তরুণ প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষার ইতিহাস তুলে ধরতে হবে-মেয়র নাছির

emran amiy প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ সময় ১১:১৩ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিনিধি.

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন-ফেব্রুয়ারি মাস এলেই বাংলা ভাষার কথা সবার মনে পড়ে। প্রায় দিনই বইমেলাই যায়, অনেকের সঙ্গে কথা হয়, দেখা হয়-ভালোই লাগে। এখন তো আমরা স্বাধীন। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীনতা। অর্জিত জিনিস ভক্তি-শ্রদ্ধাভরে সহজভাবে পালন করব এটাই তো স্বাভাবিক। তবে আগে তা পালন করা ছিল খুব কঠিন। অতীতে কষ্টকর দিনগুলোর কথা আজও মনে পড়ে। প্রায় প্রতিদিনই ধরপাকড়, মারধর কতকিছু হতো, তবুও আমরা অনুষ্ঠান করতাম, অনেকটা জোর-জবরদস্তি করা হলেও করতে হতো, আমাদের গন্তব্যে যেতে হবে ভেবে। আমাদের সময় তৎকালীন ছাত্রনেতাদের অন্যতম কাজই ছিল আন্দোলনকে বেগবান করে তোলা। সে জন্যই ছাত্রনেতাদের ভূমিকা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। গতকাল ২০ ফেব্রুয়ারি নগরীর নজরুল স্কোয়ার ডিসি হিল প্রাঙ্গনে একুশ মেলা পরিষদ চট্টগ্রাম এর আয়োজনে ডিসি হিলে ৯দিনব্যাপী একুশ বইমেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বাংলা ভাষা এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষায় রূপ নিয়েছে। ইউনেস্কোর আমাদের এই মাতৃভাষাকে বিভিন্ন দেশে এখন বাংলা ভাষায় বক্তৃতা হয়। ফেব্রুয়ারির সময় প্রতিবছরই মেলা হয়। এখন বুকফেয়ারটা নানারকম সৌন্দর্যে বিকশিত হ”েছ, প্র”ছদ শিল্পসহ সবকিছুতেই এক সুন্দরের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলা ভাষা পেলাম ঠিকই কিš‘ একে রক্ষা করার জন্য এর ব্যবহার সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। অফিস-আদালত, ব্যবসায় শিক্ষায় সর্বত্র এর ব্যবহার করতে হবে। বর্তমান প্রজন্মের সামনে বাংলার ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। তাদেরকে ইতিহাস জানাতে হবে। কী করে এই আন্দোলন তৈরি হয়েছিল। কী করে আমাদের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হয়েছিল, কী করে স্বাধীনতা পেয়েছি। কী করে এত এত রক্ত ঢেলে দিতে হয়েছিল। সবকিছু নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে; এবং তরুণা ইতিহাস জানলেই এর মূল্যবোধ যথাযথভাবে ব্যবহার হবে। তাই সবাই বাংলা ভাষাকে যর্থাথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। আমি এটা বলছি না যে, অন্য ভাষা শিখতে হবে না, অন্য ভাষাও শিখতে হবে, তবে আমাদের যে ভাষা তার মর্যাদা সবসময় উপরে রাখতে হবে এবং ব্যবহারে বাংলাকে যথার্থভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। অবমূল্যায়ন ঠিক নয়। সভাপতির ভাষণে একুশে বইমেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, একুশে বইমেলার বাঙালি ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত। এই বইমেলা অনেক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এবার আয়োজিত হ”েছ। আমি একটি বইকে জীবন দর্শানের সম্পদ হিসেবে ধারণ করি। এই বার্তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। স্বাগত বক্তব্য একুশ মেলা পরিষদের মহাসচিব নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, নয়দিনব্যাপী একুশে বইমেলায় যারা আসবেন তারা যদি একই বই কিনেন প্রকাশকরা প্রণোদিত হবেন এবং তারা বইমেলাকে বাঁচিয়ে রাখবেন। তিনি বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশক সুশীল সমাজের প্রতি কৃতিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একুশ মেলা পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত একুশের বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন একুশ মেলা পরিষদের কো-চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম উদ্দিন চৌধুরী, এড. সুনীল কুমার সরকার, নোমান আল মাহমুদ, হাজী বেলাল আহমেদ, মো: ইছা, ডা: আহমেদ রবিন ইস্পাহানী, হাজী মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, চসিক কাউন্সিলর আবদুল কাদের, আবিদা আজাদ, মেলার প্রধান সমন্বয়কারী শওকত আলী সেলিম। এতে উপ¯ি’ত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য রায়হান ইউসুফ, আবদুল মান্নান ফেরদৌস, ফারুক আহমেদ, নগর যুবলীগ নেতা সুমন দেবনাথ, মোস্তাক আহমেদ টিপু, লিটন রায় চৌধুরী, সংস্কৃতিকর্মী মহিউদ্দিন মঈনুল আলম, নজরুল মোস্তাফিজ, মুসলিম আলী জনি, দিলীপ সেন গুপ্ত, কবি সজল দাশ, সিব্বির আহমেদ বাহাদুর, মুজিবুর রহমান প্রমুখ। জাতীয় সঙ্গীত, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ২৬ তম একুশে বইমেলার উদ্বোধন করা হয়। এবার একুশের বইমেলার প্রেরণাদায়ী পুরুষ, চট্টলবীর, সাবেক সিটি মেয়র, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক গণ পরিষদ ও সংসদ সদস্য ইছহাক মিয়া, ভাষা সৈনিক এড. এ কে এম এমদাদুল ইসলাম. গণ পরিষদ সদস্য ডা: এ. বি এম ফয়েজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মো: ইউসুফকে এই মহাপ্রাণ প্রণম্য ব্যক্তিদের স্মরণে ৯দিনব্যাপী একুশে বইমেলা উৎসর্গিত করা হয়। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে উদ্দীপনামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একুশ মেলার কার্যক্রম শুরু হবে। বিকেলে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন, বরণ্য বুদ্ধিজীবি, কবি অরুণ দাশগুপ্ত, রিহ্যাব চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি আবদুল কৈয়ুম চৌধুরী সহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।