তাঁরাই (আলীগ) রং ট্রেনে উঠেছিল, ভুল পথে গিয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে-খালেদা

প্রকাশ:| বুধবার, ৫ মার্চ , ২০১৪ সময় ১০:৩১ অপরাহ্ণ

৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন সঠিক দাবি করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমরা ট্রেন মিস করিনি, বরং তাঁরাই (আওয়ামী লীগ) রং ট্রেনে উঠেছিল। তারা ভুল পথে গিয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’

আজ বুধবার সাবেক কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিএনপিতে যোগদান উপলক্ষে দলের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খালেদা এ কথা বলেন।
জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক আমিনুল হকের নেতৃত্বে ১৩ জন খেলোয়াড় ও চারজন ক্রীড়া সংগঠক খালেদা জিয়ার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন।

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এমন অবস্থায় যাবেন না, যাতে ক্রেন দিয়ে আপনাদের তুলতে হয়।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত তিন মাসে শুধু বিএনপিরই ৩০৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ৫৬ জনকে গুম করা হয়েছে। তিনি এ হত্যা, গুম, খুন বন্ধ করার আহ্বান জানান।

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, বিচারব্যবস্থা, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসন, সবখানেই সরকার দলীয়করণ করে অযোগ্যদের উঁচু পদে বসিয়েছে। যোগ্যদের ওএসডি করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে জাতিকে বিভক্ত করছে। নানাভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বিডিআর বিদ্রোহ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকারের অধীনে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সুবিচার হবে না এবং ষড়যন্ত্র প্রকাশ হবে না। একদিন এসব প্রকাশ হবে। সারা দেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, অজ্ঞাতদের নামে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার-বাণিজ্য চলছে।

খালেদা জিয়া বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হয় না। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ছিল জাতীয় নির্বাচন। সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচন জনগণ বিএনপির ডাকে সাড়া দিয়েছে। আমরা সঠিক ছিলাম, তা প্রমাণ হয়েছে। প্রমাণ হয়েছে আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ভোটের অধিকার চেয়েছি। তাঁরা (আওয়ামী লীগ) যদি আসলেই ভালো কাজ করত, তাহলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে তাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করা উচিত ছিল।’

বর্তমান সরকারকে অবৈধ দাবি করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘সরকার এখন গায়ের জোরে যা করছে তা বৈধ নয়। একদিন এসবের হিসাব দিতে হবে।’

১৯-দলীয় জোটের নেত্রী বলেন, এই অবৈধ সরকারকে বিদায় নিতেই হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। যারা এলে দেশের কল্যাণ হবে, জনগণ তাদেরই নির্বাচিত করবে। তিনি বলেন, ‘বিএনপি ও নির্দলীয়রা উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় আওয়ামী লীগের গায়ে জ্বালা ধরেছে। উপজেলা নির্বাচনেও দখল চলছে। এত কিছুর পরও আমরা ভালো অবস্থানে আছি। এতে বোঝা যায়, জনগণ কোন দিকে। জনমত কোন দিকে। এর প্রতিফলন হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।