তাজমহলের গায়ে দেওয়া হবে কাদার প্রলেপ

প্রকাশ:| সোমবার, ৯ জুন , ২০১৪ সময় ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

তাজমহলদূষণের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে তাজমহলের জৌলুশ। গায়ে পড়ছে হলুদ দাগ। তা ফেরাতে তাজমহলের গায়ে দেওয়া হবে কাদার প্রলেপ। সাদা মার্বেল পাথরে ফুটবে হাসি, ফিরবে সেই পুরোনো ঝিলিক।

বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, ভারতে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ) কর্মকর্তা বি এম ভাটনাগর পিটিআইকে বলেন, শহরে দূষণ বেড়ে যাওয়ার কারণে সাদা মার্বেলগুলো হলুদ হয়ে যাচ্ছে এবং চাকচিক্য হারাচ্ছে।

আর্কিওলজিক্যাল সার্ভের রাসায়নিক বিভাগ কাদার প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জানিয়ে ভাটনাগর বলেন, দুই মিলিলিটার পুরু লেবু ও কাদার একধরনের মিশ্রণ তাজমহলের হলুদ হয়ে যাওয়া অংশে লাগিয়ে রাতভর শুকানো হবে।

তিনি বলেন, যখন এ প্রলেপ শুকিয়ে যাবে, তখন নরম ব্রাশ দিয়ে সেগুলো তুলে ফেলা হবে। এরপর পানি দিয়ে ময়লা ধুয়ে ফেলা হবে।

ভাটনাগর আরও বলেন, এর আগে তাজমহলে এরকম প্রলেপ দিতে ২৪ হাজার মার্কিন ডলার (১৮ লাখ ৬৩ হাজার ১২০) টাকা খরচ হয়েছে। ২৪ জনের একটি বিশেষজ্ঞ দল ছয় মাস ধরে এ কাজ করেছে, যাতে পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।

এর আগে ১৯৯৪, ২০০১ ও ২০০৮ সালে তাজমহলে তিনবার এরকম প্রলেপ দেওয়া হয়। সর্বশেষ প্রলেপ দেওয়া হয় ২০০৮ সালে। এই ঐতিহাসিক কীর্তির আশপাশে এত বেশি দূষণ বেড়ে গেছে যে আবার ছয় বছরের মধ্যে পরিষ্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

ভারতে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া সূত্রে জানা গেছে, ভারতের নারীরা ত্বক উজ্জ্বল করতে সনাতনী পদ্ধতিতে এ ধরনের কাদার প্রলেপ লাগাতেন। এর ওপর ভিত্তি করেই তাজমহল পরিষ্কার করার জন্য ওই রাসায়নিক প্রলেপ তৈরি করা হয়।

ভারতের উত্তর প্রদেশ আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে তাজমহল অবস্থিত। ১৬৫৩ সালে মোগল সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মরণে তাজমহল নির্মাণ করেন। চতুর্দশ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মমতাজ মারা যান।

প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজের স্মরণে নির্মিত ওই রাজকীয় সমাধি ভারতে মোগল ঐতিহ্যের নিদর্শন হয়ে রয়েছে। সমাধিসৌধের সাদা মার্বেল ও মিনারগুলো মূল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি। এর গায়ে যে ভাস্কর্য রয়েছে, সেটিকে ভারতের মোগল সংস্কৃতির অন্যতম নিদর্শন হিসেবে গণ্য করা হয়।

১৯৮৩ সালে তাজমহল ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত হয়। প্রতিবছর লাখো পর্যটক তাজমহল পরিদর্শনে যান। শিল্পনগর আগ্রায় দূষণের মাত্রা বেশি। তাজমহলের কাছেই রয়েছে একটি তেল পরিশোধনাগার। এ কারণেই তাজমহল জৌলুশ হারাচ্ছে।