তানিয়ার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন রাউজানে পুকুরের পানিতে ডুবে শেষ

প্রকাশ:| বুধবার, ২৮ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৯:৩৮ অপরাহ্ণ

পানিতে ডুবেরাউজান প্রতিনিধিঃ তখন সকাল ৭টা মা ও বাবার আদর ও স্নেহে অভিভুতে স্কুল ছাত্রী তানিয়া (১২) । সকাল ৯টা পর্যন্ত মেধাবি এই শির্ক্ষাথী পড়ার টেবিলে ছোট বোন তনিকে নিয়ে মনোযোগ সহকারে লেখাপড়ায় ব্যস্ত। কে যানে সকাল ৭টায় যে মেয়েটি সৌদি প্রবাসি পিতা নেজাম উদ্দিন ও মাতা কহিনুর আক্তারের আদরন্সেহের মমতা নিয়ে পড়ার টেবিল থেকে পুকুড়ে গোসল করতে গিয়ে যে মারা যাবে তা কি কেউ কল্পনা করতে পেরেছিল?। না ভাগ্যর নির্মম পরিহাস প্রতিদিন তানিয়া আক্তার সামনের নলকুপে গোসল করলেও গতকাল বুধবার সে গোসল করতে যায় তার চাচার পিছনের পুকুরে । গোসল করতে যাওয়ার পর ঘরে পিরে না আসায় পিতা মাতা চর্তুদিকে খোজাখোজির পর এক পর্যায়ে পিছনের পুকুরে দেখতে পায় মেয়ে পুকুরে ভেসে রয়েছে। দ্রুত সৌদি প্রবাসি বাড়িতে বেড়াতে আসা পিতা নেজাম উদ্দিন কাল বিলম্ভ না করে রাউজান গহিরা জে কে হসপিটালে নিয়ে যান। তথক্ষনে ডাক্তাররা তানিয়াকে মৃত ঘোষনা করলে কান্নার রোল পড়ে যায় মেডিকেলে। মেয়ের মৃত্যু প্রবাসি পিতা বিশ্বাস করতে না পাড়ায় পিতা আদরের কন্যাকে বুকে ধারন করে সি এনজি টেক্সি করে নিয়ে যায় হাটহাজারীর আধুনিক হাসপাতালে সেখানেও মৃত ঘোষনা করলে প্রবাসি নেজাম অজ্ঞান হয়ে যায়। হাটহাজারী থেকে দুপুর ১২ টায় মেধাবী ছাত্রী তানিয়ার লাশ যখন বাড়ীতে নিয়ে আসা হয় উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নে খোশাল তালুকদার বাড়ীতে তানিয়ার সহপাঠি ও এলকার শত শত মানুষের আহাজারিতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। তখন দেখা যায় তানিয়ার মা কহিনুর আক্তার আগে থেকে ঘরে অজ্ঞান হয়ে আছেন। বাড়ীতে গিয়ে জানা যায় প্রবাসি পিতাকে তার একমাত্র দুই কন্যার বড় কন্যা তানিয়া আক্তার (১২) বলেছিল বাবা আমি বেশি লেখাপড়া করব,আমাকে কম বয়সে বিবাহ দিতে পারবেনা। আমি বড় হলে ডাক্তার হব। এদিকে পুকুরে জ্বীনের আছর পেয়ে এই মেধাবী ছাত্রীটি মারা গেছে বলে জানান তাদের মসজিদের ইমাম মওলানা মুহাম্মদ আলী। অন্যদিকে তানিয়া ডাবুয়া পেট্রন কেজি স্কুলের খুব মেধাবী ছাত্রী ছিলেন বলে তাকে সবাই বেশি বেশি আদর করতেন বলে জানান পেট্রনের পরিচালক এস এম ইউছুফ উদ্দিন। তানিয়া ডাবুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেনীর ছাত্রী ছিলেন। গতকাল বুধবার বাদে আছর নামাজে জানাজা শেষে তানিয়াকে পরিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।