ্রামের নিলু রাণী বড়ুয়া, ফেনীর কল্পনা রানী ভৌমিক, লক্ষ্মীপুরের মারজান, রাঙামাটির সুরাইয়া আক্তার, কক্সবাজারের আল মারজান, খাগড়াছড়ির জনি আক্তার, নোয়াখালীর নাছিমা আক্তার, কুমিল্লার লক্ষ্মী রাণী সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিরিনা বেগম, চাঁদপুরের সুরিয়া বেগম, বান্দরবানের তোয়ার নেম বম।

সামাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা নারী ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রামের মোমেনা আক্তার নয়ন, ফেনীর আনোয়ারা বেগম, লক্ষ্মীপুরের মাহেনারা পারভিন, রাঙামাটির কনিকা বড়ুয়া, কক্সবাজারের হামিদা তাহের, খাগড়াছড়ির সীমা দেওয়ান, নোয়াখালীর আয়েশা খাতুন, কমিল্লার মেহেরুন নেছা, চাঁদপুরের পারভীন শরীফ, বান্দরবানের উজলা তঞ্চঙ্গ্যা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌসুমী বারী।